SCO 2026: 'সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় দ্বিচারিতা...,' এসসিও বৈঠকে পাকিস্তানকে ইঙ্গিতবাহী বার্তা রাজনাথের

SCO 2026: এদিন তাজিকিস্তানের রাজধানী দুশানবেতে অনুষ্ঠিত হয়েছে এসসিও-র প্রতিরক্ষা মন্ত্রীদের বৈঠক। সেখানে পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ইশাক দারও উপস্থিত ছিলেন। সেই মঞ্চে থেকেই সন্ত্রাসবাদ নিয়ে পাকিস্তানকে কড়া বার্তা দিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং।

Published on: Oct 20, 2026, 15:17:47 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

SCO 2026: সন্ত্রাসবাদ নিয়ে দ্বিচারিতার কোনও জায়গা নেই। যে সমস্ত দেশ জঙ্গিদের আশ্রয় দেয় তারা রেহাই পাবে না। মঙ্গলবার সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও)-র বৈঠকে পাকিস্তানকে তোপ দাগলেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং (Rajnath Singh)।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং (ANI Photo)
প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং (ANI Photo)

এদিন তাজিকিস্তানের রাজধানী দুশানবেতে অনুষ্ঠিত হয়েছে এসসিও-র প্রতিরক্ষা মন্ত্রীদের বৈঠক। সেখানে পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ইশাক দারও উপস্থিত ছিলেন। সেই মঞ্চে থেকেই সন্ত্রাসবাদ নিয়ে পাকিস্তানকে কড়া বার্তা দিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। এদিন বক্তৃতা করতে গিয়ে তিনি বলেন, শান্তি ও সার্বিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে সন্ত্রাসবাদ আজও অন্যতম অন্যতম বড় হুমকি। এর প্রভাব শুধু নিরীহ মানুষের প্রাণহানির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং তার চেয়েও অনেক বেশি সুদূরপ্রসারী। তাঁর কথায়, 'সন্ত্রাসবাদ শুধু নিরীহ মানুষের প্রাণহানিই ঘটায় না, বরং বিনিয়োগ ও বাণিজ্যকেও ব্যাহত করে। এটি সমাজকে কট্টরপন্থী করে তোলে এবং আমাদের যুবসমাজকে প্রাপ্য সুযোগ থেকে বঞ্চিত করে।'

সরাসরি পাকিস্তানের নাম উল্লেখ না করে রাজনাথ সিং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, 'সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় দ্বিচারিতার কোনও জায়গা নেই। যারা জঙ্গিদের অর্থ জোগায়, সমর্থন বা নিরাপদ আশ্রয় দেয়, তাদের কোনও জায়গা নেই। সন্ত্রাসবাদের সমগ্র ইকোসিস্টেমকে দৃঢ় এবং সম্মিলিতভাবে ভেঙে ফেলতে হবে।' পাকিস্তান থেকে চলা সীমান্তপার সন্ত্রাসবাদ নিয়ে সম্প্রতি ভারতের অনড় অবস্থানের কথা ফের মনে করিয়ে দেন রাজনাথ সিং। গত ১৫ অক্টোবরও তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে পাকিস্তান থেকে ভারতে নতুন জঙ্গি হামলার চেষ্টা হলে আরও কঠোর প্রত্যাঘাতের মুখে পড়তে হবে। নয়াদিল্লিতে আয়োজিত 'টাইমস নেটওয়ার্ক ডিফেন্স কনক্লেভ'-এ বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, আলোচনা, সহাবস্থান এবং শান্তিপূর্ণ সমাধান ভারতের সাংস্কৃতিক দৃষ্টিভঙ্গির গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। তবে শান্তির পক্ষে ভারতের অবস্থানকে দেশের আত্মরক্ষার অক্ষমতা বা অনিচ্ছা হিসেবে দেখা উচিত নয় বলেও স্পষ্ট করেন তিনি।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বলেন, বলেন, 'অপারেশন সিঁদুর, বালাকোট এয়ারস্ট্রাইক এবং সার্জিক্যাল স্ট্রাইক নিছক সামরিক অভিযান ছিল না; সেগুলি ছিল ভারতের দৃষ্টিভঙ্গির এক নির্ণায়ক পরিবর্তনের প্রতীক। যেখানে কূটনৈতিক নিন্দাজ্ঞাপনের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে সরাসরি সন্ত্রাসবাদের উৎসমুখে গিয়ে আঘাত হানার সক্রিয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।' তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২০১৪ সালের পর থেকে নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতায় সন্ত্রাসবাদীদের 'স্থায়িত্ব' (Shelf Life) এক বছরেরও নিচে নেমে এসেছে। ভারতের বিরুদ্ধে অস্ত্র তুলে নেওয়ার এক বছরের মধ্যেই নিরাপত্তা বাহিনী তাদের নিকেশ করতে সক্ষম হচ্ছে। শক্তির সঙ্গে শান্তির গভীর সম্পর্কের কথা তুলে ধরে রাজনাথ সিং বলেন, 'শান্তির প্রতি আমাদের অঙ্গীকার অটল, তবুও আমরা যে কোনও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পুরোপুরি প্রস্তুত। আমাদের লক্ষ্য এমন এক ভারত গড়ে তোলা, যা শান্তির পক্ষে কথা বলার পাশাপাশি নিরাপত্তার বিষয়ে সতর্ক থাকবে এবং নিজের সার্বভৌমত্ব, অখণ্ডতা ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সম্পূর্ণ সক্ষম হবে।'