PM Narendra Modi: 'খোলামেলা আলোচনার ক্ষেত্রকে...,' ভারত কেন 'গণতন্ত্রের জননী' গুরুত্ব ব্যাখ্যা করলেন প্রধানমন্ত্রী
PM Narendra Modi: দেশের সমাজ ব্যবস্থা, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে ভারতের নির্ভরযোগ্যতার পক্ষে একাধিক তথ্য তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
PM Narendra Modi: ভারত হল ‘গণতন্ত্রের জননী।’ ব্লুমবার্গ নিউ ইকনমি ফোরামের মঞ্চে এমনই মন্তব্য করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মঙ্গলবার বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, সাপ্লাই চেইনের সঙ্কট ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার আবহেই ভারতের স্থিতিশীলতা ও বিশ্বস্ততার কথা তুলে ধরেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর মতে, বর্তমান অনিশ্চিত আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে ভারত নির্ভরযোগ্যতা এবং স্থিতিশীলতার প্রতীক। দেশের সংস্কার কর্মসূচি কোনও বাধ্যবাধকতা নয়, বরং তা ভারতের দৃঢ় বিশ্বাসের প্রতিফলন।

দেশের সমাজ ব্যবস্থা, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে ভারতের নির্ভরযোগ্যতার পক্ষে একাধিক তথ্য তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দেশে গণতান্ত্রিক বাকস্বাধীনতা এবং বিভিন্ন মতামত গ্রহণের পরিবেশ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান পেশ করেন। তিনি বলেন, ভারতে ১০০টিরও বেশি ভাষা, প্রায় ৮০ হাজার নথিভুক্ত সংবাদপত্র ও প্রকাশনা এবং এক হাজারের বেশি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল রয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়া ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে বিতর্কের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হিসেবে বর্ণনা করে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, 'বর্তমানে ভারতে ৫০ কোটিরও বেশি ইউটিউব ব্যবহারকারী এবং ৫০ কোটিরও বেশি ইনস্ট্রাগ্রাম ব্যবহারকারী রয়েছেন। এই ডিজিটাল ক্ষমতাই সাধারণ মানুষের মতামত প্রকাশ এবং খোলামেলা আলোচনার ক্ষেত্রকে বহুগুণ শক্তিশালী করেছে।'
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বক্তব্য, 'আমাদের উদ্দেশ্য কেবল নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা নয়, বরং সাধারণ মানুষকে ক্ষমতাবান করা।' প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহারের উপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জ্ঞান, সম্পদ এবং ক্ষমতা যাঁদের হাতে রয়েছে, তাঁরা কী ভাবে তা ব্যবহার করছেন, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ক্ষমতার প্রকৃত মূল্য নির্ভর করে তার উদ্দেশ্যের উপর। ভারতের হাজার হাজার বছরের ঐতিহ্য এই দর্শনই শিখিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। প্রশাসন এবং কর্মসংস্কৃতিতেও সেই ভাবনার প্রতিফলন রয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দাবি, ভারত অন্য দেশের অগ্রগতিতে সাহায্য করার নীতিতে বিশ্বাসী। প্রযুক্তি, জ্ঞান ও উদ্ভাবন ক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ উৎস। সেই ক্ষমতা মুষ্টিমেয় কয়েক জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে লক্ষ লক্ষ মানুষের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করতে কাজে লাগানো উচিত। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, 'আমরা কারও ক্ষতি করে এগোই না। বিশ্বের সঙ্গে এবং বিশ্বের জন্য এগোই।'
বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তার মধ্যেও ভারতের আর্থিক বৃদ্ধির হার এবং স্থিতিশীলতার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর দাবি, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন ত্রৈমাসিকে ভারতের বৃদ্ধির হার ছিল ৭.৮ শতাংশ। দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডার ৭০০ বিলিয়ন ডলারের গণ্ডি ছাড়িয়েছে বলেও জানান তিনি। একাধিক দেশের তুলনায় ভারতের ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা শক্তিশালী বলে দাবি প্রধানমন্ত্রীর। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অর্থ ভান্ডার (আইএমএফ) ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে ভারতের আর্থিক বৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়িয়ে ৭ শতাংশ করেছে। অভ্যন্তরীণ চাহিদার স্থিতিশীলতা এবং পরিষেবা ক্ষেত্রে শক্তিশালী কার্যকলাপের কারণে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা এবং তেলের চড়া দাম সত্ত্বেও ভারতের অর্থনীতি গতি ধরে রেখেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
E-Paper

