Rahul Gandhi: অমিত শাহকে নিয়ে মন্তব্য! ২০১৮ সালের মানহানির মামলায় আদালতে বড় স্বস্তি রাহুল গান্ধীর
Rahul Gandhi: এদিন রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন রাহুল গান্ধী। এই মামলায় আদালতে হাজিরা দিতে সোমবার লখনউ থেকে সুলতানপুর যাচ্ছিলেন তিনি। সেই যাত্রাপথেই পূর্বাঞ্চল এক্সপ্রেসওয়েতে তাঁর কনভয়ের একাধিক গাড়ির সঙ্গে একটি অ্যাম্বুল্যান্সের সংঘর্ষ হয়।
Rahul Gandhi: দীর্ঘ আট বছর আইনি লড়াইয়ের পর মানহানি মামলা থেকে বড় স্বস্তি পেলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা তথা কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। সোমবার উত্তরপ্রদেশের সুলতানপুরের একটি বিশেষ এমপি-এমএলএ আদালত বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা তৎকালীন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহকে নিয়ে করা তাঁর মন্তব্য সংক্রান্ত ২০১৮ সালের মানহানি মামলাটি খারিজ করে দিয়েছে। এদিনের এই রায়ে কংগ্রেস শিবিরে স্বস্তির নিঃশ্বাস পড়েছে।

এদিন রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন রাহুল গান্ধী। এই মামলায় আদালতে হাজিরা দিতে সোমবার লখনউ থেকে সুলতানপুর যাচ্ছিলেন তিনি। সেই যাত্রাপথেই পূর্বাঞ্চল এক্সপ্রেসওয়েতে তাঁর কনভয়ের একাধিক গাড়ির সঙ্গে একটি অ্যাম্বুল্যান্সের সংঘর্ষ হয়। দুর্ঘটনায় কংগ্রেস কর্মী ও নিরাপত্তারক্ষী-সহ বেশ কয়েকজন আহত হন। তবে সৌভাগ্যবশত, রাহুল গান্ধী সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রয়েছেন এবং যে গাড়িতে তিনি ছিলেন সেটি এই সংঘর্ষের কবলে পড়েনি। লোকসভার বিরোধী দলনেতা তথা রায়বরেলির কংগ্রেস সাংসদ সোমবার সকালে লখনউয়ের চৌধরি চরণ সিং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছন। তাঁকে স্বাগত জানাতে সেখানে ভিড় জমিয়েছিলেন কয়েকশো কংগ্রেস কর্মী ও স্থানীয় দলীয় নেতারা। লখনউ বিমানবন্দরে সংবর্ধনা নেওয়ার পর সুলতানপুর আদালতের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার পথেই এই অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটে।
রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে সুলতানপুরের মানহানির মামলা কী?
২০১৮ সালের কর্ণাটক বিধানসভা নির্বাচনের আগে, ৮ মে বেঙ্গালুরুর একটি র্যালিতে তৎকালীন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহের বিরুদ্ধে কিছু আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছিল রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে। অভিযোগে বলা হয়েছিল, রাহুল গান্ধী দাবি করেছিলেন যে, এমন একজন সভাপতি দ্বারা বিজেপি পরিচালিত হচ্ছে যিনি একটি হত্যা মামলার অভিযুক্ত। ২০০৫ সালের সোহরাবুদ্দিন শেখ ভুয়ো সংঘর্ষ মামলার প্রসঙ্গের টানে এই মন্তব্য করা হয়েছিল, যে মামলা থেকে ২০১৪ সালেই বিশেষ সিবিআই আদালত অমিত শাহকে অব্যাহতি দিয়েছিল। এই মন্তব্যের জেরে ২০১৮ সালের ৪ আগস্ট সুলতানপুরের ডিস্ট্রিক্ট কোঅপারেটিভ ব্যাঙ্কের প্রাক্তন চেয়ারম্যান তথা স্থানীয় বিজেপি নেতা বিজয় মিশ্র রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মানহানি মামলা দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, এই ধরনের মন্তব্য মানহানিকর এবং তা অমিত শাহের সুনামে আঘাত হেনেছে।
২০২৩ সালের ২৭ নভেম্বরে সুলতানপুরের আদালত রাহুল গান্ধীকে মামলায় হাজিরা দেওয়ার জন্য সমন পাঠায়। এরপর ২০২৪ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি আদালতে হাজির হন তিনি। ব্যক্তিগত বন্ড ও জামিনদার জমা দেওয়ার পর তাঁকে জামিন দেওয়া হয়। রাহুল গান্ধী অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাঁর আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, এই মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছিলেন তিনি। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে আদালতে কংগ্রেস নেতার বয়ান নথিভুক্ত করা হয়। ওই বছরের অক্টোবর মাসে অভিযোগকারী বিজয় মিশ্রের সাক্ষ্যগ্রহণ হয়। এরপর ২০২৫ ও ২০২৬ সালেও সাক্ষীদের বয়ান এবং অভিযুক্তের বক্তব্য রেকর্ড করার প্রক্রিয়া চলে।
বেঙ্গালুরুর জনসভার রেকর্ডিংয়ের সঙ্গে রাহুল গান্ধীর কণ্ঠস্বর মিলিয়ে দেখার আবেদনও করেছিলেন বিজয় মিশ্র। তবে ২০২৬ সালের মে মাসে নিম্ন আদালত সেই আবেদন খারিজ করে দেয়। পরবর্তী সময়ে উচ্চতর আদালতেও ওই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানানো হলেও সেখান থেকে স্বস্তি মেলেনি। চলতি বছরের অক্টোবর মাসে মানহানির মামলার শুনানি ও যুক্তিতর্কের পর্ব শেষ হয়। প্রথমে ১৩ অক্টোবর রায় ঘোষণার দিন ধার্য করা হলেও পরে তা পিছিয়ে ২৬ অক্টোবর করা হয়। অবশেষে অভিযোগ খারিজ হওয়ায় আট বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই মামলায় বড়সড় স্বস্তি পেলেন রাহুল গান্ধী।
E-Paper

