Indian Rupee: এক ডলারের দাম ৯৫.৮০ টাকা! ভারতীয় মুদ্রার পতনে সর্বকালীন নজির, কী কী কারণ দেখছেন বিশেষজ্ঞেরা?
Indian Rupee: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরির আগে থেকেই ভারতীয় মুদ্রায় এই পতনের ধারা চলছিল। মার্কিন-ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতি সেই পতনে আরও জোরালো ধাক্কা দিয়েছে বলে মনে করছেন বাজার বিশেষজ্ঞেরা।
Indian Rupee: গোটা বিশ্বের রাজনীতির অস্থিরতা এবং তেলের বাজারের অনিশ্চয়তার মধ্যে ভারতীয় টাকা আবারও মুখ থুবড়ে পড়ল। একদিকে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জ্বালানি বাঁচাতে বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা বলছেন। অন্যদিকে, বুধবার বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় বাজারে লেনদেন শুরু হতেই মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার দাম ১২ পয়সা কমে ৯৫.৮০ টাকায় গিয়ে দাঁড়াল। আর ভারতীয় মুদ্রার ইতিহাসে এটি এখনও পর্যন্ত সর্বনিম্ন স্তর। সাম্প্রতিক অতীতে ডলারের তুলনায় টাকার দামে এতটা পতন দেখা যায়নি।

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরির আগে থেকেই ভারতীয় মুদ্রায় এই পতনের ধারা চলছিল। মার্কিন-ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতি সেই পতনে আরও জোরালো ধাক্কা দিয়েছে বলে মনে করছেন বাজার বিশেষজ্ঞেরা। কারণ, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের দেওয়া শাস্তি প্রস্তাবকে আবর্জনা বলেই প্রত্যাখ্যান করে দিয়েছেন। যার ফলে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতির আশা এখন কার্যত ফিকে হওয়ার অবস্থা। সেই কারণে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম একধাক্কায় অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। মঙ্গলবারও বাজার বন্ধের সময়ে ডলারের তুলনায় টাকার বিনিময়মূল্য ছিল ৯৫.৬৮ টাকা। ওই দিনও ডলারের তুলনায় টাকার দাম ধসেছিল ৩৫ পয়সা। তারপরে বুধবার বাজার খুলতেই এক ধাক্কায় ফের ধস নামল টাকার দামে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অবস্থানের কারণে গোটা বিশ্ব বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ০.৮৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি এবার ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছে। আর যেহেতু ভারত তার প্রয়োজনের প্রায় ৮৫ শতাংশ তেল বিশ্ব বাজার থেকে আমদানি করে থাকে, তাই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে দেশের মুদ্রার উপরে যে চাপ সৃষ্টি হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এদিকে, বুধবার জারি হওয়া সরকারি নির্দেশে সোনা ও রুপোতে আমদানি শুল্ক ৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। সরকারের মতে, এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো মূল্যবান ধাতুর আমদানি কমানো, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডারের উপর চাপ কমানো। নতুন কাঠামো অনুযায়ী, সোনা ও রুপোর উপর ১০ শতাংশ বেসিক কাস্টমস ডিউটি এবং ৫ শতাংশ এগ্রিকালচার ইনফ্রাস্ট্রাকচার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেস ধার্য করা হয়েছে। ফলে মোট কার্যকর আমদানি শুল্ক দাঁড়াল ১৫ শতাংশে।
শেয়ারবাজারে অস্থিরতা
এ সপ্তাহের প্রথম দুই ট্রেডিং সেশনে পতনের ধাক্কা সামাল দিয়ে কিছুটা হলেও ঘুরে দাঁড়াল দেশের শেয়ার বাজার। শেষ ট্রেডিংয়ের থেকে লোয়ার পয়েন্টে স্টার্ট করেও পজিটিভে ফিরেছে দুই বেঞ্চমার্ক ইনডেক্স। তবে এদিনের ট্রেডিং সেশনে সকাল থেকেই অস্থিরতা বজায় ছিল। বুধবারের ট্রেডিং সেশনে সেনসেক্স বেড়েছে ৫০ পয়েন্ট বা ০.০৭ শতাংশ। এই বৃদ্ধির পরে সেনসেক্স রয়েছে ৭৪,৬০৯ পয়েন্টে। অন্যদিকে, নিফটি৫০ বেড়েছে ০.১৪ শতাংশ বা ৩৩ পয়েন্ট এবং তা রয়েছে ২৩,৪১২ পয়েন্টে। দুই বেঞ্চমার্ক ইনডেক্সের তুলনায় মিড ক্যাপ ও স্মল ক্যাপ ইনডেক্সগুলির বৃদ্ধি বেশি হয়েছে। বিএসই ১৫০ মিড ক্যাপ ইনডেক্স বেড়েছে ০.৭১ শতাংশ এবং বিএসই ২৫০ স্মল ক্যাপ ইনডেক্স বেড়েছে ০.২৭ শতাংশ।
E-Paper

