পাক অধিকৃত কাশ্মীরে প্রতিবাদীদের মুখে রাম প্রসাদ বিসমিলের ‘সরফরোশি কি তামান্না’ স্লোগান

ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের বিপ্লবী রাম প্রসাদ বিসমিলের বিখ্যাত কবিতার লাইন- সরফরোশি কি তামান্না আব হামারে দিল মে হ্যায়, দেখনা হ্যায় জোর কিতনা বাজু-এ-কাতিল মে হ্যায়— এখন পিওকে-র আন্দোলনকারীদের অন্যতম প্রতিবাদের স্লোগানে পরিণত হয়েছে।

Published on: Jul 31, 2026, 08:33:19 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর (পিওকে)-তে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর দমন-পীড়নের মধ্যেও থামছে না বিক্ষোভ। ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে বৈষম্য, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং প্রশাসনিক অবহেলার অভিযোগ তুলে হাজার হাজার মানুষ এখনও রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ চালিয়ে যাচ্ছেন। গত তিন দিনে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে অন্তত ৩৭ জন বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হয়েছে এবং ২০০-রও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। যদিও এই সংখ্যার স্বাধীনভাবে যাচাই সম্ভব হয়নি।

রাওয়ালাকোট এলাকায় আন্দোলনের ২৮তম দিনে কয়েকশো মানুষ বাসস্ট্যান্ডে জড়ো হয়ে পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখান।
রাওয়ালাকোট এলাকায় আন্দোলনের ২৮তম দিনে কয়েকশো মানুষ বাসস্ট্যান্ডে জড়ো হয়ে পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখান।

সাম্প্রতিক বিক্ষোভে একটি বিষয় বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের বিপ্লবী রাম প্রসাদ বিসমিলের বিখ্যাত কবিতার লাইন- সরফরোশি কি তামান্না আব হামারে দিল মে হ্যায়, দেখনা হ্যায় জোর কিতনা বাজু-এ-কাতিল মে হ্যায়— এখন পিওকে-র আন্দোলনকারীদের অন্যতম প্রতিবাদের স্লোগানে পরিণত হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, নারী, শিশু এবং প্রবীণরাও এই স্লোগান তুলে বিক্ষোভে অংশ নিচ্ছেন। পাশাপাশি স্বাধীনতা সংগ্রামের আরেক ঐতিহাসিক স্লোগান - 'ইনকিলাব জিন্দাবাদ' ধ্বনিত হতেও শোনা যাচ্ছে।

সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দাবি করা হয়েছে, পিওকে-র রাওয়ালাকোট এলাকায় আন্দোলনের ২৮তম দিনে কয়েকশো মানুষ বাসস্ট্যান্ডে জড়ো হয়ে পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখান। সেখানে তাঁরা একযোগে ‘সরফরোশি কি তামান্না’ স্লোগান তোলেন। ভিডিওগুলির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা না গেলেও, সেগুলি ইতিমধ্যেই ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, পাকিস্তানি সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভ দমনে প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহার করছে। গুলিবর্ষণ এবং বলপ্রয়োগে বহু মানুষ আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন উসমান নাজির, যিনি জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি)-র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য উমর নাজিরের ভাই। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের ওপর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করে পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলছে প্রশাসন।

বর্তমানে স্থানীয় সংস্থা জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (JAAC) এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনিক নির্বাচনকে ঘিরে কারচুপির অভিযোগ, বিরোধী মত দমনে জোরপূর্বক নিখোঁজ করার অভিযোগ এবং রাজনৈতিক বৈষম্যের প্রতিবাদেও সংগঠনটি সরব হয়েছে। তাদের দাবি, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিরোধী কণ্ঠস্বরকে দমন করার চেষ্টা চলছে।

গত মাস থেকে পিওকে-তে লাগাতার বিক্ষোভ চলছে। আন্দোলনকারীদের মূল অভিযোগ, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধি, প্রশাসনের উদাসীনতা, রাজনৈতিক বৈষম্য এবং সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার। এসব ইস্যুতেই সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমেছেন বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।

এদিকে, ভারতও পিওকে-র পরিস্থিতি নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। নয়াদিল্লির বক্তব্য, পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে সাম্প্রতিক স্থানীয় নির্বাচন আসলে ইসলামাবাদের অবৈধ দখলদারিকে আড়াল করার একটি প্রচেষ্টা। ভারতের দাবি, ওই অঞ্চলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে এবং নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে সেই বাস্তবতাকে ঢাকার চেষ্টা করা হচ্ছে।

ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠা পরিস্থিতিতে পিওকে-র ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিক্ষোভ, নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার জেরে অঞ্চলটিতে নতুন করে অশান্তির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More