Pune Fort Murder: কেতন খুনের আগে একাধিক দুর্গে রেকি! শেষে লোহাগড়ে হয় হত্যা ছক, এই মামলায় ধৃত আরও ১

পুনে গ্রামীণ পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট স্যান্ডিপ সিং গিল জানিয়েছেন, তদন্ত চলাকালীন রীতেশের ভূমিকার কথা সামনে আসে। তাঁর দাবি, কেতন আগরওয়ালের খুনের পরিকল্পনার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত ছিলেন রীতেশ। 

Published on: Sep 5, 2026, 21:58:02 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

পুনের লোহাগড় ফোর্টে রিয়েলটর কেতন আগরওয়ালকে খুনের ঘটনায় তদন্তে নতুন মোড়। শনিবার ২২ বছরের এক যুবককে গ্রেপ্তার করল পুনে গ্রামীণ পুলিশ। ধৃতের নাম রীতেশ হাঙ্গে। পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্ত রীতেশ মূল চক্রীদের অন্যতম চেতন চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ বন্ধু। কেতনকে খুনের পরিকল্পনা তৈরিতে রীতেশও যুক্ত ছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

পুনের লোহাগড় ফোর্টে রিয়েলটর কেতন আগরওয়ালকে খুনের ঘটনায় তদন্তে নতুন মোড়।
পুনের লোহাগড় ফোর্টে রিয়েলটর কেতন আগরওয়ালকে খুনের ঘটনায় তদন্তে নতুন মোড়।

এই নিয়ে কেতন আগরওয়াল হত্যাকাণ্ডে মোট তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হল। এর আগে কেতনের বাগদত্তা সিয়া গোয়াল এবং তাঁর কথিত প্রেমিক চেতন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। পুলিশের অভিযোগ, গত ১৮ জুন পুনের লোহাগড় ফোর্টে কেতনকে নিয়ে যাওয়ার পর সিয়া এবং চেতন তাঁকে পাহাড়ের খাড়া অংশ থেকে ঠেলে ফেলে দেন। এই ঘটনাকে প্রথমে দুর্ঘটনা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও তদন্তকারীদের দাবি।

পুনে গ্রামীণ পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট স্যান্ডিপ সিং গিল জানিয়েছেন, তদন্ত চলাকালীন রীতেশের ভূমিকার কথা সামনে আসে। তাঁর দাবি, কেতন আগরওয়ালের খুনের পরিকল্পনার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত ছিলেন রীতেশ। শুধু পরিকল্পনা সম্পর্কেই তিনি ওয়াকিবহাল ছিলেন না, কেতনকে কীভাবে খুন করা হবে তা নিয়েও আলোচনা হয়েছিল বলে পুলিশ জানতে পেরেছে।

তদন্তকারীদের বক্তব্য, কেতন ও সিয়ার বিয়ের আগে তাঁকে সমস্যায় ফেলার পরিকল্পনা করেছিলেন সিয়া ও চেতন। প্রাথমিকভাবে তাঁকে আহত করার পরিকল্পনা ছিল। কেতনের হাত-পা ভেঙে দিয়ে তাঁর বিয়ে পিছিয়ে দেওয়ার কথা ভাবা হয়েছিল বলে পুলিশের দাবি। পরে সেই পরিকল্পনা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে হওয়ায় তাঁকে খুন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

খুনের পর ঘটনাটিকে নিছক দুর্ঘটনা হিসেবে দেখানোর জন্যও একাধিক পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তরা কেতনের মৃত্যু কীভাবে দুর্ঘটনা বলে চালানো যায়, তা নিয়ে নানা পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। সেইসঙ্গে বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখার পাশাপাশি ইন্টারনেটে খোঁজ চালানো এবং সাসপেন্সধর্মী সিনেমা দেখেও পরিকল্পনা সাজানোর চেষ্টা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ।

তদন্তকারীদের দাবি, টাইগার পয়েন্ট, বিসাপুর ফোর্ট-সহ পুনে ও তার আশপাশের বেশ কয়েকটি জায়গা ঘুরে দেখেছিলেন অভিযুক্তরা। শেষ পর্যন্ত লোহাগড় ফোর্টকেই কেতনের মৃত্যুর জন্য উপযুক্ত জায়গা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়। সেই জায়গাগুলির ছবি একে অপরের সঙ্গে আদানপ্রদান করে কোথায় কীভাবে পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করা যাবে, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।

১৮ জুন লোহাগড় ফোর্টে কেতনকে নিয়ে যাওয়ার পর সিয়া ও চেতন পরিকল্পনা অনুযায়ী তাঁকে ধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলে দেন বলে অভিযোগ। এরপর চেতন ফোন করে তাঁর বন্ধু রীতেশকে পুরো ঘটনা জানান বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।

পুলিশের হাতে এখন তিন অভিযুক্ত। কেতনকে খুনের পেছনে সম্পর্কজনিত টানাপোড়েন, পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র এবং ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা—তিনটি দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রীতেশের গ্রেপ্তারের পর তদন্তে আরও কী তথ্য সামনে আসে, এখন সেদিকেই নজর তদন্তকারীদের।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More