Ram Mandir: 'স্বামী প্রসাদ মৌর্যের যদি সাহস...,' রাম মন্দির অনুদান বিতর্কে প্রাক্তন মন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ পুরোহিতের

Ram Mandir donation scam: রাম মন্দিরের অনুদানের টাকা নিয়ে কারচুপির ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক দোষীকে যে কোনওভাবেই রেয়াত করা হবে না এবং তারা প্রত্যেকেই গ্রেফতার হবে-এই আশ্বাস দিয়ে পুরো বিষয়টি নিয়ে রাজনীতি না করার জন্য সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন জানিয়েছেন হনুমান গড়ি মন্দিরের পুরোহিত মহন্ত রাজু দাস। 

Published on: Jun 27, 2026, 21:37:29 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Ram Mandir donation scam: অযোধ্যার রাম মন্দিরে ভক্তদের অনুদানের টাকা নিয়ে মারাত্মক কারচুপির অভিযোগে তোলপাড় গোটা দেশ। বৃহস্পতিবার এফআইআর দায়ের হওয়ার পর ২৪ ঘণ্টাও সময় নেয়নি উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। শুক্রবারই মূল অভিযুক্ত-সহ আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে খোদ শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাইয়ের ঘনিষ্ঠ আপ্তসহায়কও রয়েছেন। এই কোটি কোটি টাকার আর্থিক কেলেঙ্কারির নৈতিক দায় নিয়ে শুক্রবারই পদত্যাগ করেছেন ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই এবং ট্রাস্টের প্রবীণ সদস্য অনিল মিশ্র। এরমধ্যেই এই মামলায় বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা আপনা জনতা পার্টির প্রধান স্বামী প্রসাদ মৌর্যকে তীব্র নিশানা করলেন হনুমান গড়ি মন্দিরের পুরোহিত মহন্ত রাজু দাস। তিনি প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

রাম মন্দির অনুদান বিতর্কে প্রাক্তন মন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ পুরোহিতের (HT File)
রাম মন্দির অনুদান বিতর্কে প্রাক্তন মন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ পুরোহিতের (HT File)

স্বামী প্রসাদ মৌর্য কী বলেছিলেন?

একটি জনসভায় দেওয়া বক্তব্যে স্বামী প্রসাদ মৌর্য অভিযোগ করেন, অযোধ্যার রাম মন্দির নির্মাণ ও ব্যবস্থাপনার নামে 'কোটি কোটি টাকা' লুটপাট করা হয়েছে। মন্দিরের পবিত্রতা ও ঈশ্বরের অলৌকিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি উপস্থিত জনতার উদ্দেশে বলেন, 'সেখানে কোটি কোটি টাকা লুট করা হয়েছে। লুটেরারা স্বয়ং রামের মন্দির থেকেই টাকা চুরি করে নিয়ে গেল। কিন্তু ভগবান রাম যদি নিজের ঘরের সেই লুটেরাদেরই শাস্তি দিতে না পারেন, তবে তিনি আপনাদের মতো সাধারণ মানুষের কী ভালো করবেন?' স্বামী প্রসাদ মৌর্যের এই মন্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পরপরই বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

স্বামী প্রসাদ মৌর্যকে প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ হনুমান গড়ি মহন্তের

রাম মন্দিরের অনুদানের টাকা নিয়ে কারচুপির ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক দোষীকে যে কোনওভাবেই রেয়াত করা হবে না এবং তারা প্রত্যেকেই গ্রেফতার হবে-এই আশ্বাস দিয়ে পুরো বিষয়টি নিয়ে রাজনীতি না করার জন্য সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন জানিয়েছেন হনুমান গড়ি মন্দিরের পুরোহিত মহন্ত রাজু দাস। তিনি আরও বললেন, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ইতিমধ্যেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই আসল সত্য সামনে আসবে। সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে মহন্ত রাজু দাস বলেন, 'মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ বলেছিলেন যে আমাদের সকলের একটু ধৈর্য ধরা উচিত এবং খুব শীঘ্রই সবকিছু পরিষ্কার হয়ে যাবে... ইতিমধ্যেই আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং আমার বিশ্বাস, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য দোষীরাও কেউ পার পাবে না, সবাই গ্রেফতার হবে।'

ভগবান রাম ও রাম মন্দির নিয়ে করা আপত্তিকর মন্তব্যের জেরে স্বামী প্রসাদ মৌর্যকে তীব্র আক্রমণ করে রাজু দাস তাঁকে অন্যান্য ধর্ম সম্পর্কেও এই ধরণের মন্তব্য করার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, 'এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক যে রাম মন্দিরের নাম করে বারবার সনাতন ধর্ম এবং হিন্দুত্বকে নিশানা করা হচ্ছে... স্বামী প্রসাদ মৌর্যের যদি এতই সাহস (থাকে, তবে তিনি ইসলাম বা অন্য কোনও ধর্ম নিয়ে এই ধরণের মন্তব্য করে দেখান! তিনি কেবল সনাতন ধর্ম নিয়েই কথা বলেন কারণ আমরা হিন্দু এবং আমরা শান্ত থাকি, কোনও পাল্টা আঘাত করি না। ওঁর বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।'

উল্লেখ্য, এই বড়সড় বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল গত ৭ জুন, যখন সমাজবাদী পার্টির নেতা তেজ নারায়ণ ‘পবন’ পান্ডে অভিযোগ তোলেন যে মন্দিরের দানবাক্স ও অনুদান থেকে প্রায় ৫ কোটি থেকে ৭.৫ কোটি টাকা তছরুপ করা হয়েছে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে মন্দির ট্রাস্টের অনুরোধে গত ১৩ জুন উত্তরপ্রদেশ সরকার এই ঘটনার তদন্তে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা ‘সিট’ গঠন করে।