Rahul Gandhi: 'ছেলেরা কটূক্তি করলে সমস্যা নেই, মেয়েরা বললে...,' PM মোদীকে 'নারী স্বধীনতা' তোপ রাহুলের
Rahul Gandhi slams ‘Manusmriti' mindset: মেয়েদের উদ্দেশে রাহুল গান্ধী বলেন, পিতৃতন্ত্র মেয়েদের ভয় দেখায়, নিয়ন্ত্রণ করে এবং তাঁদের এগিয়ে যাওয়ার পথে বাধা তৈরি করে। তাই একসঙ্গে এই মানসিকতার বিরুদ্ধে লড়াই করার ডাক দেন তিনি।
Rahul Gandhi slams ‘Manusmriti' mindset: নারীর স্বাধীনতা ও আত্মপরিচয়ের প্রশ্নে ফের সরব লোকসভার বিরোধী দলনেতা তথা কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। পুণেতে আয়োজিত ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য পেশ করতে গিয়ে তিনি মনুস্মৃতিতে নারীর অধীনতা সংক্রান্ত ধারণার সমালোচনা করেন। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, একজন নারী সবার আগে নিজের। তার পর তিনি কারও মেয়ে, বোন, স্ত্রী বা মা। সমাজের বেঁধে দেওয়া পরিচয় এবং প্রত্যাশা যেন কোনও নারীর জীবনের গতিপথ নির্ধারণ না করে। নিজের জীবন কোন দিকে নিয়ে যাবেন, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সম্পূর্ণ স্বাধীনতা নারীরই থাকা উচিত।

শনিবার পুণেতে ছাত্রীদের সঙ্গে আলাপচারিতায় রাহুল গান্ধী বলেন, ‘মেয়েদের খাঁচায় বন্দি রাখা হবে। তাঁদের নিয়ন্ত্রণ করা হবে। কাজ করতে দেওয়া হবে না। আর ছেলেরা সমস্ত স্বাধীনতা পাবে। তাঁরা যা ইচ্ছা করতে পারে—গালিগালাজ করতে চাইলে সেটা করতে পারে, কাজ করতে চাইলে সেটা পারে। এটা কী ধরনের মানসিকতা? আমরা এমন হিন্দুস্তান চাই না।’ একই সঙ্গে কংগ্রেস সাংসদের সংযোজন, ‘মনুস্মৃতিতে বলা হয়েছে, মেয়েরা শৈশবে বাবার, যৌবনে স্বামীর এবং পরে ছেলের নিয়ন্ত্রণে থাকবে- এই ধারণা অত্যন্ত লজ্জাজনক। নারীরা কারও সম্পত্তি নন। তাঁরা নিজেরা নিজেদের দায়িত্ব নিতে পারেন। দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে এই শৃঙ্খল ভাঙতে হবে।’
শুধু মনুস্মৃতির সমালোচনা নয়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেও (PM Narendra Modi) নিশানা করেন রাহুল গান্ধী। তিনি বলেন, ‘দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভে অশ্লীল গালিগালাজ মেয়েরাও করেছে, ছেলেরাও করেছে। অথচ প্রধানমন্ত্রী শুধু মেয়েদের গালিগালাজ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন, কালচালার শক হিসাবে দেখেছেন। এমন ভাব যেন ছেলেরা অশ্রাব্য কথা বললে তাতে আপত্তি নেই। মেয়েরা বললেই যত আপত্তি। এই মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।' মেয়েদের উদ্দেশে রাহুল গান্ধী বলেন, পিতৃতন্ত্র মেয়েদের ভয় দেখায়, নিয়ন্ত্রণ করে এবং তাঁদের এগিয়ে যাওয়ার পথে বাধা তৈরি করে। তাই একসঙ্গে এই মানসিকতার বিরুদ্ধে লড়াই করার ডাক দেন তিনি। তাঁর বার্তা, 'জোরে কথা বলুন, নিজের জন্য গর্বিত হন এবং সমাজে নিজের জায়গার জন্য লড়াই করুন।' পাশাপাশি, মহিলাদের বিরুদ্ধে হিংসা ও বৈষম্যের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন কংগ্রেস সাংসদ। তিনি শারীরিক হিংসা, সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা এবং অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ, এই তিন ধরনের হিংসার কথা বলেন। পাশাপাশি নারী নির্যাতন ও কর্মক্ষেত্রে নারীদের স্বাধীনতা নিয়েও একাধিক পরিসংখ্যান তুলে ধরেন তিনি।
উল্লেখ্য, পড়ুয়াদের বিক্ষোভের আবহে একটি ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘আন্দোলনস্থল আমার এবং আমার প্রয়াত মায়ের নামে নানা কুরুচিকর কথা বলা হয়েছে। আমাদের কন্যারা কী ভাবে এমন ভাষা ব্যবহার করতে পারে, তা ভেবে আমি কালচারাল শক পেয়েছি। তবে আমি ওঁদের ক্ষমা করে দিতে চাই।’
E-Paper

