Priyanka Gandhi: 'আমরা সমর্থন করব...,' সংশোধনী বিল আটকে কেন্দ্রকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়লেন প্রিয়াঙ্কা

Priyanka Gandhi: শুক্রবার লোকসভায় ১৩১তম সাংবিধানিক সংশোধনী বিলটি পাশ হতে ব্যর্থ হয়েছে। বিলটির জন্য সরকারের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজন ছিল, কিন্তু তারা তা পায়নি।

Published on: Apr 18, 2026, 19:52:02 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Priyanka Gandhi: লোকসভায় পাশ হয়নি ১৩১ তম সংবিধান সংশোধনী বিল। যা নিয়ে জোর তরজা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। বিরোধীরা সরকারকে ১২ বছরের মধ্যে প্রথম আইনগত পরাজয়ের মুখোমুখি হতেও বাধ্য করেছে। কারণ, প্রস্তাবিত আইনটি সংসদে প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ব্যর্থ হল। ইতিমধ্যে বিরোধী দলগুলিকে ‘মহিলা বিরোধী’ তকমা দিয়েছে বিজেপি। পাল্টা সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়াচ্ছেন বিরোধীরা। এই আবহে মহিলা সংরক্ষণ সম্পর্কিত ২০২৩ সালের বিলটি ফিরিয়ে আনার দাবি জানালেন কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী।

কেন্দ্রকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়লেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী (Jitender Gupta)
কেন্দ্রকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়লেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী (Jitender Gupta)

শনিবার সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বলেন, 'তাঁদের (কেন্দ্রের) উচিত ২০২৩ সালে মহিলা সংরক্ষণ সংক্রান্ত যে বিলটি সর্বসম্মতিক্রমে পাশ হয়েছিল, সেটি সোমবার অবিলম্বে আনা। সোমবার সংসদ বসান, বিলটি আনুন এবং দেখা যাক কে মহিলা-বিরোধী। আমরা সবাই আপনাদের ভোট দেব এবং সমর্থন করব।' তিনি অভিযোগ করেছেন, বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ বিরোধী দলগুলোকে 'মহিলা-বিরোধী' আখ্যা দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুর ভোটারদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। এই দুই রাজ্যেই চলতি মাসের শেষের দিকে ভোট হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস বলেছে, ২০১১ সালের আদমশুমারির ভিত্তিতে করা সীমানা পুনর্নির্ধারণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত না থাকলে তারা লোকসভার বর্তমান আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে অন্তত ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি করার বিষয়টিকে সমর্থন করে।

শুক্রবার লোকসভায় ১৩১তম সাংবিধানিক সংশোধনী বিলটি পাশ হতে ব্যর্থ হয়েছে। বিলটির জন্য সরকারের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজন ছিল, কিন্তু তারা তা পায়নি। মোট ৫২৮ জন সদস্য ভোটাভুটিতে অংশ নেন। এদের মধ্যে ২৯৮ জন বিলটির পক্ষে এবং ২৩০ জন এর বিপক্ষে ভোট দেন। বিলটি পাসের জন্য ৩৫২ ভোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন ছিল, যা অর্জিত হয়নি। এই বিলটির লক্ষ্য ছিল ২০২৯ সাল থেকে বিধানসভার আসনে মহিলাদের জন্য সংরক্ষণ প্রদান করা। বিলটি পরাজিত হওয়ার পর, সরকার আরও দুটি বিল-সীমানা নির্ধারণ বিল ২০২৬ এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন (সংশোধন) বিল-নিয়ে আর অগ্রসর না হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রস্তাবটিতে লোকসভার আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ করার প্রস্তাব করা হয়েছিল। এই সম্প্রসারণটি ২০১১ সালের আদমশুমারির ভিত্তিতে করা সীমানা পুনর্নির্ধারণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিল।

কী বলছেন প্রিয়াঙ্কা-রাহুল গান্ধী?

শনিবার এআইসিসি সদর দফতরে এক সাংবাদিক সম্মেলনে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী সরকারকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, 'আপনারা যদি সত্যিই মহিলাদের জন্য কিছু করতে চান, তবে ২০২৩-এর পুরনো বিলটি ফিরিয়ে আনুন। বর্তমান আসন সংখ্যাতেই সংরক্ষণ কার্যকর করার প্রস্তাব দিন, আমরা আপনাদের পূর্ণ সমর্থন দেব। যদি এখন এটি কার্যকরের জন্য কয়েকটি ছোটখাটো সংশোধনী আনার প্রয়োজন হয়, তবে তা করুন। মহিলাদের অধিকার দিন, এখনই।' প্রিয়াঙ্কার এই মন্তব্যে স্পষ্ট যে, ডিলিমিটেশন ইস্যুতে বিরোধীরা একচুল জমিও ছাড়তে রাজি নয়। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে তিনি বলেন, ‘এটা ওদের (কেন্দ্রের) জন্য একটা কালো দিন, কারণ তারা প্রথমবারের মতো একটা ধাক্কা খেয়েছে-যেটা তাদের প্রাপ্য ছিল। আজকের দিনে মহিলাদের সমস্যা দ্রুত বাড়ছে, সংগ্রামও বাড়ছে। মহিলারা বোকা নন, তারা সবই বুঝতে পারেন। শুধুমাত্র পিআর আর মিডিয়ার প্রচারে আর কাজ হবে না।’

অন্যদিকে শনিবার পোনোরি, তামিলনাড়ুতে একটি নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী বলেন, 'গতকাল সংসদে তারা একটি নতুন বিল নিয়ে এসেছিল। তারা বলেছিল এটি একটি নারী বিল, কিন্তু সেটি তো ২০২৩ সালেই পাস হয়ে গেছে। ওই বিলের আড়ালে আসল উদ্দেশ্য ছিল সীমানা পুনর্নির্ধারণ। এর প্রধান লক্ষ্য ছিল ভারতের পার্লামেন্টে তামিলনাড়ুর প্রতিনিধিত্ব কমানো এবং দক্ষিণ ও ছোট রাজ্যগুলিকে দুর্বল করা। আমরা গতকাল সংসদে সেই বিলটি পরাজিত করেছি।' তাঁর বৃহত্তর রাজনৈতিক অবস্থানের রূপরেখা তুলে ধরে রাহুল গান্ধী আরও বলেন যে, ভারত হল 'রাজ্যগুলির একটি ইউনিয়ন', যেখানে প্রতিটি রাজ্যের সমান স্থান থাকা উচিত। তিনি যোগ করেন, 'প্রতিটি রাজ্যের ইউনিয়নের মধ্যে নিজস্ব কণ্ঠস্বর থাকা উচিত এবং তাদের ভাষা প্রকাশ ও ঐতিহ্য রক্ষা করার স্বাধীনতা থাকা উচিত।'