Chhattisgarh: এনডোস্কোপি ক্যামেরা দিয়ে সুচের ছিদ্রে প্রশ্নফাঁস! ছত্তিসগঢ়ে চাঞ্চল্যকর জালিয়াতিতে অধ্যাপকের কীর্তিফাঁস

Chhattisgarh agriculture exam leak: গত ২০ অগস্ট ইন্দিরা গান্ধী কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (আইজিকেভি) অধীনে থাকা ২৮টি কলেজে কীটতত্ত্বের স্নাতকস্তরের দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরীক্ষা শুরুর আগেই পরীক্ষার্থীদের মোবাইলে প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে পড়ায় হুলুস্থুল কাণ্ড বেধে যায়।

Published on: Aug 23, 2026, 14:52:13 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Chhattisgarh agriculture exam leak: প্রশ্নপত্র ফাঁস-কাণ্ডকে কেন্দ্র করে উত্তাল গোটা দেশ। তার মধ্যেই আধুনিক প্রযুক্তির অপব্যবহার করে কীভাবে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস করা যায়, তার এক অবিশ্বাস্য ও অভিনব ঘটনার পর্দাফাঁস করল পুলিশ (Chhattisgarh Question Paper Leak)। ছত্তীসগঢ়ের ইন্দিরা গান্ধী কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (আইজিকেভি) স্নাতকস্তরের কীটতত্ত্ব (এন্টোমোলজি) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় এক অধ্যাপক-সহ মোট ছ’জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অত্যন্ত সন্তর্পণে মুখবন্ধ খামে সুচ দিয়ে ছিদ্র করে তার ভেতর দিয়ে পাতলা এনডোস্কোপি ক্যামেরা ঢুকিয়ে এই জালিয়াতি করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা।

ছত্তীসগঢ়ে চাঞ্চল্যকর জালিয়াতিতে অধ্যাপকের কীর্তিফাঁস (সৌজন্যে টুইটার)
ছত্তীসগঢ়ে চাঞ্চল্যকর জালিয়াতিতে অধ্যাপকের কীর্তিফাঁস (সৌজন্যে টুইটার)

গত ২০ অগস্ট ইন্দিরা গান্ধী কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (আইজিকেভি) অধীনে থাকা ২৮টি কলেজে কীটতত্ত্বের স্নাতকস্তরের দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরীক্ষা শুরুর আগেই পরীক্ষার্থীদের মোবাইলে প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে পড়ায় হুলুস্থুল কাণ্ড বেধে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা বাতিল করে দেয়। কী ভাবে প্রশ্নপত্র ফাঁস হল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এরপরই শুরু হয় পুলিশের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত। তার পরেই ওই অধ্যাপক-সহ ৬ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। কিন্তু কী ভাবে গোপনে প্রশ্নপত্রের ছবি তুললেন ওই অধ্যাপক?

তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, গত ১৭ অগস্ট, অর্থাৎ পরীক্ষার ঠিক তিন দিন আগে রায়পুরের জোরায় কৃষি কলেজে উত্তরপত্র জমা দিতে গিয়েছিলেন অভিযুক্ত অধ্যাপক যোগেশ সোনকেসারিয়া। সেখানে তিনি দ্বিতীয় বর্ষের প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করেন। শুধু কীটতত্ত্ব নয়, অন্য বিষয়েরও প্রশ্নপত্র ছিল তাঁর কাছে। কলেজে বাকি সব বিষয়ের প্রশ্নপত্র জমা দিলেও, কীটতত্ত্বের খামটি তিনি সযত্নে নিজের বাড়ি নিয়ে চলে যান। মুখবন্ধ খাম না খুলেই কীভাবে প্রশ্নপত্র বাইরে আনা যায়, সেই ফন্দি আঁটতে শুরু করেন ওই অধ্যাপক। তদন্তকারীদের দাবি, বাড়ি ফেরার পথে তিনি একটি এনডোস্কোপি করার পাতলা ক্যামেরা কেনেন। এরপর বাড়িতে ফিরে খামের গায়ে সুচ দিয়ে অত্যন্ত সূক্ষ্ম একটি ছিদ্র করেন। সেই ছিদ্রের মাধ্যমেই ক্যামেরার লেন্স খামের ভেতরে প্রবেশ করান। ক্যামেরার পর্দায় ভেসে ওঠা প্রশ্নপত্রের ছবিগুলি ক্যামেরাবন্দি করে তা পরীক্ষার আগের দিন, অর্থাৎ ১৯ অগস্ট, তিন জন পড়ুয়ার কাছে ১১ হাজার টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দেন। পরবর্তী সময়ে সেই ছবি হাতবদল হয়ে আরও বহু পড়ুয়ার কাছে পৌঁছে যায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা সেলের দায়িত্বে থাকা বিজ্ঞানী তথা অধ্যাপক এনআর রাঙ্গারে ২০ অগস্ট সকালে প্রথম প্রশ্নফাঁসের বিষয়ে ইমেলের মাধ্যমে অভিযোগ জানান। তিনি জানান, পরীক্ষা দিন অর্থাৎ, ২০ অগস্ট সকাল ৮টা ৪১ মিনিটে একটি কলেজে প্রশ্নফাঁস হওয়ার বিষয়টি সম্পর্কিত একটি ইমেল আসে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য কর্তাদের কাছেও একই বার্তা পাঠানো হয়। আর সেই অভিযোগ পাওয়ার মাত্র ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে সাইবার সেলের সহায়তায় অভিযুক্তদের নাগাল পায় পুলিশ। ডিসিপি (সাইবার এবং অপরাধ) স্মৃতিক রাজনালা জানিয়েছেন, পুলিশের সাইবার টিম ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র, স্ক্রিনশট, সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, মেসেজ খতিয়ে দেখতে শুরু করে। রায়পুর, কবিরধাম, বিলাসপুর-সহ বিভিন্ন জায়গায় তদন্তে আলাদা আলাদা পুলিশের দল পাঠানো হয়। প্রতিটি দলে ১০০ জনের বেশি পুলিশকর্মী ছিলেন। কোথা থেকে এই প্রশ্নপত্র ছড়াল, তা খুঁজতে গিয়ে দুর্গের এক কলেজছাত্র অনুজ মিঞ্জলকে আটক করে জেরা করার পরই মূল চক্রের সন্ধান মেলে। এরপর একে একে অধ্যাপক যোগেশ সোনকেসারিয়া এবং অন্য পাঁচ পড়ুয়া-অজয় নায়েক, ত্রিদেব পটেল, মিতিন পাণ্ডে ও আদিত্য সাহুকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পাশাপাশি, এই চক্রের সঙ্গে জড়িত আরও দুই সন্দেহভাজনের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।