Rajnath on POK From Kargil: ‘পিওকে ছাড়া পাকিস্তানের সঙ্গে কোনও আলোচনা নয়’, কার্গিল বিজয় দিবসে কড়া বার্তা রাজনাথের

কার্গিল বিজয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে রাজনাথ সিং বলেন, 'পিওকে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা পাকিস্তান বেআইনিভাবে দখল করে রেখেছে। তাই পাকিস্তানের সঙ্গে যদি কোনও আলোচনা হয়, তা হবে শুধুমাত্র পিওকে নিয়েই।' তাঁর এই মন্তব্য কেন্দ্রীয় সরকারের দীর্ঘদিনের অবস্থানকেই আরও একবার স্পষ্ট করে দিল।

Published on: Jul 26, 2026, 12:41:20 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

কার্গিল বিজয় দিবসের মঞ্চ থেকে ফের পাকিস্তানকে কড়া বার্তা দিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। রবিবার লাদাখের দ্রাসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, পাকিস্তানের যে কোনও ‘দুঃসাহসিক পদক্ষেপ’-এর জবাব ভারত এমনভাবে দেবে, যা তাদের কল্পনারও বাইরে। একইসঙ্গে তিনি ঘোষণা করেন, পাকিস্তানের সঙ্গে কোনও দ্বিপাক্ষিক আলোচনা হলে তা শুধুমাত্র পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর (পিওকে) নিয়েই হবে। এর বাইরে অন্য কোনও বিষয়ে আলোচনার প্রশ্নই ওঠে না।

পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কড়া আক্রমণ শানিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ভারত উন্নয়নের পথে এগোচ্ছে, আর পাকিস্তান উগ্রপন্থার আঁতুড়ঘর তৈরি করছে। (PTI)
পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কড়া আক্রমণ শানিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ভারত উন্নয়নের পথে এগোচ্ছে, আর পাকিস্তান উগ্রপন্থার আঁতুড়ঘর তৈরি করছে। (PTI)

কার্গিল বিজয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে রাজনাথ সিং বলেন, 'পিওকে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা পাকিস্তান বেআইনিভাবে দখল করে রেখেছে। তাই পাকিস্তানের সঙ্গে যদি কোনও আলোচনা হয়, তা হবে শুধুমাত্র পিওকে নিয়েই।' তাঁর এই মন্তব্য কেন্দ্রীয় সরকারের দীর্ঘদিনের অবস্থানকেই আরও একবার স্পষ্ট করে দিল।

পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কড়া আক্রমণ শানিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ভারত উন্নয়নের পথে এগোচ্ছে, আর পাকিস্তান উগ্রপন্থার আঁতুড়ঘর তৈরি করছে। তাঁর কথায়, 'ভারত ডেটা সেন্টার গড়ে তুলছে, আর পাকিস্তান তৈরি করছে র‌্যাডিক্যাল সেন্টার।' এই মন্তব্যের মাধ্যমে দুই দেশের উন্নয়ন ও নীতিগত অবস্থানের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য তুলে ধরেন তিনি।

সম্প্রতি পরিচালিত ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর উল্লেখ করেও সন্ত্রাসবাদকে মদতদাতাদের উদ্দেশে কঠোর বার্তা দেন রাজনাথ সিং। তিনি বলেন, অপারেশন সিঁদুর দেখিয়ে দিয়েছে, যারা সন্ত্রাসবাদকে প্রশ্রয় দেয় বা তাতে জড়িত থাকে, তাদের পরিণতি কী হতে পারে। তাঁর বক্তব্য, ভারতের নিরাপত্তার প্রশ্নে সরকার এবং সেনাবাহিনী কোনও আপস করবে না।

রাজনাথ সিং আরও বলেন, ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতার কখনও অভাব ছিল না। অতীতে ঘাটতি ছিল শুধুমাত্র রাজনৈতিক সদিচ্ছার। বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার সেই অভাব দূর করেছে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর কথায়, ভারতের সেনাবাহিনী আগে যেমন শক্তিশালী ছিল, এখনও তেমনই রয়েছে। পার্থক্য একটাই—এখন রাজনৈতিক সদিচ্ছার কোনও অভাব নেই। দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ স্বাধীনতা সেনাবাহিনীকে দেওয়া হয়েছে।

সীমান্তে দায়িত্ব পালনকারী জওয়ানদের উদ্দেশে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, যতদিন তাঁরা দেশের সীমান্ত পাহারা দিচ্ছেন, ততদিন ভারতের দিকে কুদৃষ্টি দেওয়ার সাহস কেউ দেখাতে পারবে না। সেনাবাহিনীর প্রতি কেন্দ্র সরকারের পূর্ণ আস্থা রয়েছে বলেও তিনি জানান।

কার্গিল যুদ্ধের বীর শহিদদের স্মরণ করে রাজনাথ সিং ক্যাপ্টেন বিক্রম বাত্রার ঐতিহাসিক স্লোগান ‘ইয়ে দিল মাঙ্গে মোর’-এরও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই একটি বাক্যই ভারতীয় সেনাদের সাহস, আত্মবিশ্বাস এবং অদম্য মনোবলের প্রতীক। তাঁর কথায়, 'সারা বিশ্বের উচিত ভারতীয় সেনাদের এই মানসিকতা বোঝা। আমাদের প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানেরও তা উপলব্ধি করা প্রয়োজন।'

কার্গিল বিজয় দিবসে শহিদ সেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রাজনাথ সিংয়ের এই বক্তব্য শুধু অতীতের বীরত্বগাথাকেই স্মরণ করায়নি, বরং বর্তমান নিরাপত্তা নীতি, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা এবং পাকিস্তানের প্রতি ভারতের কঠোর অবস্থানও আরও একবার স্পষ্ট করে দিয়েছে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More