Racist, Anti Indian Post by Trump Admin: ভারতীয়দের নিশানা, ‘বর্ণবিদ্বেষমূলক এবং ভারতবিরোধী’ পোস্ট ট্রাম্প প্রশাসনের
পোস্টারটি হলিউডের জনপ্রিয় ‘ট্রান্সফরমার্স’ সিনেমার প্রচারের ধরনকে অনুসরণ করে তৈরি করা হয়েছে। সেখানে অভিবাসীদের উদ্দেশে বলা হয়েছে, ‘নিজে দেশ ছাড়ুন, না হলে ফল ভুগতে হবে।’ কিন্তু এর সঙ্গে ‘মিস্টার সিং’ বলে নির্দিষ্ট একটি সম্প্রদায়কে উল্লেখ করায় সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ ছড়িয়েছে।
আমেরিকায় অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের মধ্যেই নতুন বিতর্কে জড়াল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। মার্কিন ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বা ডিএইচএস অভিবাসীদের ‘নিজে থেকেই আমেরিকা ছেড়ে চলে যাওয়ার’ বার্তা দিতে একটি পোস্টার প্রকাশ করেছে। সেই পোস্টারেই ‘মিস্টার সিং, আপনি গাড়ি চালাতে জানেন না’—এই মন্তব্য থাকায় তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।

পোস্টারটি হলিউডের জনপ্রিয় ‘ট্রান্সফরমার্স’ সিনেমার প্রচারের ধরনকে অনুসরণ করে তৈরি করা হয়েছে। সেখানে অভিবাসীদের উদ্দেশে বলা হয়েছে, ‘নিজে দেশ ছাড়ুন, না হলে ফল ভুগতে হবে।’ কিন্তু এর সঙ্গে ‘মিস্টার সিং’ বলে নির্দিষ্ট একটি সম্প্রদায়কে উল্লেখ করায় সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ ছড়িয়েছে।
‘সিং’ পদবি কেন?
পোস্টারের বিতর্কিত বাক্যটি এসেছে ‘গাড়ি চালাতে জানেন না, মিস্টার সিং’—এই ধরনের মন্তব্য থেকে। সাম্প্রতিক সময়ে আমেরিকায় একাধিক সড়ক দুর্ঘটনায় অনথিভুক্ত ভারতীয় অভিবাসীরা ট্রাকচালক হিসেবে যুক্ত ছিলেন বলে বিভিন্ন রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটেই ডিএইচএস এই মন্তব্য করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এর আগে আমেরিকায় বাণিজ্যিক গাড়ির চালকদের লাইসেন্স এবং কাজের অনুমতি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন কড়া পদক্ষেপ করেছে। অনথিভুক্ত অভিবাসীদের মধ্যে ট্রাকচালকদের উপরেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
তবে সমালোচকদের দাবি, কয়েকটি দুর্ঘটনার ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি নির্দিষ্ট পদবি ব্যবহার করে গোটা ভারতীয় সম্প্রদায়কে নিশানা করা কার্যত বৈষম্যমূলক আচরণ।
‘বর্ণবিদ্বেষমূলক এবং ভারতবিরোধী’
পোস্টার প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড় ওঠে। বহু মানুষ পোস্টারটিকে ‘বর্ণবিদ্বেষমূলক’ এবং ‘ভারতবিরোধী’ বলে অভিযোগ করেছেন। হিন্দু আমেরিকান ফাউন্ডেশনও ডিএইচএস-এর এই পোস্টারের তীব্র সমালোচনা করেছে। সংগঠনটির অভিযোগ, ‘সিং’ পদবিকে ব্যবহার করে ভারতীয়দের বিশেষ ভাবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। তাদের বক্তব্য, সিং পদবির মানুষ হিন্দু, শিখ এবং আমেরিকার নাগরিক—তাঁদের মধ্যে অনেকেই বিভিন্ন পেশায় কাজ করেন এবং ট্রাক চালান। ফাউন্ডেশনটি এফবিআই-এর কাছেও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছে। এমনকি ‘ট্রান্সফরমার্স’ সিনেমার পরিবেশক প্যারামাউন্ট পিকচার্সেরও বিষয়টি নজরে আনার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমের সঞ্চালকেরও প্রতিবাদ
