Ketan Agarwal Murder Case: কেতনের থেকে ১ কোটি টাকা হাতিয়ে প্রেমিককে সাহায্য! পুণে হত্যাকাণ্ডে সিয়া-চেতনের পরিকল্পনা ফাঁস

Ketan Agarwal Murder Case: পুলিশ সূত্রে খবর, কেতন আগরওয়ালকে সরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতের জীবন নিয়েও আগেভাগেই বিস্তারিত পরিকল্পনা করে রেখেছিল অভিযুক্ত যুগল সিয়া গোয়েল ও চেতন চৌধুরী।

Published on: Jun 29, 2026, 20:06:24 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Ketan Agarwal Murder Case: পুণের রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়াল হত্যাকাণ্ডে সামনে এল আরও নতুন তথ্য। পুলিশের তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে এই খুনের নেপথ্যে থাকা ভয়ংকর পরিকল্পনা ও ঠান্ডা মাথার চক্রান্তের বিস্তারিত তথ্য। পুলিশ জানাচ্ছে, বিয়ের কেনাকাটার অজুহাতে হবু স্বামী কেতনের কাছ থেকে প্রায় ১ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছিল অভিযুক্ত বাগদত্তা সিয়া গোয়েল।

পুণে হত্যাকাণ্ডে সিয়া-চেতনের পরিকল্পনা ফাঁস
পুণে হত্যাকাণ্ডে সিয়া-চেতনের পরিকল্পনা ফাঁস

বিয়ের খরচের নামে টাকা, পৌঁছল প্রেমিকের হাতে

পুলিশ সূত্রে খবর, কেতন আগরওয়ালকে সরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতের জীবন নিয়েও আগেভাগেই বিস্তারিত পরিকল্পনা করে রেখেছিল অভিযুক্ত যুগল সিয়া গোয়েল ও চেতন চৌধুরী। তদন্তে উঠে এসেছে, কেতনের কাছ থেকে নেওয়া এই বিশাল অঙ্কের টাকা সিয়া নিজের বিয়ের কাজে খরচ না করে তুলে দিয়েছিল তার প্রেমিক চেতনের হাতে। জানা গিয়েছে, চেতনের পরিবার আর্থিকভাবে দুর্বল। আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে অন্তত আরও তিন বছর সময় লাগবে বলে সিয়াকে জানিয়েছিল চেতন। তাই যাতে চেতন নিজের কর্মজীবন ও ব্যবসাকে স্থিতিশীল করতে পারে, সেজন্য পুরো টাকা তাকে দিয়ে দেয় সিয়া।

পুলিশ জানিয়েছে, দুজনে মিলে এও ঠিক করেছিল যে, কেতনকে খুনের পর তিন বছর অবিবাহিত থাকবে সিয়া। চেতনের আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষায় তারা দুজনে তিন বছর অপেক্ষা করার ছক কষেছিল, যাতে এই সময়ের মধ্যে খুনের ঘটনাটি মানুষের স্মৃতি থেকে মুছে যায়। এই সময়ের মধ্যে চেতন আর্থিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হলে এবং মামলার চর্চা কমে এলে তাঁরা বিয়ে করবেন। তদন্তকারীদের মতে, তদন্তের জাল থেকে বাঁচতে এবং শেষ পর্যন্ত সিয়ার পরিবারের যাতে তাদের সম্পর্ক মেনে নেয়, তার জন্যই এই দীর্ঘমেয়াদী টাইমলাইন তৈরি করা হয়েছিল।

খুনের চূড়ান্ত সংকেত

তদন্তে জানা গিয়েছে, লোহগড় দুর্গে কেতনকে খাদে ফেলে দেওয়ার সময় সিয়া নিজে হাতে ধাক্কা না দিয়ে দূরে বসেছিলেন। তবে চেতন যাতে ঠিক সময়ে কেতনকে ধাক্কা দিতে পারে এবং ধাক্কা দেওয়ার সময় কেতন যাতে সিয়াকে টেনে না ফেলে দেয়, তার জন্য পুরো সুরক্ষা তারা আগে থেকে ঠিক করে রেখেছিল। পুলিশ জানিয়েছে, পরিকল্পনা অনুযায়ী সিয়া মাটিতে বসে পড়বে এবং সেটাই হবে চেতনের কাছে 'গ্রিন সিগন্যাল।' এরপর চেতন এসে অসতর্ক কেতনকে খাদে ফেলে দেবে। সিয়া হয় জল খাওয়ার ছলে অথবা জুতোর ফিতে বাঁধার নাম করে মাটিতে বসবে বলে ঠিক করেছিল। এই নির্দিষ্ট সিগন্যাল বেছে নেওয়ার পেছনে উদ্দেশ্য ছিল- কেতন যখন ওপর থেকে পড়বে, তখন সে যেন সিয়াকে নাগালের মধ্যে না পায়। তাদের ভয় ছিল, চেতন ধাক্কা দিলে কেতন যদি সিয়াকে জড়িয়ে ধরে, তবে সিয়াও খাদে পড়ে যেতে পারে। তাই সিয়ার নিরাপত্তার কথা ভেবেই এই ছক কষা হয়েছিল।

এদিকে, চেতন ১৮ জুন পুণে থেকে লোহগড় দুর্গ পর্যন্ত প্রায় ৯০ কিলোমিটার রাস্তা গাড়ির বদলে স্কুটারে চেপে আসে। টোল প্লাজায় ধরা পড়ার ভয়ে সে গাড়ি ব্যবহার করেনি বলে জানিয়েছে পুলিশ। স্কুটারটি ইতিমধ্যেই বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ।

সিয়া ও চেতনের 'সিক্রেট কল'

তদন্তে উঠে এসেছে, খুনের মাত্র ৩৪ মিনিট আগে সিয়া চেতনকে ফোন করেছিল। সোর্স ও কল ডিটেইলস রেকর্ড (সিডিআর) ঘেঁটে এই তথ্য সামনে এসেছে, যা খুনের চূড়ান্ত নির্দেশ হিসেবে দেখছে পুলিশ। মোবাইলের সমস্ত ইন-ডেপথ ফরেনসিক পরীক্ষার পরই এই চাঞ্চল্যকর তথ্যটি হাতে আসে। পুণে রুরাল পুলিসের টেকনিক্যাল সার্ভেল্যান্স টিম এই ডিজিটাল প্রমাণ উদ্ধার করে। পুলিশের ধারণা, ওই শেষ কলের মাধ্যমে সিয়া দুর্গটিতে তাঁর একদম সঠিক লোকেশন চেতনকে জানিয়েছিল এবং আশেপাশে কোনও পর্যটক নেই তা কনফার্ম করেছিল।

ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে পুলিশ জানিয়েছে, এটি কোনও তাৎক্ষণিক ঘটনা ছিল না। এর আগেও গত ১৪ জুন সিয়া একবার কেতনকে পাহাড় থেকে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। সেবার কেতন কোনওমতে বেঁচে গেলে সিয়া সাপের ভয় দেখানোর মিথ্যা গল্প ফেঁদেছিল। দ্বিতীয়বারের চেষ্টায় চেতনকে স্কুটারে করে নিয়ে গিয়ে সুপরিকল্পিতভাবে সেই কাজ সফল করা হয়। বর্তমানে খুনের রহস্যের জট খুলতে অপরাধীদের জেরা করছে পুলিশ।