Rawalpindi Drone Attack: পাকিস্তানে রাওয়ালপিন্ডির ঘঁটিতে ড্রোন হামলার চেষ্টা, উড়তে দেখা যায় ধোঁয়া
রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, এই ড্রোন হামলায় পাকিস্তানি ঘাঁটির বড় ধরনের কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তবে ড্রোন হামলার চেষ্টার পরই চাকলালা থেকে একাধিক যুদ্ধবিমান উড়তে দেখা যায়। জানা যায়, স্থানীয় সময় সকাল ৬টা ৫০ মিনিট নাগাদ রাওয়ালপিন্ডির আকাশে কালো ধোঁয়া দেখা গিয়েছিল। শোনা গিয়েছিল বিকট বিস্ফোরণের আওয়াজ।
কাবুলে পাক হামলার কয়েক ঘণ্টা পরেই পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে অবস্থিত চাকলালা বায়ুসেনা ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার চেষ্টা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই হামলা তালিবান চালিয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে চাকলালা ঘাঁটির ওপরে ধোঁয়া উড়তে দেখা গিয়েছে। এদিকে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, এই ড্রোন হামলায় পাকিস্তানি ঘাঁটির বড় ধরনের কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তবে ড্রোন হামলার চেষ্টার পরই চাকলালা থেকে একাধিক যুদ্ধবিমান উড়তে দেখা যায়। জানা যায়, স্থানীয় সময় সকাল ৬টা ৫০ মিনিট নাগাদ রাওয়ালপিন্ডির আকাশে কালো ধোঁয়ার সেই কুণ্ডলী দেখা দিয়েছিল। শোনা গিয়েছিল বিকট বিস্ফোরণের আওয়াজ।

উল্লেখ্য, সোমবার গভীর রাতে আফগানিস্তানে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। কাবুলের এক হাসপাতালে আছড়ে পড়ে পাকিস্তানি মিসাইল। এর জেরে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৪০০ জনের। জখম আরও কমপক্ষে ২৫০ জন। তালিবান সরকারের তরফ থেকে দাবি করা হয়েছে, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। পাকিস্তানি হামলায় হাসপাতালের একটা বড় অংশ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে বলে দাবি করেছে তালিবান সরকার। সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ এক্স হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, এটি আফগানিস্তানের সীমান্ত লঙ্ঘন। তিনি বলেন, নিহত ও আহতদের বেশিরভাগই মাদকাসক্তির কারণে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি অবশ্য হাসপাতালে হামলার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, 'কাবুলের কোনও হাসপাতালে হামলা করা হয়নি। যেখানে অভিযান চালানো হয়েছে, সেখানে গোলাবারুদ মজুদ রাখা হত। সন্ত্রাসবাদীদের যেখান থেকে সাহায্য করা হত, সেই জায়গাগুলিকে নিশানা করা হয়েছে।' উল্লেখ্য, এই দফায় টানা তিন সপ্তাহ ধরে চলছে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যকার এই সংঘাত।
প্রসঙ্গত, গত ২২ ফেব্রুয়ারি ভোর হতে না হতেই আফগানিস্তান সীমান্তে বিমান হামলা চালিয়েছিল পাকিস্তান। তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানের (টিটিপি) ঘাঁটিতে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছিল পাকিস্তান। গত ২১ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ায় আত্মঘাতী হামলার জবাবে এই এয়ারস্ট্রাইকের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। এদিকে ২২ তারিখের পাক হামলার জবাবে আফগানিস্তানও পালটা হামলা চালায় পাকিস্তানের ওপরে।
পরে গত ১ মার্চ পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে নূর খান ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছিল তালিবান। ড্রোন দিয়ে পাক বায়ুসেনা ঘাঁটিতে সেই হামলা চালানো হয়েছিল। নূর খান ছাড়াও বালোচিস্তানের কোয়েট্টায় অবস্থিত পাক সেনার ১২তম ডিভিশনের সদর দফতরে হামলা চালানোর দাবি করেছে তালিবান। এদিকে খাইবার পাখতুনখোয়ায় মহমন্দ এজেন্সির খাওয়াজি ক্যাম্পেও হামলা চালানোর দাবি করেছে আফগানিস্তান। এছাড়াও পাকিস্তানের আরও একাধিক সামরিক স্থাপনা এবং কমান্ড সেন্টারে আফগানিস্তানের ড্রোন আছড়ে পড়েছে বলে দাবি করে তালিবানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। এর আগে আফগানিস্তানের জালালাবাদে একটি পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান ধ্বংস করার দাবি করে তালিবান। সেই ঘটনায় এক পাক পাইলটকে আটক করার দাবি জানিয়েছিল তালিবান।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে ডুরান্ড লাইন বরাবর পাকিস্তানি ও আফগান সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে যে ভয়াবহ সংঘর্ষ বেঁধেছিল, তার কেন্দ্রে ছিল 'তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান' (টিটিপি)। পাকিস্তানের দাবি, টিটিপিকে আশ্রয় দিচ্ছে আফগান তালিবান। আর সেই সব জঙ্গি তারপর পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে। এদিকে তালিবানের পালটা অভিযোগ, পাকিস্তান সরকার এবং সেনা ইসলামিক স্টেটের মতো জঙ্গি সংগঠনকে সাহায্য করছে। ২০০৭ সালের ডিসেম্বরে বাইতুল্লাহ মেহসুদের নেতৃত্বে পাকিস্তানের ফেডারেল শাসিত উপজাতি এলাকার বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠীকে একত্র করে টিটিপি গঠিত হয়। এই গোষ্ঠীকে আন্তর্জাতিকভাবে একটি সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। আল-কায়েদা জঙ্গিদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানি সামরিক অভিযানের প্রতিক্রিয়া হিসেবে এর জন্ম হয়েছিল। বর্তমানে টিটিপির মূল লক্ষ্য হল পাকিস্তানের সরকারকে সরিয়ে তাদের নিজস্ব মতাদর্শে একটি ইসলামি শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা।
এই আবহে গত ২০২৫ সালের ৯ অক্টোবর মধ্যরাতের দিকে কাবুলের পূর্বাঞ্চলে শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে। এরপর পাক সীমান্তে সেনা আউটপোস্টে পালটা হামলা চালায় আফগনরা। সেই হামলায় পাকিস্তানের ৫৮ সেনা জওয়ান নিহত বলে দাবি করে তালিবান। এদিকে পাক সেনা দাবি করে, তাদের ২৩ জন জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে। তারপর গত ১৪ অক্টোবর রাতে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়েছিল। তাতে কমপক্ষে ১৫ আফগান নাগরিক এবং পাকিস্তানি আধাসামরিক বাহিনীর ৬ জন নিহত হয়েছিল। পরে নভেম্বরের শুরুতেও ফের আফগানিস্তানের স্পিন বলডক অঞ্চলে পাকিস্তানের তরফ থেকে গুলি চালানো হয়েছিল। সেই সংঘাত নতুন করে শুরু হয় ফেব্রুয়ারিতে। এবং এখনও তা চলছে।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


