প্রতিবাদের ছবি প্রদর্শনীতে বাধা! ‘সময়টা ঠিক নয়’, প্রিয়াঙ্কার ছেলে রায়হানকে জানাল রাজস্থান সরকার
অভিযোগ, ছবিগুলির সময় ও প্রেক্ষাপট ঠিক নয়। এই ঘটনায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে রাজধানীর রাজনীতিতে। কারণ, ছবিগুলি তুলেছিলেন কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরার ছেলে রায়হান বঢরা।
দিল্লিতে সাম্প্রতিক যুব আন্দোলনের ছবি প্রদর্শনীতে রাখার কথা ছিল। কিন্তু প্রদর্শনী শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে আপত্তি জানাল কর্তৃপক্ষ। বাদ দিতে হল ১০৫টি ছবির মধ্যে ৭৪টি। অভিযোগ, ছবিগুলির সময় ও প্রেক্ষাপট ঠিক নয়। এই ঘটনায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে রাজধানীর রাজনীতিতে। কারণ, ছবিগুলি তুলেছিলেন কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরার ছেলে রায়হান বঢরা। তাঁর অভিযোগ, রাজস্থান সরকারের অধীনস্থ দিল্লির বিকানের হাউসে তাঁর প্রদর্শনীর অধিকাংশ ছবিই সরিয়ে দিতে বলা হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় প্রদর্শনী শুরুর আগেই এই নির্দেশ আসে।

কী ছিল ছবিতে?
‘নো আইডিয়া ইজ ফাইনাল’ নামে ওই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছিল দিল্লির বিকানের হাউসের সেন্টার ফর কনটেম্পরারি আর্টে। রায়হানের বক্তব্য, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তাঁর চোখের সামনে যে আন্দোলনগুলি হচ্ছে, সেগুলিকে ক্যামেরায় ধরে রাখতেই এই উদ্যোগ। মানুষের একসঙ্গে পথে নামা, প্রতিবাদের ছন্দ এবং সেই মুহূর্তের আবেগ ছবিতে তুলে ধরতে চেয়েছিলেন তিনি।
সম্প্রতি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে একাধিক প্রতিবাদ কর্মসূচি হয়েছে। ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে এই আন্দোলন চলছে। সেই আন্দোলনগুলিরই কিছু মুহূর্ত ধরা পড়েছিল রায়হানের ক্যামেরায়। ১১ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের দিকে কংগ্রেসের মিছিলের ছবিও তিনি সমাজমাধ্যমে প্রকাশ করেছিলেন। রায়হানের দাবি, ছবিগুলিতে কোনও রাজনৈতিক মন্তব্য ছিল না। সেগুলি ছিল আন্দোলনের দৃশ্যের নিছক আলোকচিত্র।
কেন সরানো হল ছবি?
রায়হান জানিয়েছেন, প্রদর্শনী শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে তাঁকে ছবিগুলি সরিয়ে দিতে বলা হয়। তাঁর দাবি, বিকেল সাড়ে তিনটের সময় বিকানের হাউসের উপ আবাসিক কমিশনার মনোজ সিংয়ের সই করা একটি লিখিত নির্দেশ পান তিনি। সেখানে প্রদর্শনীর বুকিং সংক্রান্ত নিয়ম না মানার কথা বলা হয়েছিল।
এর আগেও আবাসিক কমিশনার তাঁকে জানিয়েছিলেন, এই সময় এবং পরিস্থিতিতে ছবিগুলি প্রদর্শন করা ঠিক হবে না। রায়হানের দাবি, মোট ১০৫টি ছবির মধ্যে ৭৫টি সরিয়ে দিতে বলা হয়েছিল। সেই তালিকায় জাতীয় পতাকা থাকা দু'টি ছবিও ছিল। তিনি প্রথমে ওই দু'টি ছবি সরাতে রাজি হননি। পরে তাঁর অনুপস্থিতিতে কর্তৃপক্ষ একটি ছবি সরিয়ে দেয়। শেষ পর্যন্ত ৭৪টি ছবি বাদ যায়। রায়হানের আরও দাবি, প্রদর্শনীর পরিকল্পনা তিনি ১৫ অক্টোবর কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিলেন। ছবিগুলির তালিকা অনুমোদনের জন্য জমা দিতে হবে, এমন কোনও নিয়মের কথাও তাঁকে আগে জানানো হয়নি।
‘যুবদের কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে’, বললেন প্রিয়াঙ্কা
এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। তাঁর বক্তব্য, ছবিগুলিতে কারও বিরুদ্ধে অবমাননাকর মন্তব্য ছিল না। শুধু প্রতিবাদের দৃশ্য তুলে ধরা হয়েছিল। তাতেও আপত্তি ওঠায় প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। প্রিয়াঙ্কার অভিযোগ, দেশের যুবদের কণ্ঠরোধ করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। আজ তাঁর ছেলের কাজ আটকে দেওয়া হচ্ছে, কাল অন্য কোনও শিল্পীর কাজেও বাধা আসতে পারে।
কংগ্রেস নেতা পবন খেরাও এই ঘটনার সমালোচনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, জাতীয় পতাকা থাকা ছবিও বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে, বিকানের হাউস কর্তৃপক্ষের তরফে এই অভিযোগের কোনও আনুষ্ঠানিক জবাব পাওয়া যায়নি। বিজেপিও তখন পর্যন্ত এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানায়নি। সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে রায়হান জানিয়েছেন, বাদ দেওয়া ছবিগুলি অন্য কোথাও প্রদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। তবে কোথায় এবং কবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
প্রদর্শনীটি ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত চলার কথা। কিন্তু তার আগেই ছবিগুলি সরানোর ঘটনাকে ঘিরে শিল্পের স্বাধীনতা এবং রাজনৈতিক মতপ্রকাশের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য প্রকাশ্যে না আসায় বিতর্কের পুরো ছবিটিও এখনও স্পষ্ট নয়।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


