'ছাত্রদের ওপর বলপ্রয়োগ...,' জোট শরিক হেমন্ত সোরেন সরকারের তীব্র নিন্দা রাহুল গান্ধীর

Rahul Gandhi: মুখ্যমন্ত্রীর জন্মদিনের দিন পুরনো বিধানসভা ভবন থেকে আন্দোলনকারীরা মিছিল করে বিধানসভা চত্বরের দিকে এগোতে গেলে পুলিশ ব্যারিকেড ভেঙে এগোনোর চেষ্টা করেন তাঁরা। এর পরেই ছাত্রদের মিছিল আটকাতে পুলিশ লাঠি চার্জ করে বলে অভিযোগ। মিছিল ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাসও ছোড়া হয়।

Published on: Aug 10, 2026, 20:21:25 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Rahul Gandhi: ঝাড়খণ্ডে নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের প্রতিবাদে আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের ওপর পুলিশের বলপ্রয়োগের তীব্র নিন্দা করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। দিল্লির যন্তর মন্তরের ছাত্রদের উপরে পুলিশের কড়া পদক্ষেপ নিয়ে সরব হলেও জোটসঙ্গী হেমন্ত সোরেনের ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা (JMM) সরকারের একই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কেন তিনি মুখ খুলছেন না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল। অবশেষে ঝাড়খণ্ডেও ছাত্রদের উপরে পুলিশের পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের দাবি জানিয়েছেন কংগ্রেস নেতা।

জোট শরিক হেমন্ত সোরেন সরকারের তীব্র নিন্দা রাহুল গান্ধীর (AFP)
জোট শরিক হেমন্ত সোরেন সরকারের তীব্র নিন্দা রাহুল গান্ধীর (AFP)

সোমবার এক্স হ্যান্ডেলে এক পোস্টে রাহুল গান্ধী স্পষ্ট জানান, 'ঝাড়খণ্ডে আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের ওপর বলপ্রয়োগ করা ভুল। ছাত্রছাত্রীদের শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করার অধিকার রয়েছে এবং একমাত্র আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান বেরিয়ে আসতে পারে।' তিনি ঝাড়খণ্ড সরকারকে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের বক্তব্য শুনে তাঁদের সমস্যার দ্রুত সমাধান করার আহ্বান জানান। সরকারি চাকরির পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত ছাত্র এবং চাকরিপ্রার্থীরা এদিন রাঁচিতে বিধানসভা ঘেরাও অভিযানের ডাক দিয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রীর জন্মদিনের দিন পুরনো বিধানসভা ভবন থেকে আন্দোলনকারীরা মিছিল করে বিধানসভা চত্বরের দিকে এগোতে গেলে পুলিশ ব্যারিকেড ভেঙে এগোনোর চেষ্টা করেন তাঁরা। এর পরেই ছাত্রদের মিছিল আটকাতে পুলিশ লাঠি চার্জ করে বলে অভিযোগ। মিছিল ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাসও ছোড়া হয়। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে বহু পড়ুয়া আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ।

রাহুল গান্ধীর অবস্থান

সোশ্যাল মিডিয়া ইনস্টাগ্রামে একটি ‘আস্ক মি এনিথিং’ (Ask Me Anything) সেশনে এক অনুরাগী রাহুল গান্ধীকে ঝাড়খণ্ডের এই ছাত্র আন্দোলনকে সমর্থন করার আহ্বান জানান। জবাবে রাহুল গান্ধী বলেন, 'দেশে চলা ছাত্র আন্দোলনগুলো আসলে বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার বিরুদ্ধে। কোটা ও দেরাদুনেও আমি এটি পরিষ্কার করে বলেছি, এবং এলাহাবাদেও বলব-আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে; এটি এখন অত্যধিক ব্যয়বহুল এবং নিপীড়নমূলক। কেন্দ্রীয় সরকার, ঝাড়খণ্ড সরকার কিংবা কংগ্রেসের সরকার-সব সরকারেরই উচিত শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারে পদক্ষেপ নেওয়া।'

জেএসসি-জেএসএসসি পরীক্ষায় কথিত অনিয়মের প্রতিবাদে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন চাকরিপ্রার্থীরা। তাঁদের দাবি, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে এবং পরীক্ষাব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কার আনতে হবে। ঝাড়খণ্ড সরকার ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, পড়ুয়াদের ৯৮ শতাংশ দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে। তবে আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, মোট ১৩টি পরীক্ষার মধ্যে মাত্র তিনটি পরীক্ষা বাতিলের বিষয়ে সরকার সম্মতি জানিয়েছে। ফলে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরকারের মধ্যে মূল মতবিরোধ এখনও রয়েছে। বিশেষ করে জেএসএসসি-সিজিএল পরীক্ষা বাতিল এবং কথিত অনিয়মের তদন্তে সিবিআইকে দায়িত্ব দেওয়ার দাবি নিয়ে এখনও সমাধান হয়নি। ছাত্রদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপও বাড়ছে। রাহুল গান্ধীর পাশাপাশি বিজেপির নেতারাও ঝাড়খণ্ড সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করেছেন। অন্যদিকে, আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে তাঁদের প্রধান লক্ষ্য নিয়োগ পরীক্ষায় কথিত অনিয়মের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং পরীক্ষাব্যবস্থার সংস্কার। ১৭ দিন ধরে চলা এই আন্দোলনের মধ্যে সোমবারের বিধানসভা অভিযান পরিস্থিতিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। বলপ্রয়োগ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও শুরু হয়েছে। এখন নজর রয়েছে সরকার ও আন্দোলনরত পড়ুয়াদের মধ্যে ফের কোনও আলোচনার মাধ্যমে অচলাবস্থা কাটে কিনা।