Punjab Terror plot: সক্রিয় পাকিস্তানি শাজাদ ভাট্টির গ্যাং! পঞ্জাবে বড়সড় সন্ত্রাসবাদী হামলার আশঙ্কায় জারি সতর্কতা

এনডিটিভির প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পাকিস্তান থেকে সক্রিয় ভাট্টির সহযোগীরা অমৃতসরের সামরিক স্থাপনাগুলিতে হামলা চালাতে পারে। এই সম্ভাব্য হুমকির কথা পঞ্জাব পুলিশ-সহ বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থাকে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে নিরাপত্তা আরও জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Published on: Aug 24, 2026, 09:49:59 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

পঞ্জাবে বড়সড় সন্ত্রাসবাদী হামলার আশঙ্কায় সতর্ক করা হয়েছে নিরাপত্তা সংস্থাগুলিকে। গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গিয়েছে, পাকিস্তানি গ্যাংস্টার শাহজাদ ভাট্টির নেটওয়ার্ক পঞ্জাবের সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনা করতে পারে। ইতিমধ্যেই অমৃতসর জেলার দুটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নজরদারি বা রেইকি চালানো হয়েছে বলে গোয়েন্দা ইনপুটে দাবি করা হয়েছে। যদিও এই তথ্য নিয়ে এখনও সরকারি স্তরে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

পাকিস্তান থেকে সক্রিয় ভাট্টির সহযোগীরা অমৃতসরের সামরিক স্থাপনাগুলিতে হামলা চালাতে পারে। (Raminder Pal Singh)
পাকিস্তান থেকে সক্রিয় ভাট্টির সহযোগীরা অমৃতসরের সামরিক স্থাপনাগুলিতে হামলা চালাতে পারে। (Raminder Pal Singh)

এনডিটিভির প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পাকিস্তান থেকে সক্রিয় ভাট্টির সহযোগীরা অমৃতসরের সামরিক স্থাপনাগুলিতে হামলা চালাতে পারে। এই সম্ভাব্য হুমকির কথা পঞ্জাব পুলিশ-সহ বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থাকে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে নিরাপত্তা আরও জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলি এই ইনপুটকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।

গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, এই পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত দুই অপারেটিভের নাম রানা ভাই এবং মালিক বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগ, তারা খাসা ছাউনির আশপাশ এবং বেসের কাছে বুঢ়া ঠেহ এলাকায় রেইকি চালিয়েছে। উল্লেখযোগ্য ভাবে, কিছুদিন আগেই খাসা ছাউনির সীমানার কাছে একটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতি খুব বেশি না হলেও নিরাপত্তা মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।

প্রাথমিক তদন্তকারীদের একাংশের সন্দেহ, ওই বিস্ফোরণ কোনও পূর্বপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ হয়ে থাকতে পারে। তবে আগের বিস্ফোরণের সঙ্গে সাম্প্রতিক গোয়েন্দা ইনপুটের সরাসরি কোনও যোগসূত্র এখনও পাওয়া যায়নি। ফলে দুটি ঘটনাকে যুক্ত করে দেখার আগে আরও তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন আধিকারিকরা।

এদিকে শাহজাদ ভাট্টির নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তদন্ত ও অভিযান জোরদার করা হয়েছে। ধর্মীয় ও স্পর্শকাতর স্থানে হামলা এবং রাজনৈতিক নেতাদের নিশানা করার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ ওই নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে ১২টি মামলা দায়ের করেছে এবং ৫২ জনকে গ্রেফতার করেছে বলে জানা গিয়েছে। পুলিশের দাবি, এই চক্র পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই এবং শাহজাদ ভাট্টির নির্দেশে কাজ করত। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ভারতীয় যুবকদের টার্গেট করে তাদের নেটওয়ার্কে যুক্ত করার অভিযোগও রয়েছে।

শাহজাদ ভাট্টির বিরুদ্ধে একাধিক মামলার তদন্ত করছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা এনআইএ। এর মধ্যে ২০২৫ সালের মার্চে পঞ্জাবে সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার রজার সান্ধুর বাড়িতে গ্রেনেড হামলা এবং একই বছরে হরিয়ানার একটি মহিলা থানায় বিস্ফোরণের ঘটনাও রয়েছে। ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে এনআইএ ভাট্টির বিরুদ্ধে পলাতক হিসেবে চার্জশিটও দাখিল করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর মধ্যেই পঞ্জাব পুলিশের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স শাখা একটি অবৈধ অস্ত্র পাচার চক্রের হদিস পেয়ে দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে। তাঁদের কাছ থেকে ১০টি অত্যাধুনিক পিস্তল, ম্যাগাজিন এবং ১০টি কার্তুজ উদ্ধার হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে দু’জনেরই নাম গুরপ্রীত সিং এবং তাঁরা তারন তারনের বাসিন্দা বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পঞ্জাবের ডিজিপি গৌরব যাদবের দাবি, প্রাথমিক তদন্তে ধৃতদের বিদেশে থাকা এক হ্যান্ডলারের সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গিয়েছে। অভিযোগ, ভারত-পাকিস্তান সীমান্তের কাছে হাভেলিয়া গ্রামের এলাকায় ড্রোনের মাধ্যমে সীমান্তের ওপার থেকে অস্ত্রের বড় চালান পৌঁছেছিল। সেই অস্ত্র অন্য ব্যক্তিদের কাছে সরবরাহ করার পরিকল্পনাও ছিল বলে সন্দেহ করছে পুলিশ।

পরপর এই ঘটনাগুলির জেরে পঞ্জাবের সীমান্তবর্তী ও সামরিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কড়া করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশি হ্যান্ডলার, ড্রোনের মাধ্যমে অস্ত্র পাচার এবং সম্ভাব্য জঙ্গি নেটওয়ার্কের মধ্যে যোগসূত্র খুঁজে বের করতে তদন্ত চালাচ্ছে একাধিক সংস্থা।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More