Rahul Gandhi: দিল্লির রাজপথে চর্চায় এনার্জি ড্রিঙ্ক! আন্দোলনের ফাঁকে রাহুলের 'স্টিং' চুমুক, হাইকোর্টে স্বস্তি পেপসিকো-র

Rahul Gandhi: কাকতালীয় হলেও সত্যি, লোকসভার বিরোধী দলনেতার হাতে থাকা এই পানীয় বোতলটি যেদিন রাজপথের নজর কাড়ল, ঠিক সেদিনই মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে আদালত কক্ষে এই পানীয় নিয়েই চলছিল এক আইনি লড়াই।

Updated on: Oct 7, 2026, 19:13:25 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

Rahul Gandhi: বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ এবং দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর (Rahul Gandhi) নেতৃত্বে দিল্লিতে পথে নেমেছে কংগ্রেস। যা ঘিরে মঙ্গলবার রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় রাজধানী। আর এসবের মাঝেই ফের নতুন করে চর্চায় রাহুল গান্ধী।

দিল্লির রাজপথে চর্চায় ‘এনার্জি ড্রিঙ্ক!’ (সৌজন্যে এক্স )
দিল্লির রাজপথে চর্চায় ‘এনার্জি ড্রিঙ্ক!’ (সৌজন্যে এক্স )

অক্টোবরের শুরুতেও দিল্লির দুপুরের রোদ কখনও কখনও বেশ প্রখর হয়। সকালে দীর্ঘ পদযাত্রা, ব্যারিকেড টপকানো আর দিল্লি পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির পর এক বিশাল বটগাছের ছায়ায় খানিকটা জিরিয়ে নিচ্ছিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ও তাঁর বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। আন্দোলনের ময়দানে বাড়তি শক্তির প্রয়োজন তো থাকেই। দিল্লির বিখ্যাত 'খান চাচা'-র রোল খাওয়ার পর প্লাস্টিকের বোতল থেকে উজ্জ্বল গোলাপি রঙের এক পানীয়তে বড় এক চুমুক দিতে দেখা যায় রাহুল গান্ধীকে। আর বিষয়টি নজর এড়ায়নি সোশ্যাল মিডিয়ার; নেটিজেনরা নিমেষেই চিনে ফেলেন পানীয়টি পেপসিকো-র বহু চর্চিত 'স্টিং' (Sting)—যা বাজারে সাধারণত 'এনার্জি ড্রিংক' হিসেবেই পরিচিত। রাহুল যখন আয়েশ করে সেই পানীয় চুমুক দিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই পাশে বসা প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে দেখা যায় বেশ সতর্ক ও সংশয়ী দৃষ্টিতে তাকাতে।

কিছুক্ষণ পরই বোতলটি প্রিয়াঙ্কার দিকে এগিয়ে দেন রাহুল। প্রিয়াঙ্কা বেশ কিছুটা সন্দেহের দৃষ্টিতে বোতলটি দেখেন, অনিচ্ছাসত্ত্বেও গন্ধ শুঁকে এক সমর্থকের কাছে জানতে চান এটি আসলে কী। তবে শেষমেশ তিনিও এক চুমুক পান করেন। আর এই ঘটনাকে রসিকতা করে অনেকেই বলছেন, রাহুলের এই 'স্টিং অপারেশন' শত চেষ্টা করেও এড়াতে পারেননি প্রিয়াঙ্কা।

রাজনীতির ময়দানে 'স্টিং'

কাকতালীয় হলেও সত্যি, লোকসভার বিরোধী দলনেতার হাতে থাকা এই পানীয় বোতলটি যেদিন রাজপথের নজর কাড়ল, ঠিক সেদিনই মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে আদালত কক্ষে এই পানীয় নিয়েই চলছিল এক আইনি লড়াই। একদিকে রাহুল-প্রিয়াঙ্কা গান্ধী রাজনীতিতে ‘স্টিং’-এর স্বাদ নিচ্ছিলেন, অন্যদিকে 'এনার্জি ড্রিংক' তকমা নিয়ে দিল্লির হাইকোর্টে আইনি স্বস্তি খুঁজছিল পেপসিকো।

