Raghav Chadha: ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা!’ খসড়া ভোটার তালিকা থেকে বাদ রাঘব চাড্ডার নাম, পাল্টা জবাব AAP-র

Raghav Chadha: পাঞ্জাবের প্রাক-এসআইআর ভোটার তালিকার প্রায় ৯.৭ শতাংশ অর্থাৎ ২০.৬৬ লক্ষ ভোটারের নাম এই খসড়া থেকে বাদ পড়েছে, যার মধ্যে রয়েছে রাঘব চাড্ডার নামও।

Published on: Sep 3, 2026, 14:16:03 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Raghav Chadha: পাঞ্জাবের (Punjab) খসড়া ভোটার তালিকা (Draft electoral rolls) থেকে বাদ পড়ল রাজ্যসভার সাংসদ রাঘব চাড্ডার (Raghav Chadha) নাম। নির্বাচন কমিশনের এসআইআরের (SIR) খসড়া ভোটার তালিকায় তাঁর নাম ‘স্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত’ (Permanently Shifted) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই পদক্ষেপকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলে তোপ দেগেছেন সদ্য বিজেপি-তে যোগ দেওয়া এই নেতা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তর্জা।

খসড়া ভোটার তালিকা থেকে বাদ রাঘব চাড্ডার নাম, পাল্টা জবাব AAP-র (PTI)
খসড়া ভোটার তালিকা থেকে বাদ রাঘব চাড্ডার নাম, পাল্টা জবাব AAP-র (PTI)

৩৭ বছর বয়সি রাঘব চাড্ডা চলতি বছরের এপ্রিল মাসে আপ ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন। তাঁর সঙ্গে আরও ছয় জন রাজ্যসভার সাংসদও বিজেপিতে যোগ দেন। পাঞ্জাবের প্রাক-এসআইআর ভোটার তালিকার প্রায় ৯.৭ শতাংশ অর্থাৎ ২০.৬৬ লক্ষ ভোটারের নাম এই খসড়া থেকে বাদ পড়েছে, যার মধ্যে রয়েছে রাঘব চাড্ডার নামও। গত ১৩ অগাস্ট প্রকাশিত অনুপস্থিত, স্থানান্তরিত, মৃত ও দ্বৈত তালিকার এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে রাঘব জানান, মোহালিতে তাঁর ভোটার আইডি নথিভুক্ত থাকা সত্ত্বেও তাঁকে কীভাবে ‘স্থানান্তরিত’ দেখানো হল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। নিজের নাম বাদ পড়া নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে রাঘব বলেন, 'আমি পাঞ্জাবের মোহালির একজন রেজিস্টার্ড ভোটার এবং সেখানকার বর্তমান রাজ্যসভার সাংসদ। তা সত্ত্বেও খসড়া ভোটার তালিকায় আমার নামের পাশে ‘শিফটেড’ লিখে দেওয়া হয়েছে।'

তাঁর বক্তব্য, বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও) থেকে শুরু করে অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার, ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ইআরও) এবং ডিস্ট্রিক্ট ইলেকশন অফিসার (ডিইও)-এসআইআর প্রক্রিয়ার বিভিন্ন স্তরে যুক্ত আধিকারিকরা সাধারণত রাজ্য সরকারের কর্মী। এমনকী পাঞ্জাবের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকও পাঞ্জাব ক্যাডারের আইএএস আধিকারিক বলে দাবি করেন তিনি। রাঘব চাড্ডার অভিযোগ, নির্বাচনী দায়িত্ব শেষ হওয়ার পর তাঁদের বদলি, পদায়ন ও কর্মজীবনের বিভিন্ন বিষয় রাজ্য সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকে। ফলে সরকারি আধিকারিকদের মাধ্যমে আপ সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসা কার্যকর করছে বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর কথায়, 'কে আমার নামের পাশে শিফটেড লিখল? আপ সরকারের এক আধিকারিক। কে সেটা ভেরিফাই করল? আপ সরকারের আর এক আধিকারিক। বুথ লেভেল অফিসার থেকে শুরু করে শীর্ষ আধিকারিক, প্রত্যেকেই পাঞ্জাব সরকারের অধীনে কাজ করেন। দল ছাড়ার পর থেকেই আপ-নেতৃত্ব রাগে ফুটছে। আর সেই রাজনৈতিক রাগ মেটাতেই রাজ্য পুলিশ এবং প্রশাসনকে ব্যবহার করছে তারা।'

রাঘবের অভিযোগের কড়া জবাব দিয়েছে আম আদমি পার্টি। দলের বক্তব্য, ভোটার তালিকা সংশোধনের গোটা প্রক্রিয়াই নির্বাচন কমিশনের অধীনে পরিচালিত হয়। কার নাম থাকবে বা কার নাম বাদ যাবে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে পাঞ্জাব সরকারের কোনও ভূমিকা নেই। তাই তাঁর নাম বাদ যাওয়ার জন্য আপ সরকারকে দায়ী করা ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে দলের নেতারা। আপ-এর তরফে আরও বলা হয়েছে, চাড্ডা বর্তমানে দিল্লিতে বসবাস করেন। তাঁর ভোটার নথিভুক্তি সংক্রান্ত তথ্য আপডেট করার দায়িত্বও সংশ্লিষ্ট ভোটারের। ফলে এই বিষয়টিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার সঙ্গে যুক্ত করার কোনও কারণ নেই বলে বক্তব্য দলের।

যদিও খসড়া ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার ফলে রাঘব চাড্ডার রাজ্যসভার সাংসদ পদ নিয়ে কোনও আইনি জটিলতা তৈরি হচ্ছে না। কারণ ২০০৩ সালে গণপ্রতিনিধিত্ব আইনে সংশোধনী এনে রাজ্যসভার প্রার্থীর সংশ্লিষ্ট রাজ্যের ভোটার হওয়ার বাধ্যতামূলক শর্তটি তুলে নেওয়া হয়েছিল। এদিকে, চলতি বছরের অক্টোবরেই পাঞ্জাবের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হওয়ার কথা।