এসআইআরে নাম বাদ মানেই নাগরিকত্ব খারিজ নয়! ট্রাইব্যুনালের ৭ লক্ষ মামলার হিসাব চাইল সুপ্রিম কোর্ট

এসআইআরের সময় পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা থেকে বহু নাম বাদ পড়ে। তাঁদের একাংশ দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যে বসবাসের দাবি করেছেন। অনেকের কাছেই প্রয়োজনীয় নথিপত্র রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। ফলে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার পর নাগরিকত্ব নিয়ে আতঙ্ক ছড়ায়।

Published on: Aug 25, 2026, 15:03:13 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর নিয়ে ফের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবারের শুনানিতে আদালত নির্বাচন কমিশনের কাছে ট্রাইব্যুনালে জমা পড়া মামলার বিস্তারিত হিসাব চেয়েছে। কত আবেদন এখনও বিচারাধীন, কতগুলির নিষ্পত্তি হয়েছে এবং কতজনের নাম নতুন করে ভোটার তালিকায় যুক্ত হয়েছে—সব তথ্য হলফনামা দিয়ে জানাতে বলা হয়েছে কমিশনকে। এর আগে প্রায় ৩৪ লক্ষ আপিল বিচারাধীন থাকার কথা প্রকাশ্যে এসেছিল।

এসআইআরের সময় পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা থেকে বহু নাম বাদ পড়ে।
এসআইআরের সময় পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা থেকে বহু নাম বাদ পড়ে।

এসআইআরের সময় পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা থেকে বহু নাম বাদ পড়ে। তাঁদের একাংশ দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যে বসবাসের দাবি করেছেন। অনেকের কাছেই প্রয়োজনীয় নথিপত্র রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। ফলে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার পর নাগরিকত্ব নিয়ে আতঙ্ক ছড়ায়। এই পরিস্থিতিতে বাদ পড়া নাম ফেরানোর জন্য আপিল ট্রাইব্যুনালের ব্যবস্থা করা হয়। সেখানে প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়ে ভোটার তালিকায় নাম ফেরানোর আবেদন করা যায়। নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটেও এসআইআর-সংক্রান্ত আপিল ট্রাইব্যুনালের পরিপূরক তালিকা এবং বাদ পড়া নামের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।

মঙ্গলবারের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের নজরের অন্যতম বিষয় ছিল এই আপিলগুলির অগ্রগতি। আদালত জানতে চেয়েছে, এখনও কতগুলি আবেদন পড়ে রয়েছে এবং কতগুলি মামলা ইতিমধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে। পাশাপাশি, কতটি আবেদনে নাম ফেরানোর আবেদন করা হয়েছিল এবং কতটি ক্ষেত্রে অন্য ধরনের প্রতিকার চাওয়া হয়েছিল, তারও আলাদা হিসাব দিতে বলা হয়েছে। কারণ, ভোটারদের পক্ষ থেকে করা আবেদন এবং কারও নাম তালিকায় থাকার বিরুদ্ধে করা আপত্তি—এই দুই ধরনের মামলাকে একসঙ্গে হিসাব করলে প্রকৃত পরিস্থিতি স্পষ্ট হবে না।

এর মধ্যেই আদালত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট করেছে। ভোটার তালিকায় এসআইআরের মাধ্যমে কোনও ব্যক্তির নাম বাদ পড়লেই তিনি নাগরিক নন, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যাবে না। সুপ্রিম কোর্ট আগেই জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংক্রান্ত যাচাই নাগরিকত্ব নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। কারও নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন থাকলে, তা সংশ্লিষ্ট আইনি কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি করতে হবে।

এই পর্যবেক্ষণের ফলে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে। কোনও ব্যক্তির নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে বলেই তাঁকে সঙ্গে সঙ্গে বিদেশি বা অ-নাগরিক বলে ধরে নেওয়া যাবে না। তাই শুধু এসআইআরে নাম বাদ যাওয়ার ভিত্তিতে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা বন্ধ করা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে আদালত।

রাজ্যে এই বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও সামাজিক উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে যাঁদের বিরুদ্ধে নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, তাঁদের মধ্যে অনেকেই সরকারি সুবিধা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন। আবার নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করা কিছু মানুষের ক্ষেত্রেও ভোটার তালিকার অবস্থান নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের অবস্থান অবশ্য পরিষ্কার—ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া এবং নাগরিকত্ব বাতিল হওয়া এক বিষয় নয়। নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকার জন্য কোনও ব্যক্তির যোগ্যতা যাচাই করতে পারে। কিন্তু সেই যাচাই নাগরিকত্বের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পরিণত হয় না। এই নীতিই আদালত আগের রায়েও স্পষ্ট করেছে।

এখন নজর নির্বাচন কমিশনের হলফনামার দিকে। কতগুলি আবেদন নিষ্পত্তি হয়েছে, কতগুলি এখনও বাকি, কতজনের নাম ফের যুক্ত হয়েছে এবং কতগুলি ক্ষেত্রে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে—এই তথ্য সামনে এলে এসআইআরের পরবর্তী পরিস্থিতি আরও পরিষ্কার হবে। একই সঙ্গে নাম বাদ যাওয়া ভোটারদের নাগরিক অধিকার এবং সরকারি পরিষেবা পাওয়ার প্রশ্নেও সুপ্রিম কোর্টের এই অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More