মঙ্গলবার শুনানিতে দিল্লি হাইকোর্ট পেপসিকো-কে অন্তর্বর্তীকালীন স্বস্তি দিয়েছে। ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অব ইন্ডিয়া (FSSAI)-র দেওয়া নির্দেশের ওপর আদালত এই ছাড় দিল। নির্দেশ অনুসারে, যে সমস্ত বোতলে ইতিমধ্যেই 'এনার্জি ড্রিংক' লেবেল সাঁটানো রয়েছে, সেগুলি বাজারে বিক্রি করা যাবে; তবে মামলা চলাকালীন এই বিতর্কিত লেবেল লাগিয়ে নতুন কোনও পণ্য উৎপাদন করা যাবে না। এর আগে এফএসএসএআই পেপসিকো-কে তাদের পণ্যের লেবেল থেকে অবিলম্বে 'এনার্জি ড্রিংক' শব্দটি সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। এমনকী দেশজুড়ে খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিকদের এই বিতর্কিত লেবেলযুক্ত পণ্য বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশও দেওয়া হয়। সেই পদক্ষেপকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েই দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল পেপসিকো।

ভারতের খাদ্য সুরক্ষা ও মান নিয়ামক সংস্থার বক্তব্য, ভারতে ‘এনার্জি ড্রিঙ্ক’ নামে বাজারজাত পানীয়ের জন্য আলাদা কোনও নির্দিষ্ট মানদণ্ড নেই। এই ধরনের পণ্য মূলত ‘ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়’ হিসেবেই নিয়ন্ত্রিত হয়। তাই পণ্যের গায়ে ‘এনার্জি ড্রিঙ্ক’ লেখা নিয়মের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় বলে মনে করছে নিয়ামক সংস্থা। এফএসএসএআই-এর আরও যুক্তি, এই ধরনের পানীয়ে শরীরে শক্তি পাওয়ার অন্যতম প্রধান উৎস হতে পারে অতিরিক্ত চিনি এবং উচ্চ মাত্রার ক্যাফেইন। ফলে ‘এনার্জি ড্রিঙ্ক’ নাম দেখে ক্রেতাদের মধ্যে পানীয়টির বিশেষ স্বাস্থ্যগুণ বা অতিরিক্ত শক্তি দেওয়ার ক্ষমতা নিয়ে ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে। শুধু লেবেল নয়, বিজ্ঞাপনের ভাষা নিয়েও আপত্তি রয়েছে এফএসএসএআই-এর। ‘শরীর ও মনকে সতেজ করে’ কিংবা ‘সাধারণ দুর্বলতায় সাহায্য করে’-র মতো দাবি ক্রেতাদের বিভ্রান্ত করতে পারে বলে মনে করছে সংস্থাটি।

ফের উত্তপ্ত দিল্লি

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এবং ‘ভোটচুরি’ ও স্বেচ্ছাচারী আচরণের অভিযোগ তুলে মঙ্গলবারের পর বুধবারও দিল্লির যন্তর মন্তর অভিমুখে বিক্ষোভ দেখাল বিরোধী দলগুলি (Opposition MPs Protest)। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের আমন্ত্রণে মধ্য দিল্লির এক রেস্তোরাঁয় বিরোধী সাংসদদের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে বাসে চেপে যন্তর মন্তরের উদ্দেশে রওনা দেন রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, ডেরেক ও’ব্রায়েনরা। কিন্তু যন্তর মন্তরে পৌঁছানোর আগেই মাঝপথে বাস আটকে দেয় দিল্লি পুলিশ। যন্তর মন্তর এলাকায় দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে আগেই ১৬৩ ধারা (পূর্বতন ১৪৪ ধারা) জারি করা হয়েছিল। ফলে সেখানে অনুমতিহীন জমায়েত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল। পুলিশ বাস আটকে দেওয়ায় রাস্তা থেকেই নেমে পড়েন রাহুল-প্রিয়াঙ্কারা। এর পরেই সেখানে উপস্থিত এনএসইউআই (NSUI) কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের তুমুল ধস্তাধস্তি ও উত্তেজনা ছড়ায়। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে পুলিশ দমনপীড়ন চালাচ্ছে অভিযোগ তুলে রাস্তায় শুয়ে পড়ে প্রতিবাদ জানান প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ও অন্য মহিলা সাংসদরা। ডেপুটি কমিশনার শচিন শর্মা জানান, নির্দিষ্ট বিধি মেনেই পরিস্থিতি মোকাবিলা করা হচ্ছে।