Rahul Gandhi: 'অনুগত ভৃত্যের মতো...,' ভারতীয় নাবিকদের মৃত্যুতে কেন্দ্রকে 'নীরবতা' তোপ রাহুলের
Rahul Gandhi: মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিওর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। সেই কথোপকথনের কথা জানিয়ে এক্স হ্যান্ডেলে বিদেশমন্ত্রী লেখেন, আলোচনায় তিনি ভারতীয় নাবিকদের মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং এই ধরনের হামলাকে অগ্রহণযোগ্য বলে মার্কিন প্রশাসনকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন।
Rahul Gandhi: মার্কিন হামলায় তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুর প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানালেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর অভিযোগ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ না করে রীতিমতো ‘দাদাগিরি’ করছে, আর কেন্দ্রীয় সরকার তার জবাব দিতে ব্যর্থ। রাহুল গান্ধীর স্পষ্ট মত, প্রধানমন্ত্রী কখনই ভারতের সম্মান রক্ষা করবেন না।

বুধবার ওমান উপকূলের কাছে ‘এমটি সেত্তেবেলো’ নামের একটি ট্যাঙ্কারে মার্কিন হামলা হয়েছে। এই ঘটনায় নিখোঁজ হওয়া ৩ জন ভারতীয় নাবিকের প্রাণ গেছে। ওই জাহাজে মোট ২৪ জন ভারতীয় ছিলেন। যদিও এর মধ্যে ২১ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও ৩ জনের প্রাণ বাঁচানো যায়নি। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন হিমাচল প্রদেশের তরুণ ডেক ক্যাডেট আদিত্য শর্মা (২৩), উত্তর প্রদেশের শিবানন্দ চৌরাসিয়া এবং বিশাখাপত্তনমের অভিজ্ঞ মেরিন ইঞ্জিনিয়ার পাটনালা সুরেশ (৪৪)। ৩ ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। দিকে দিকে চলছে প্রতিবাদ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে ‘সংঘাতে’ জড়িয়েছে নয়া দিল্লি। এই টানাপোড়েনের মধ্যেই মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিওর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। সেই কথোপকথনের কথা জানিয়ে এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করেন বিদেশমন্ত্রী। সেখানে লেখেন, আলোচনায় তিনি ভারতীয় নাবিকদের মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং এই ধরনের হামলাকে অগ্রহণযোগ্য বলে মার্কিন প্রশাসনকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন।
কিন্তু বিদেশমন্ত্রীর এই পোস্ট মোটেও ভালোভাবে নেয়নি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। পরে মার্কিন বিদেশমন্ত্রকের তরফে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, হরমুজ প্রণালী এলাকায় শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য মার্কিন বাহিনী পদক্ষেপ নিয়েছে এবং কোনও বাণিজ্যিক জাহাজ সেই অবরোধ অমান্য করলে তা সহ্য করা হবে না। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও শনিবার ভারতের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন। রুবিও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ওই জলপথে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার লক্ষ্যেই মার্কিন বাহিনী অবরোধ জারি করেছে। ওই প্রণালীতে অবরোধ লঙ্ঘন কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।’ এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করেই কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিরোধী শিবিরের দাবি, ভারতীয় নাগরিকদের মৃত্যুর ঘটনায় সমবেদনা বা দুঃখপ্রকাশের বদলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই ভাষা ‘কঠোর’ এবং ‘নির্দেশমূলক।’
কী বললেন রাহুল গান্ধী?
এক্স হ্যান্ডেলে কংগ্রেস নেতা লিখেছেন, 'মার্কিন হামলায় তিনজন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুর হয়েছে, তারপরেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নির্দেশ দিয়ে যাচ্ছে। কোনও স্বাধীন দেশ তাদের এই নির্দেশ দেওয়াটা সহ্য করবেই না। কিন্তু আমাদের প্রধানমন্ত্রী? তিনি চুপ। অনুগত ভৃত্যের মতো নির্দেশ মেনে চলেছেন।' রাহুল গান্ধী আরও দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই ঘটনায় ভারতের মর্যাদা রক্ষার পরিবর্তে নীরব থেকেছেন। তাঁর ভাষায়, কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থান দেশের স্বার্থের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। দেশের মর্যাদা রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী ব্যর্থ বলেও অভিযোগ করেন কংগ্রেস নেতা। এদিকে, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেরও অভিযোগ, ঘটনার তিন দিন পরেও প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে কোনও প্রকাশ্য বিবৃতি বা শোকবার্তা দেননি। বিদেশনীতি সংক্রান্ত বিষয়ে ভারতীয় নাগরিকদের জীবনকে অবহেলা করা যায় না। ঘটনার জবাবদিহি, স্পষ্ট ব্যাখ্যা এবং নিহতদের পরিবারের জন্য ন্যায় বিচারের দাবি জানান তিনি।
এই ইস্যুতে কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ পবন খেরাও সরব হয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, ভারতীয় নাবিকদের মৃত্যুর ঘটনায় প্রথমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে জবাবদিহি ও ক্ষমাপ্রার্থনা চাওয়া উচিত ছিল। পরিবর্তে ওয়াশিংটনের তরফে নতুন নির্দেশমূলক অবস্থান সামনে এসেছে। ভারতীয় নাবিকদের মৃত্যু নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। কেন্দ্র এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বিরোধীদের অভিযোগের জবাব না দিলেও, এই ঘটনা আগামী দিনে ভারত-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক এবং দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বড় বিতর্কের বিষয় হয়ে উঠতে পারে।
E-Paper

