Rafale M Test Flight in Goa: বিক্রান্তের ডেকে নামবে রাফাল! গোয়ায় শুরু পরীক্ষা, ২০২৮ সালেই আসতে পারে ফরাসি যুদ্ধবিমান
ভারতীয় নৌসেনার গোয়ার আইএনএস হংস ঘাঁটিতে রয়েছে বিশেষ পরীক্ষাকেন্দ্র। সেখানে বিমানবাহী রণতরীর ডেকের মতো ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে। রণতরীর সামনের দিকে থাকা ঢালু রানওয়ে বা স্কি-জাম্পের সাহায্যে যুদ্ধবিমান কী ভাবে উড়বে, তা পরীক্ষা করা যায় সেখানে।
ভারতীয় নৌসেনার শক্তি বাড়াতে আরও এক ধাপ এগোল নয়াদিল্লি। দেশের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি বিমানবাহী রণতরী আইএনএস বিক্রান্ত থেকে ফরাসি রাফাল মেরিন যুদ্ধবিমান চালানোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সেই লক্ষ্যে গোয়ায় বিশেষ পরীক্ষার কাজ চালাচ্ছে ভারতীয় নৌসেনা। মূলত বিক্রান্তের ডেকে এই যুদ্ধবিমান ওঠানামা করানোর জন্য কী কী পরিবর্তন প্রয়োজন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রতিরক্ষা আধিকারিকদের বক্তব্য, সব কিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ২০২৮ সালের শেষ দিকে অথবা ২০২৯ সালের গোড়ায় ভারত হাতে পেতে পারে এই যুদ্ধবিমানগুলি।

কী পরীক্ষা চলছে গোয়ায়?
ভারতীয় নৌসেনার গোয়ার আইএনএস হংস ঘাঁটিতে রয়েছে বিশেষ পরীক্ষাকেন্দ্র। সেখানে বিমানবাহী রণতরীর ডেকের মতো ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে। রণতরীর সামনের দিকে থাকা ঢালু রানওয়ে বা স্কি-জাম্পের সাহায্যে যুদ্ধবিমান কী ভাবে উড়বে, তা পরীক্ষা করা যায় সেখানে। একই সঙ্গে যুদ্ধবিমানকে নিরাপদে অবতরণ করানোর ব্যবস্থাও খতিয়ে দেখা হয়।
ভারতের বিমানবাহী রণতরীগুলিতে বিমান ওড়ানোর জন্য ক্যাটাপল্টের পরিবর্তে স্কি-জাম্প প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। অন্য দিকে, ফ্রান্সের রাফাল মেরিন মূলত বিমানবাহী রণতরী থেকে কাজ করার জন্য তৈরি হলেও সেটির কার্যকারিতা এবং পরিচালনার পদ্ধতি ভারতীয় রণতরীর সঙ্গে কতটা খাপ খায়, তা যাচাই করা জরুরি। সেই কারণেই গোয়ায় এই পরীক্ষা চলছে। পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে আইএনএস বিক্রান্ত এবং প্রয়োজনে আইএনএস বিক্রমাদিত্যের পরিকাঠামোয় সামান্য পরিবর্তন আনার বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।
৬৩ হাজার কোটি টাকার চুক্তি
২০২৫ সালের ২৮ এপ্রিল ফ্রান্সের সঙ্গে ২৬টি রাফাল মেরিন যুদ্ধবিমান কেনার চুক্তি করে ভারত। চুক্তির আনুমানিক মূল্য ৬৩ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ২২টি এক আসনের যুদ্ধবিমান এবং চারটি দুই আসনের প্রশিক্ষণ বিমান রয়েছে। এগুলি তৈরি করে ফ্রান্সের সংস্থা দাসো এভিয়েশন।
চুক্তিতে শুধু যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়টি নেই। এর সঙ্গে রয়েছে পাইলটদের প্রশিক্ষণ, উড়ানের অনুশীলনের জন্য সিমুলেটর, অস্ত্র, প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ এবং দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা। পাশাপাশি, ভারতীয় অস্ত্র এই যুদ্ধবিমানে ব্যবহারের উপযোগী করে তোলার প্রযুক্তিও হস্তান্তর করা হবে। নৌসেনার হাতে বর্তমানে আইএনএস বিক্রান্ত এবং আইএনএস বিক্রমাদিত্য নামে দুটি বিমানবাহী রণতরী রয়েছে। নতুন যুদ্ধবিমানগুলি দুই রণতরী থেকেই কাজ করতে পারবে বলে পরিকল্পনা রয়েছে।
কী ভাবে বাড়বে নৌসেনার শক্তি?
রাফাল মেরিন যুক্ত হলে সমুদ্রে ভারতীয় নৌসেনার আকাশপথে লড়াই করার ক্ষমতা বাড়বে। শত্রুপক্ষের যুদ্ধবিমানকে মোকাবিলা করা, সমুদ্রে শত্রুর জাহাজে আঘাত হানা, নজরদারি চালানো এবং উপকূলবর্তী স্থলভাগের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর কাজে ব্যবহার করা যাবে এই বিমান।
দূরপাল্লার আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র এবং আধুনিক রাডার ব্যবস্থার কারণে এই যুদ্ধবিমান নৌসেনার অভিযানকে আরও কার্যকর করতে পারে। বিমানবাহী রণতরী থেকে উড়ে দূরবর্তী এলাকায় নজরদারি ও প্রতিরোধ গড়ে তোলার সুযোগও বাড়বে।
এখন নৌসেনার হাতে থাকা রুশ প্রযুক্তির মিগ-২৯কে যুদ্ধবিমানের উপর নির্ভরতা কমাতেও নতুন বিমানগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। তবে তার জন্য প্রশিক্ষণ, পরীক্ষামূলক উড়ান এবং রণতরীর সঙ্গে যুদ্ধবিমানগুলির সামঞ্জস্য যাচাইয়ের কাজ শেষ করতে হবে।
সব মিলিয়ে, গোয়ায় চলা এই পরীক্ষা রাফাল মেরিনকে ভারতীয় নৌসেনায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পরীক্ষা সফল হলে আইএনএস বিক্রান্তের যুদ্ধক্ষমতা বাড়ানোর পথে আরও এক ধাপ এগোবে ভারত।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