পোস্টারটির সমালোচনা করেছেন মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স৭-এর সঞ্চালক অ্যালেক নোলানও। তাঁর বক্তব্য, এই পোস্টার শুধু অভিবাসীদের বিরুদ্ধে নয়, ‘সিং’ পদবি ব্যবহার করে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে অপমান করছে। নোলান নিজের পারিবারিক ইতিহাসও তুলে ধরেছেন। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর দাদুর নাম ছিল ড্যান সিং এবং তাঁর বাবা কথাও সিং কয়েক দশক আগে উন্নত জীবনের আশায় ভারত থেকে আমেরিকায় গিয়েছিলেন। পরে তাঁরা ক্যালিফোর্নিয়ায় কৃষিকাজ করেন। তাঁর দাদু পরিবারের ব্যবসা সামলানোর পাশাপাশি ট্রাকচালকের কাজও করতেন। নোলানের অভিযোগ, এই ধরনের পোস্টার তাঁর পরিবারের মতো বহু ভারতীয় আমেরিকানকেও অপমান করে।
ট্রাম্পের অভিবাসন নীতিতে আরও কড়াকড়ি
ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর নীতি গ্রহণ করেছে। সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ, প্রত্যর্পণ এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে একের পর এক বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে।
বিশেষ করে ট্রাক চালকদের নিয়ে আলাদা করে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। আমেরিকার পরিবহণ ক্ষেত্রে কাজ করা অভিবাসীদের লাইসেন্স এবং কাজের অনুমতি যাচাই আরও কঠোর করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই নীতির মধ্যেই ডিএইচএস-এর নতুন পোস্টার প্রকাশ্যে আসায় বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।
‘ভয় দেখানো’ নাকি রাজনৈতিক বার্তা?
ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্য, অবৈধ অভিবাসীদের নিজেরাই আমেরিকা ছেড়ে যাওয়ার জন্য চাপ তৈরি করাই এই ধরনের প্রচারের উদ্দেশ্য। কিন্তু সমালোচকদের প্রশ্ন, অভিবাসন নীতি প্রয়োগ করতে গিয়ে নির্দিষ্ট জাতি বা সম্প্রদায়ের পরিচয়কে ব্যবহার করা কতটা যুক্তিসঙ্গত।
বিশেষ করে ‘মিস্টার সিং’ শব্দবন্ধ নিয়ে বিতর্কের কারণ হল, এটি শুধু কোনও ব্যক্তিকে নয়, একটি পরিচিত ভারতীয় পদবিকে প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করছে।
ভারতীয়দের মধ্যে ক্ষোভ
আমেরিকায় বিপুল সংখ্যক ভারতীয় বসবাস করেন। তাঁদের মধ্যে অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে সে দেশের অর্থনীতি, প্রযুক্তি, ব্যবসা, পরিবহণ এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে কাজ করছেন। তাই ডিএইচএস-এর পোস্টারে ‘সিং’ পদবি ব্যবহার করে অভিবাসনবিরোধী বার্তা দেওয়াকে অনেকেই অত্যন্ত আপত্তিকর বলে মনে করছেন। তাঁদের আশঙ্কা, এই ধরনের প্রচার সাধারণ মানুষের মধ্যে ভারতীয় এবং শিখদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ বাড়াতে পারে।
অভিবাসন নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের মধ্যে এই পোস্টার তাই নতুন রাজনৈতিক এবং সামাজিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এখন দেখার, মার্কিন প্রশাসন এই সমালোচনার জবাবে পোস্টারটি নিয়ে কোনও ব্যাখ্যা দেয় কি না বা সেটি সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


