Raja Raghuvanshi Murder Case Update: ‘আমি নির্দোষ, আমাকে ফাঁসানো হয়েছে’, সুপ্রিম কোর্টে দাবি সোনম রঘুবংশীর; বহাল জামিন
সুপ্রিম কোর্টে দাখিল করা হলফনামায় সোনম দাবি করেন, তদন্তকারী সংস্থার গোটা মামলা কেবল সন্দেহ এবং পারিপার্শ্বিক প্রমাণের উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে কোনও প্রত্যক্ষ বা নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। শুধুমাত্র অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে দোষী বলা যায় না বলেও তিনি আদালতে দাবি করেন।
Raja Raghuvanshi Murder Case Update: মেঘালয়ের বহুল আলোচিত রাজা রঘুবংশী হত্যা মামলায় প্রধান অভিযুক্ত সোনম রঘুবংশী সুপ্রিম কোর্টে দাবি করেছেন, তিনি সম্পূর্ণ নির্দোষ এবং তাঁকে পরিকল্পিতভাবে এই মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। মেঘালয় হাই কোর্ট তাঁর জামিন বহাল রাখার পর সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়। তবে আপাতত সোনমকে ফের জেলে পাঠাতে রাজি হয়নি দেশের শীর্ষ আদালত।

সুপ্রিম কোর্টে দাখিল করা হলফনামায় সোনম দাবি করেন, তদন্তকারী সংস্থার গোটা মামলা কেবল সন্দেহ এবং পারিপার্শ্বিক প্রমাণের উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে কোনও প্রত্যক্ষ বা নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। শুধুমাত্র অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে দোষী বলা যায় না বলেও তিনি আদালতে দাবি করেন।
হলফনামায় সোনম বলেন, 'আমি নির্দোষ। আমাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থা অনুমান ও সন্দেহের উপর ভিত্তি করে মামলা সাজিয়েছে, প্রকৃত প্রমাণের উপর নয়।' তাই তাঁর জামিন বাতিল না করার আবেদন জানান তিনি। শুনানির সময় সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দেয়, হাই কোর্টের নির্দেশে সোনম ইতিমধ্যেই জামিনে মুক্ত হয়েছেন। এই অবস্থায় তাঁকে ফের জেলে পাঠাতে আদালত রাজি নয়। যদিও বিচারপতিরা মন্তব্য করেন, হাই কোর্ট যে যুক্তির ভিত্তিতে জামিন দিয়েছে, তা নিয়ে তাঁদের কিছু প্রশ্ন রয়েছে। তবুও এই পর্যায়ে জামিনের নির্দেশে হস্তক্ষেপ করতে চায় না শীর্ষ আদালত।
আদালত আরও স্পষ্ট করে জানায়, কোনও অভিযুক্তের অপরাধ আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আইন অনুযায়ী তাঁকে নির্দোষ বলেই ধরা হয়। মামলার বিচার চলাকালীন সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই শেষ পর্যন্ত সত্য সামনে আসবে। শুনানিতে সোনমের আইনজীবী অভিযোগ করেন, গ্রেফতারের সময় তাঁর মক্কেলকে গ্রেফতারের কারণ যথাযথভাবে জানানো হয়নি এবং আইনি সহায়তা পাওয়ার সুযোগও দেওয়া হয়নি। তবে সুপ্রিম কোর্ট প্রশ্ন তোলে, এই অভিযোগগুলি আগের জামিন শুনানির সময় নিম্ন আদালতে কেন তোলা হয়নি।
অন্যদিকে, মেঘালয় সরকারের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতে দাবি করেন, এটি একটি অত্যন্ত নৃশংস ও পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তাঁর বক্তব্য, গ্রেফতারের নথিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) ১০৩ ধারার পরিবর্তে ভুলবশত ৪০৩ ধারা লেখা হয়েছিল। এটি নিছক টাইপিংয়ের ভুল, যার ফলে অভিযুক্তের কোনও আইনি ক্ষতি হয়নি। শুধু এই কারিগরি ত্রুটির ভিত্তিতে জামিন দেওয়া উচিত ছিল না বলেও তিনি যুক্তি দেন।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের মে মাসে মধুচন্দ্রিমায় মেঘালয় গিয়ে নিখোঁজ হন ইন্দোরের ব্যবসায়ী রাজা রঘুবংশী ও তাঁর স্ত্রী সোনম। পরে সোহরার ওয়েইসাওডং জলপ্রপাতের কাছে একটি খাদ থেকে রাজার দেহ উদ্ধার হয়। তদন্তে মেঘালয় পুলিশ অভিযোগ করে, প্রেমিক রাজ কুশওয়াহা এবং আরও কয়েকজনের সঙ্গে যোগসাজশ করে স্বামীকে খুনের ষড়যন্ত্র করেছিলেন সোনম। ইতিমধ্যেই ৭০০-র বেশি পাতার চার্জশিট আদালতে জমা পড়েছে এবং মামলার বিচারপর্ব চলছে। সাক্ষীদের জেরা ও প্রমাণ উপস্থাপনের মাধ্যমে আদালতেই নির্ধারিত হবে সোনম রঘুবংশী সত্যিই নির্দোষ, নাকি তিনি এই হত্যাকাণ্ডের মূল ষড়যন্ত্রকারী।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


