Rajya Sabha By-Election: মুরগনের ছেড়ে যাওয়া রাজ্যসভা আসনে ১২ নভেম্বর ভোট, ডিলিমিটেশন বিল ঘিরে বাড়ছে তৎপরতা
এই উপনির্বাচনকে ঘিরে শুধু সাংসদ বেছে নেওয়ার অঙ্ক নয়, জাতীয় রাজনীতিতেও তৈরি হয়েছে নতুন সমীকরণের সম্ভাবনা। বিশেষ করে মহিলাদের জন্য সংরক্ষণ এবং আসন পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন বিল নিয়ে কেন্দ্রের তৎপরতার মধ্যে এই নির্বাচনকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এল মুরগন রাজ্যসভার সাংসদ পদ ছাড়তেই মধ্যপ্রদেশের একটি আসনে উপনির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হল। আগামী ১২ নভেম্বর ওই আসনে ভোটগ্রহণ হবে। বৃহস্পতিবার নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে মনোনয়ন জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে এই নির্বাচনকে ঘিরে শুধু সাংসদ বেছে নেওয়ার অঙ্ক নয়, জাতীয় রাজনীতিতেও তৈরি হয়েছে নতুন সমীকরণের সম্ভাবনা। বিশেষ করে মহিলাদের জন্য সংরক্ষণ এবং আসন পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন বিল নিয়ে কেন্দ্রের তৎপরতার মধ্যে এই নির্বাচনকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

কেন আসন ছাড়লেন মুরগন?
নরেন্দ্র মোদী সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংসদ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ছিলেন এল মুরগন। গত ১৩ অক্টোবর তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা এবং রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেন। তামিলনাড়ুতে বিজেপির সংগঠন মজবুত করার জন্য তিনি বেশি সময় দিতে চান বলে জানিয়েছিলেন। ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি এখন থেকেই শুরু করতে চান তিনি।
মধ্যপ্রদেশ থেকে রাজ্যসভার সাংসদ হয়েছিলেন মুরগন। ২০২১ সালে প্রথম বার রাজ্যসভার সদস্য হন তিনি। ২০২৪ সালে ফের নির্বাচিত হন। তাঁর সাংসদ পদের মেয়াদ ২০৩০ সাল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই ইস্তফা দেওয়ায় আসনটি খালি হয়ে যায়।
মুরগনের বক্তব্য ছিল, তামিলনাড়ুর গ্রাম থেকে শহর, সর্বত্র দলের সংগঠন ছড়িয়ে দিতে চান তিনি। সেই কাজে পুরো সময় দেওয়ার জন্যই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা এবং রাজ্যসভার দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন।
১২ নভেম্বর উপনির্বাচন
নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, ২৬ অক্টোবর থেকে মনোনয়ন জমা নেওয়া হবে। মধ্যপ্রদেশ বিধানসভায় বিজেপির অবস্থান শক্তিশালী। ২৩০ আসনের বিধানসভায় তাদের বিধায়ক সংখ্যা ১৬৩। ফলে রাজ্যসভা উপনির্বাচনে বিজেপি প্রার্থীকে জেতানোর মতো অঙ্ক দলের হাতে রয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে এই আসনে কাকে প্রার্থী করা হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বিজেপির তরফে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়নি। মুরগনের জায়গায় নতুন কাউকে রাজ্যসভায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব নেবে।
ডিলিমিটেশন বিল ঘিরে কেন গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচন?
রাজ্যসভা উপনির্বাচনের পাশাপাশি সংসদে আসন পুনর্বিন্যাস এবং মহিলাদের জন্য সংরক্ষণ সংক্রান্ত বিল নিয়েও আলোচনা চলছে। ডিলিমিটেশন বলতে জনসংখ্যা ও নির্ধারিত নিয়মের ভিত্তিতে লোকসভা এবং বিধানসভা কেন্দ্রের সীমানা পুনর্নির্ধারণকে বোঝায়। এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংসদে বিভিন্ন রাজ্যের প্রতিনিধিত্বের প্রশ্ন জড়িত। তাই বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে ঐকমত্য তৈরি করা কেন্দ্রের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে সংসদে বিশেষ সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজন হতে পারে। সেই কারণে বিরোধীদের সহযোগিতা পাওয়ার চেষ্টা করছে সরকার। হিন্দুস্তানের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এই বিষয়ে ডিএমকের সমর্থন পাওয়ার বিষয়টিও বিজেপির রাজনৈতিক হিসাবের মধ্যে রয়েছে। তবে ডিলিমিটেশন বিল নিয়ে চূড়ান্ত অবস্থান কী হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় রদবদলের জল্পনা
মুরগনের ইস্তফার পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় রদবদল নিয়েও জল্পনা তৈরি হয়েছে। এর আগে জর্জ কুরিয়েন এবং রবনীত সিং বিট্টুর মন্ত্রিসভা থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘটনাও সামনে এসেছিল। কয়েকটি মন্ত্রকের দায়িত্ব এখন একাধিক মন্ত্রীর হাতে রয়েছে। ফলে মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ বা দায়িত্বের পুনর্বণ্টন হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। তবে এ বিষয়ে সরকারিভাবে কোনও ঘোষণা হয়নি।
সব মিলিয়ে, মুরগনের ছেড়ে যাওয়া আসনে উপনির্বাচন ঘিরে মধ্যপ্রদেশের রাজ্যসভার অঙ্কের পাশাপাশি জাতীয় রাজনীতির দিকেও নজর রয়েছে। বিশেষ করে ডিলিমিটেশন এবং মহিলাদের সংরক্ষণ সংক্রান্ত প্রস্তাব নিয়ে সরকার কতটা সমর্থন জোগাড় করতে পারে, আগামী দিনে তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


