Rahul Gandhi on Delhi Police: 'ডান্ডার জবাব...,' প্রতিবাদের ভিন্ন সুর শোনালেন ছাত্র, পুলিশি ‘নির্যাতন’ নিয়ে সরব রাহুল
Rahul Gandhi on Delhi Police: এদিন ন্যাশনাল স্টুডেন্ট্স ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়ার (এনএসইউআই) আর এক ছাত্রীকেও সাংবাদিক বৈঠকে এগিয়ে দেন রাহুল গান্ধী। তাঁকে ‘শেরনি’ বলে উল্লেখ করেন তিনি বলেন, মারধরের শিকার হয়েও ওই ছাত্রী ভয় পাননি, দমে যাননি।
Rahul Gandhi on Delhi Police: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে চলা আন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে ছাত্রছাত্রীদের আটক করে বেধড়ক মারধর এবং হেনস্থার অভিযোগ তুলে দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে সরব হলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। বুধবার নিগৃহীত পড়ুয়াদের সঙ্গে নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন তিনি। কংগ্রেস নেতার অভিযোগ, দিল্লি পুলিশের মারধরের জেরে কেরলের এক ছাত্রী শ্রবণশক্তি হারিয়ে ফেলেছেন। আঘাত করা হয়েছে এক জনের যৌনাঙ্গেও। শুধু তাই নয়, রাহুল গান্ধীর পাশে দাঁড়িয়ে এক ছাত্র বাঁশি বাজিয়ে ঘৃণার বিরুদ্ধে ভালোবাসার বার্তা দিলেন। কংগ্রেস সাংসদের দাবি, পুলিশের ডান্ডার জবাব এ ভাবেই অন্য ডান্ডার (বাঁশি) মাধ্যমে দেবেন তাঁরা। হিংসা ও বিদ্বেষের বদলে ভালোবাসার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার এই প্রয়াস নজর কেড়েছে।

বুধবার সংবাদিক সম্মেলনে বাঁশি শিল্পীকে সামনে আনেন রাহুল গান্ধী। শিল্পীর বাঁশিতে বেজে ওঠে ‘বৈষ্ণব জন তো তেনে কহিয়ে’ গানটি। পুলিশের লাঠির জবাবে প্রতীকীভাবে বাঁশির সুর তুলে ধরেন কংগ্রেস নেতা। রাহুল গান্ধী বলেন, ‘ডান্ডে কা জবাব ডান্ডে সে,’অর্থাৎ লাঠির জবাব বাঁশি দিয়ে। বাঁশি শিল্পীকে উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে প্রতিবাদের ভিন্ন এক প্রতীকী বার্তা তুলে ধরেন তিনি। সংবাদিক সম্মেলনে বাঁশি শিল্পী সমর বলেন, '১১ অক্টোবর আমাকে আটক করা হয়েছিল, কিন্তু বজরং দল ও আরএসএস-এর গুন্ডারা আমাদের আটক করায়। আমার কাছে তাদের ভিডিও আছে, যেখানে তারা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের লাঠি ও পাথর দিয়ে হুমকি দিচ্ছে। তারা গিয়ে পুলিশকে খবর দেয়, আর পুলিশ আমাদের আটক করে। ফোন কেড়ে নিয়ে ফরম্যাট করে দেওয়া হয়। সেখানে অন্তত ১৫ জন মহিলা ছিলেন। ২০ জুলাইও আমাকে লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়।'
এদিন ন্যাশনাল স্টুডেন্ট্স ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়ার (এনএসইউআই) আর এক ছাত্রীকেও সাংবাদিক বৈঠকে এগিয়ে দেন রাহুল গান্ধী। তাঁকে ‘শেরনি’ বলে উল্লেখ করেন তিনি বলেন, মারধরের শিকার হয়েও ওই ছাত্রী ভয় পাননি, দমে যাননি। ওই যুবতী অভিযোগ করেন, চঞ্চল যাদব নামের এক মহিলা কনস্টেবল তাঁকে ঘাড় ধরে বাসের সিটে ফেলে দেন। প্রতিবাদ করায় নখ দিয়ে তাঁর মুখ ও কানের পাশে আঁচড়ে দেওয়া হয় এবং সজোরে চড় মারা হয়। এখানেই না থেমে, থানার ভিতরেও তাঁর উপর অত্যাচার চালানো হয় বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। অভিযোগকারী ছাত্রীর কথায়, ‘থানায় ১০৭ নম্বর ঘরে আমাদের নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সাদা পোশাকের মহিলা পুলিশকর্মীরা আমাদের মারধর করেছেন। আমাদের হাতে-পায়ে কালশিটে দাগ হয়ে গিয়েছে। চঞ্চল যাদব নামের ওই কনস্টেবল বলছিলেন, ‘এত ঘন ঘন তোমরা এখানে এসো না। আমরা কী করতে পারি, দেখিয়ে দেব। শুধু অপেক্ষা করো। তোমাদের নেতাদের সম্পর্কে আমরা সব জানি।’ কোনও পুরুষ পুলিশকর্মীও ওঁকে বাধা দেননি।’
রাহুল যাঁকে ‘শেরনি’ বলেছেন, তিনিই পুলিশের বিরুদ্ধে অন্য এক ছাত্রীর যৌনাঙ্গে আঘাত করার অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, পুলিশি হেনস্থার হাত থেকে তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা করছিলেন কেরলমের এক ছাত্রী। তাঁর যৌনাঙ্গে আঘাত করা হয়। রাস্তায় ফেলে টানতে টানতে নিয়ে যাওয়া হয় থানায়। ওই সাংবাদিক বৈঠকে রাহুল গান্ধী জানান, কেরলের আর এক ছাত্রী আথিরার একটি কানে শোনার ক্ষমতা চলে গিয়েছে। পুলিশের আঘাতেই তাঁর কানের ক্ষতি হয়েছে এবং শ্রবণশক্তি প্রভাবিত হয়েছে বলে অভিযোগ করেন রাহুল। কংগ্রেস নেতা আরও বলেন, এর আগে তিনি এমন এক যুবকের কথা তুলে ধরেছিলেন, যিনি একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। এবার এক ছাত্রীর একটি কানে শোনার ক্ষমতা হারানোর ঘটনাও সামনে এসেছে বলে জানান তিনি। উল্লেখ্য, রাহুল গান্ধীর সামনে দাঁড়িয়ে বিক্ষুব্ধ পড়ুয়াদের এই দাবি একতরফা। এ বিষয়ে পুলিশের কোনও বক্তব্য এখনও জানা যায়নি।
E-Paper

