Rahul Gandhi slams AAP's Bhagwant Mann: সকাল ১১টাতেই মুখে মদের গন্ধ! ভগবন্ত মানকে নিশানা রাহুল গান্ধীর, পালটা তোপ AAP-এর
রাহুলের দাবি, লোকসভায় সাংসদ থাকাকালীন ভগবন্ত মানের সঙ্গে তাঁর একাধিকবার দেখা হয়েছে। এমনকী, সকাল ১১টার সময়ও মানের মুখ থেকে মদের গন্ধ পাওয়া যেত বলে দাবি করেন তিনি। স্বাভাবিকভাবেই এই মন্তব্য ঘিরে পাঞ্জাবের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
২০২৭ সালের পাঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এবার সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। বুধবার, ৪ নভেম্বর পাঞ্জাবের সংগ্রুরে কংগ্রেসের ‘ইনসাফ র্যালি’ থেকে মানের মদ্যপানের অভ্যাস নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন তিনি। রাহুলের দাবি, লোকসভায় সাংসদ থাকাকালীন ভগবন্ত মানের সঙ্গে তাঁর একাধিকবার দেখা হয়েছে। এমনকী, সকাল ১১টার সময়ও মানের মুখ থেকে মদের গন্ধ পাওয়া যেত বলে দাবি করেন তিনি। স্বাভাবিকভাবেই এই মন্তব্য ঘিরে পাঞ্জাবের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। রাহুলের মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে আম আদমি পার্টি (AAP)। তাদের বক্তব্য, একজন জাতীয় স্তরের নেতার কাছ থেকে এমন ব্যক্তিগত ও নিম্নরুচির আক্রমণ প্রত্যাশিত নয়।

সংগ্রুরের সভায় রাহুল বলেন, তিনি যখন লোকসভায় ভগবন্ত মানের সঙ্গে ছিলেন, তখন মান সাংসদদের সঙ্গে বসে রসিকতা করতেন। কিন্তু সকাল ১১টার সময়ও তাঁর নিঃশ্বাসে মদের গন্ধ পাওয়া যেত বলে অভিযোগ করেন কংগ্রেস নেতা। তবে একইসঙ্গে রাহুল স্পষ্ট করেন, কেউ মদ্যপান করবেন কি না, সেটা তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়। ভগবন্ত মানের ব্যক্তিগত পছন্দ নিয়ে তাঁর কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু পাঞ্জাবের মতো একটি রাজ্যে যখন মাদকাসক্তি বড় সামাজিক সমস্যা, তখন সেই সমস্যার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের নেতৃত্ব দিচ্ছেন যে মুখ্যমন্ত্রী, তাঁর ভূমিকা নিয়েই প্রশ্ন তোলেন তিনি। রাহুলের বক্তব্য, কোনও মুখ্যমন্ত্রী যদি প্রতিদিন সন্ধ্যায় নেশার প্রভাবে থাকেন, তাহলে তাঁর পক্ষে মাদকের বিরুদ্ধে কার্যকর লড়াই চালানো কতটা সম্ভব?
এই মন্তব্যের পালটা দিতে দেরি করেনি AAP। দলের দিল্লি সভাপতি সৌরভ ভরদ্বাজ বলেন, রাহুল গান্ধীর মতো নেতার কাছ থেকে এমন সস্তা মন্তব্য আশা করা যায় না। তাঁর দাবি, রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধেও অতীতে মাদক সেবনের অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু এভাবে ব্যক্তিগত অভিযোগ তুলে কোনও সমস্যার সমাধান হয় না। রাহুলের আক্রমণকে ‘বেল্টের নিচে আঘাত’ বলেও কটাক্ষ করেন তিনি। AAP-এর অভিযোগ, বিজেপি এবং কংগ্রেস—দুই দলই মিলে পাঞ্জাবকে রাজনৈতিক নিশানা করেছে। দলের তরফে রাহুলকে ‘পাপ্পু’ বলেও আক্রমণ করা হয়।
তবে শুধু ভগবন্ত মান নন, পাঞ্জাবের মাদক সমস্যাকে সামনে রেখে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকেও নিশানা করেন রাহুল। শাহের তিন বছরের মধ্যে পাঞ্জাবকে মাদকমুক্ত করার প্রতিশ্রুতি নিয়ে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, তিন বছর পরে অমিত শাহ আর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকবেন কি না, তা নিয়েই সন্দেহ রয়েছে। এমনকী, বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার এক বছরও টিকবে না বলে দাবি করেন তিনি।
পাঞ্জাবে মাদক, গ্যাংস্টার রাজ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও সরব হন কংগ্রেস নেতা। সভায় প্রয়াত গায়ক সিধু মুসেওয়ালার বাবা বলকৌর সিংকে মঞ্চে ডেকে আনেন তিনি। ২০২২ সালের ২৯ মে মানসা জেলায় গাড়িতে থাকা অবস্থায় গুলিতে খুন হয়েছিলেন মুসেওয়ালা। সেই ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে পাঞ্জাবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন রাহুল।
পাশাপাশি তাঁর অভিযোগ, দিল্লি থেকে পাঞ্জাব সরকার পরিচালিত হচ্ছে। কংগ্রেস ক্ষমতায় ফিরলে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। অন্যদিকে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেও AAP সরকারকে আক্রমণ করে দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার অভিযোগ তোলেন।
উল্লেখ্য, একসময় সংগ্রুর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ ছিলেন ভগবন্ত মান। ফলে তাঁর রাজনৈতিক ঘাঁটিতেই কংগ্রেসের এই বড় জনসভা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। জাতীয় স্তরে INDIA জোটের শরিক হলেও পাঞ্জাবে কংগ্রেস ও AAP আগামী বিধানসভা নির্বাচনে মুখোমুখি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ফলে রাহুলের এই ব্যক্তিগত আক্রমণ শুধু দুই নেতার সংঘাত নয়, বরং ২০২৭-এর নির্বাচনের আগে পাঞ্জাবে কংগ্রেস বনাম AAP লড়াইয়ের নতুন ইঙ্গিত বলেই মনে করা হচ্ছে।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


