লোকসভায় রাহুলের ‘অন্ধভক্ত’ মন্তব্যে তুমুল হইচই, অসংসদীয় ভাষা ব্যবহারের অভিযোগ বিজেপির
অ্যান্টি-পেপার লিক বিল নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে রাহুল গান্ধী বলেন, সম্প্রতি তাঁর এক ১৮ বছরের ছাত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছিল। সেই কথোপকথনের উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওই ছাত্রী তাঁকে সমাজের তিন ধরনের মানুষের কথা বলেছিল। প্রথম শ্রেণিতে রয়েছে ছাত্ররা, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ‘বোকা’ এবং তৃতীয় শ্রেণিতে 'অন্ধভক্ত'।
লোকসভায় অ্যান্টি-পেপার লিক বিল নিয়ে আলোচনার সময় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বুধবার তুমুল হইচই শুরু হয়। বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে ‘ছাত্র, বোকা এবং অন্ধভক্ত"—এই তিন ধরনের মানুষের কথা উল্লেখ করেন। তাঁর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে শাসক এনডিএ জোট তীব্র আপত্তি জানায় এবং একে "অসংসদীয় ভাষা’ বলে দাবি করে।

অ্যান্টি-পেপার লিক বিল নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে রাহুল গান্ধী বলেন, সম্প্রতি তাঁর এক ১৮ বছরের ছাত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছিল। সেই কথোপকথনের উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওই ছাত্রী তাঁকে সমাজের তিন ধরনের মানুষের কথা বলেছিল। প্রথম শ্রেণিতে রয়েছে ছাত্ররা, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ‘বোকা’ এবং তৃতীয় শ্রেণিতে 'অন্ধভক্ত'।
রাহুল গান্ধী বলেন, একজন ছাত্রের কাছে সত্যই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি মহাত্মা গান্ধীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলেন, সত্যের প্রতি একজন ছাত্রের বিশ্বাস থাকে এবং সে গর্বের সঙ্গে সত্যকে ধারণ করে। এরপর তিনি প্রশ্ন করেন, ‘যারা ছাত্র নয়, তারা কেমন?’ তাঁর দাবি, উত্তরে ওই ছাত্রী বলেন, এই ধরনের মানুষ নিজেদের একটি বড় ভাবমূর্তি তৈরি করার চেষ্টা করে, কারণ তারা বাস্তব সত্যকে আড়াল করতে চায়।
এরপর রাহুল গান্ধী বলেন, তিনি ওই ছাত্রীর কাছে জানতে চান, "অন্ধভক্ত" কাদের বলা যায়? তাঁর দাবি, ছাত্রীটি উত্তর দেয়, ‘অন্ধভক্ত হল এমন একজন ব্যক্তি, যিনি সম্পূর্ণভাবে বিশ্বাস করেন যে আরেকজন বোকাই ঈশ্বর।’ এই বক্তব্য উদ্ধৃত করতেই লোকসভায় শোরগোল শুরু হয়।
রাহুল গান্ধীর মন্তব্যে আপত্তি জানিয়ে কেন্দ্রীয় সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করেন। তিনি বলেন, বিরোধী দলনেতার বক্তব্যে অসংসদীয় ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে। রিজিজু বলেন, ‘আমরা আপনার বক্তব্যে বাধা দিতে চাই না, কিন্তু আপনি অসংসদীয় শব্দ ব্যবহার করেছেন। আপনি বক্তব্য চালিয়ে যান, তবে এই ধরনের ভাষা ব্যবহার করবেন না।’
শাসকদলের সাংসদরাও রাহুল গান্ধীর মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে হইচই শুরু করেন। এর ফলে কিছু সময়ের জন্য লোকসভার পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। হট্টগোলের মধ্যেই রাহুল গান্ধী লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার উদ্দেশে বলেন, সংসদে শৃঙ্খলা বজায় রাখা স্পিকারের দায়িত্ব। তাঁর অভিযোগ, তিনি মুখ খুললেই ট্রেজারি বেঞ্চের সদস্যরা বাধা দিতে শুরু করেন।
অন্যদিকে, বিজেপি রাহুল গান্ধীর বক্তব্যকে সংসদের মর্যাদার পরিপন্থী বলে দাবি করেছে। শাসকদলের মতে, সংসদে এ ধরনের শব্দচয়ন গ্রহণযোগ্য নয় এবং বিরোধী দলনেতার কাছ থেকে আরও দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশিত।
অন্যদিকে, কংগ্রেসের দাবি, রাহুল গান্ধী একটি ছাত্রীর সঙ্গে হওয়া কথোপকথনের উদাহরণ তুলে ধরেছিলেন এবং তাঁর বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। তবে এই মন্তব্য ঘিরে সংসদের ভিতরে ও বাইরে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
অ্যান্টি-পেপার লিক বিল নিয়ে আলোচনা চলাকালীন এই বিতর্ক সংসদের মূল আলোচনাকে অনেকটাই ছাপিয়ে যায়। ছাত্র আন্দোলন, পরীক্ষায় দুর্নীতি এবং সরকারের ভূমিকা নিয়ে বিরোধীদের আক্রমণের মাঝেই রাহুল গান্ধীর "ছাত্র, বোকা ও অন্ধভক্ত" মন্তব্য নতুন রাজনৈতিক তরজা সৃষ্টি করেছে।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


