Ram Rahim out on Furlough: ২১ দিনের ফার্লো, ফের জেলের বাইরে ধর্ষণকারী-খুনি রাম রহিম! এই নিয়ে ১৭ বার

জানা গিয়েছে, জেল থেকে বেরোনোর পর রাম রহিম সিরসার ডেরায় যাবেন। এর ফলে আরও একবার সাময়িকভাবে জেলের বাইরে থাকার সুযোগ পেলেন তিনি। তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ এই ২১ দিনের ফার্লো মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত মোট ১৭ বার জেল থেকে অস্থায়ী মুক্তি পেয়েছেন ডেরা প্রধান।

Published on: Aug 25, 2026, 09:13:37 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

ফের জেল থেকে সাময়িক মুক্তি পেলেন ডেরা সচ্চা সৌদার প্রধান গুরমিত রাম রহিম সিং। ধর্ষণ মামলায় ২০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করা রাম রহিমকে এবার ২১ দিনের ফার্লো দেওয়া হয়েছে। এই সময় তিনি হরিয়ানার রোহতকের সুনারিয়া জেল থেকে বেরিয়ে ডেরা সচ্চা সৌদার সিরসা সদর দফতরে যেতে পারবেন।

জেল থেকে বেরোনোর পর রাম রহিম সিরসার ডেরায় যাবেন। (HT_PRINT)
জেল থেকে বেরোনোর পর রাম রহিম সিরসার ডেরায় যাবেন। (HT_PRINT)

জানা গিয়েছে, জেল থেকে বেরোনোর পর রাম রহিম সিরসার ডেরায় যাবেন। এর ফলে আরও একবার সাময়িকভাবে জেলের বাইরে থাকার সুযোগ পেলেন তিনি। তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ এই ২১ দিনের ফার্লো মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত মোট ১৭ বার জেল থেকে অস্থায়ী মুক্তি পেয়েছেন ডেরা প্রধান।

এর আগে অধিকাংশ সময় তাঁকে উত্তরপ্রদেশের বাগপতের বরনাওয়া আশ্রমে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সিরসার ডেরা সদর দফতরে যাওয়ার অনুমতি বেশি মিলছে। এবারও সেই পথেই হাঁটা হয়েছে। এটি টানা তৃতীয়বার, যখন সাময়িক মুক্তির পর তিনি সিরসা ডেরায় থাকবেন।

রাম রহিমের বিরুদ্ধে দুই মহিলা শিষ্যাকে ধর্ষণের অভিযোগের তদন্ত করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। ২০১৭ সালে বিশেষ সিবিআই আদালত এই মামলায় তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে। দুই ধর্ষণ মামলায় ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয় তাঁকে। দুটি সাজা পরপর কার্যকর হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ফলে মোট ২০ বছরের সাজা ভোগ করতে হচ্ছে ডেরা প্রধানকে।

২০১৭ সালে এই রায় ঘোষণার পর গোটা হরিয়ানা ও পঞ্জাবে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছিল। রাম রহিমের বিপুল সংখ্যক অনুগামী পথে নেমে পড়েছিলেন। বিভিন্ন জায়গায় হিংসা, অগ্নিসংযোগ এবং ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনকে কঠোর পদক্ষেপ করতে হয়েছিল।

তবে জেলে যাওয়ার পরও রাম রহিমকে একাধিকবার প্যারোল এবং ফার্লো দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে হরিয়ানা ও পঞ্জাবের মতো রাজ্যে তাঁর বিপুল প্রভাব রয়েছে। ফলে প্রতিবার তাঁর অস্থায়ী মুক্তি রাজনৈতিক মহল এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে চর্চার বিষয় হয়ে ওঠে।

ফার্লো এবং প্যারোল দুটিই বন্দিদের নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সাময়িকভাবে জেলের বাইরে থাকার সুযোগ দেয়। তবে দুই ব্যবস্থার নিয়ম এক নয়। কোনও বন্দিকে এই সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক এবং আইনি শর্ত মানা হয়। রাম রহিমের ক্ষেত্রে বারবার এই সুবিধা মেলায় সেই নীতি নিয়েই নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

ধর্ষণ মামলার পাশাপাশি আরও গুরুতর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন রাম রহিম। ডেরার প্রাক্তন ম্যানেজার রঞ্জিত সিং হত্যাকাণ্ডে তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও সাংবাদিক রামচন্দ্র ছত্রপতি হত্যাকাণ্ডেও তাঁর বিরুদ্ধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার রায় রয়েছে।

এরপরও তাঁকে বারবার সাময়িক মুক্তি দেওয়ায় প্রশ্ন উঠছে, উচ্চপ্রোফাইল বন্দিদের ক্ষেত্রে প্যারোল ও ফার্লোর নিয়ম কীভাবে কার্যকর হচ্ছে। রাম রহিমের সর্বশেষ ২১ দিনের ফার্লো সেই বিতর্ককেই আবার সামনে নিয়ে এসেছে।

এখন নজর থাকবে, এই ২১ দিনের মুক্তির সময়ে রাম রহিমের গতিবিধি কী হয় এবং তাঁর অস্থায়ী মুক্তিকে ঘিরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কী কী শর্ত আরোপ করা হয়। একইসঙ্গে তাঁর বারবার জেল থেকে বাইরে আসা নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে যে বিতর্ক রয়েছে, তাও ফের জোরালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More