Ranchi RSS Office Attack Update: রাঁচির আরএসএস কার্যালয়ে হামলার নেপথ্যে পাকিস্তান যোগ? তদন্তে উঠে এল দুবাই যোগ

গত মঙ্গলবার গভীর রাতে রাঁচির নিবরণপুর এলাকায় অবস্থিত আরএসএস কার্যালয় লক্ষ্য করে পেট্রোল বোমা ছোড়া হয়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মুখ ঢেকে আসা দুই ব্যক্তি ভবনের দিকে পেট্রোল বোমা ছুড়ে দ্রুত এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। সৌভাগ্যবশত এই ঘটনায় কেউ হতাহত হননি, তবে ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়।

Published on: Jun 19, 2026, 13:44:28 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

ঝাড়খণ্ডের রাজধানী রাঁচিতে আরএসএস (RSS)-এর প্রাদেশিক কার্যালয়ে পেট্রোল বোমা হামলার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। তদন্তে নেমে পুলিশ দাবি করেছে, এই হামলার ছক কষা হয়েছিল দুবাইয়ে এবং ধৃত অভিযুক্তদের মধ্যে অন্তত একজনের সঙ্গে পাকিস্তানি হ্যান্ডলারের যোগাযোগ ছিল। ঘটনায় ইতিমধ্যেই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।

গত মঙ্গলবার গভীর রাতে রাঁচির নিবরণপুর এলাকায় অবস্থিত আরএসএস কার্যালয় লক্ষ্য করে পেট্রোল বোমা ছোড়া হয়। (ANI Video Grab)
গত মঙ্গলবার গভীর রাতে রাঁচির নিবরণপুর এলাকায় অবস্থিত আরএসএস কার্যালয় লক্ষ্য করে পেট্রোল বোমা ছোড়া হয়। (ANI Video Grab)

গত মঙ্গলবার গভীর রাতে রাঁচির নিবরণপুর এলাকায় অবস্থিত আরএসএস কার্যালয় লক্ষ্য করে পেট্রোল বোমা ছোড়া হয়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মুখ ঢেকে আসা দুই ব্যক্তি ভবনের দিকে পেট্রোল বোমা ছুড়ে দ্রুত এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। সৌভাগ্যবশত এই ঘটনায় কেউ হতাহত হননি, তবে ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়।

তদন্তে নেমে রাঁচি পুলিশ ও বিশেষ তদন্তকারী দল তিনজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করে। ধৃতদের নাম সইফ আনসারি, আমন আনসারি এবং সায়েম সুজান বলে জানা গিয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে, হামলার পরিকল্পনা স্থানীয়ভাবে হয়নি; বরং দুবাইয়ে বসেই গোটা অপারেশনের নকশা তৈরি করা হয়েছিল।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত সইফ আনসারি আগে দুবাইয়ে এসি মেকানিক হিসেবে কাজ করতেন। সেখানেই তাঁর পরিচয় হয় রানা হুসেন ও পাকিস্তানি হ্যান্ডলার শাহবাজ আলম ওরফে ভট্টির সঙ্গে। তদন্তকারীদের দাবি, দুবাইয়ে থাকাকালীনই সইফের ‘ব্রেনওয়াশ’ করা হয় এবং পরে তাকে ভারতে ফিরে এসে হামলার নির্দেশ দেওয়া হয়।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, হামলার পর তার ভিডিও তৈরি করে পাকিস্তানে থাকা হ্যান্ডলার শাহবাজ ভট্টির কাছে পাঠানো হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এর ফলে গোটা ঘটনার সঙ্গে আন্তর্জাতিক জঙ্গি নেটওয়ার্কের যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ এবং সন্ত্রাসদমন শাখা। তদন্তকারীরা আরও জানিয়েছেন, হামলার জন্য প্রয়োজনীয় কাচের বোতল, পেট্রোল এবং অন্যান্য সামগ্রী রাঁচির স্থানীয় বাজার থেকেই কেনা হয়েছিল। পরে সেগুলি ব্যবহার করে পেট্রোল বোমা তৈরি করা হয়। ধৃতদের মধ্যে একজন আগে থেকেই আরএসএস কার্যালয়ের রেকি করেছিল বলেও অভিযোগ।

এদিকে তদন্তে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই সমর্থিত নেটওয়ার্ক এবং তথাকথিত তেহরিক-ই-তালিবান হিন্দুস্তানের সম্ভাব্য যোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদিও এখনও চূড়ান্তভাবে কিছু ঘোষণা করা হয়নি, তবে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। সব মিলিয়ে, একটি পেট্রোল বোমা হামলার তদন্ত ক্রমশ আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ, পাকিস্তানি হ্যান্ডলার এবং দুবাই-ভিত্তিক ষড়যন্ত্রের দিকে মোড় নেওয়ায় ঘটনাটি জাতীয় নিরাপত্তার দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এখন তদন্তের পরবর্তী ধাপে আরও বড় কোনও নেটওয়ার্কের হদিস মেলে কি না, সেদিকেই নজর গোটা দেশের।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More