সংরক্ষণ ইস্যুতে উত্তপ্ত সোশ্যাল মিডিয়া-রাজপথ! ভোট বয়কটের শপথ করণি সেনা’র
Reservation Hatao Andolan: ইউজিসির নতুন বিধির প্রতিবাদে জয়পুরে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেওয়া 'শ্রী রাষ্ট্রীয় রাজপুত করণি সেনা’-র সদস্য দেবরাজ সিংয়ের মৃত্যুর ঘটনায় মঙ্গলবার পুলিশ কর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা দেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
Reservation Hatao Andolan: নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের পর এবার সংরক্ষণ। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) দেখানো রাস্তায় ফের আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে জেন জি? সোশ্যাল মিডিয়ায় এই নিয়ে পেজ তৈরি হতেই তুঙ্গে জল্পনা। সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে গণবিক্ষোভ দানা বাঁধলে ভারতীয় সমাজে আসতে পারে আমূল বদল। জাতিব্যবস্থার শৃঙ্খলা ভাঙার সম্ভাবনাও যে থাকছে, তা মানছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞেরা।

সিজেপির কায়দায় সংরক্ষণ-বিরোধী আন্দোলন চালাতে ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ইনস্টাগ্রামে তৈরি হয়েছে একটি পেজ। যার নাম ‘রিজার্ভেশন হটাও আন্দোলন’ (আরএইচএ)। এর অনুসারীর সংখ্যা ইতিমধ্যেই প্রায় ৫৯ লক্ষে দাঁড়িয়েছে। এই আন্দোলনকারীদের দাবি, দেশে জাতিভিত্তিক সংরক্ষণ থাকার কারণে স্কুল-কলেজে ভর্তি থেকে শুরু করে সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতার মান বিচার করা হচ্ছে না। কম নম্বর পেয়ে পছন্দমতো বিষয় নিয়ে পড়ার সুযোগ পাচ্ছেন অনেকে। সরকারি চাকরির পরীক্ষার ক্ষেত্রেও এই নিয়ম প্রযোজ্য। সেটাই এবার বদলানোর ডাক দিয়েছে এই প্ল্যাটফর্ম। এর পাশাপাশি গত সপ্তাহে মহারাষ্ট্রের নাগপুরে প্রথমবার রাজপথে নেমে প্রতিবাদ কর্মসূচিও পালন করে আরএইচএ (Reservation Hatao Andolan)। এর ঠিক কয়েক দিন পরই রাজস্থানের জয়পুরে রাজপুতদের সংগঠন ‘শ্রী রাষ্ট্রীয় রাজপুত করণি সেনা’র (Shri Rajput Karni Sena) সদস্যদের আন্দোলন উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
ইউজিসির নতুন বিধির প্রতিবাদে জয়পুরে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেওয়া 'শ্রী রাষ্ট্রীয় রাজপুত করণি সেনা’-র সদস্য দেবরাজ সিংয়ের মৃত্যুর ঘটনায় মঙ্গলবার পুলিশ কর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা দেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। তাদের অভিযোগ, সোমবার শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশ লাঠিচার্জ ও জলকামান ব্যাবহার করায় দেবরাজ সিং অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরে তাঁর মৃত্যু হয়। পরিস্থিতি এমন উত্তপ্ত হয়ে উঠে যে স্থানীয় সংস্থা নির্বাচনে বিজেপিকে ভোট না দেওয়ার জন্য দেবতাদের নামে শপথ গ্রহণ করেছেন করণি সেনা নেতারা। ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট বোঝা যায়, ভার্চুয়াল মাধ্যম থেকে শুরু করে রাজপথ—সর্বত্রই এখন সংরক্ষণবিরোধী কণ্ঠস্বরগুলো তীব্র হচ্ছে এবং উভয় জগতেই বিপুল সমর্থন কুড়োচ্ছে। তবে আপাতদৃষ্টে এই আন্দোলনকে এখনও কিছুটা বিক্ষিপ্ত ও খণ্ডবিখণ্ড বলেই মনে করা হচ্ছে। একদিকে দিল্লির যন্তর মন্তরে পা রেখে নেতৃত্বের সলতে পাকাতে প্রহর গুনছেন তরুণ হর্ষ দুবে। অন্যদিকে, ইন্টারনেট জুড়ে কোটাবিরোধী জনমত গড়ে তুলতে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে ' ‘রিজার্ভেশন হটাও আন্দোলন।’ আর ওদিকে জয়পুরের রাজপথে নিজস্ব লড়াই জারি রেখেছে 'শ্রী রাষ্ট্রীয় রাজপুত করণি সেনা।’
তবে একটি বিষয় স্পষ্ট যে—সংরক্ষণবিরোধী ক্ষোভের আগুন আগের যে কোনও সময়ের চেয়ে বেশি তীব্র রূপ নিচ্ছে। ছাত্রনেতা বেদান্তের শুরু করা 'আরএইচএ' প্ল্যাটফর্মে ইতিমধ্যেই সুর মিলিয়েছেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও লেখক আনন্দ রঙ্গনাথন, সাংবাদিক তথা কন্টেন্ট ক্রিয়েটর অজিত ভারতী এবং লেখিকা-পরিচালক অনুরাধা তিওয়ারির মতো একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। রাজনৈতিক দলগুলো বরাবরের মতোই তপ্ত হতে থাকা এই সংরক্ষণ বিতর্ক এড়িয়ে চলার কৌশল নিয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ে চিত্রটা ভিন্ন—শিক্ষা, চাকরি ও অন্যান্য ক্ষেত্রে জাতিভিত্তিক সংরক্ষণের বিরুদ্ধে মানুষকে সংঘটিত করতে কেবল করণি সেনা বা হর্ষ দুবেই নন, নেমে পড়েছেন আরও বহু গোষ্ঠী। অনলাইন এবং অফলাইন—দুই মাধ্যমেই সংরক্ষণবিরোধী আওয়াজ ক্রমাগত জোরালো হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় আন্দোলনে এই বিষয়টিকেও তুলে ধরেছেন আন্দোলনকারীদের একাংশ। তাঁদের বক্তব্য, সংরক্ষণের সুবিধা থাকায় কম মেধা সম্পন্নরাও চিকিৎসাবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনার সুযোগ পাচ্ছেন। সেটা স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্য একেবারেই ভাল নয়। তা ছাড়া আইআইটি, এইমস থেকে শুরু করে ইসরো বা বার্কের মতো প্রতিষ্ঠানে এমন সংরক্ষণ ‘মান খারাপ’ করতে পারে বলেও দাবি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দাবি, ককরোচ জনতা পার্টির থেকেও কঠিন হতে চলেছে এই সংরক্ষণ-বিরোধী আন্দোলন। কারণ, প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সমর্থন পেয়েছে সিজেপি। ফলে প্রবল সরকার-বিরোধী হাওয়া তুলতে সক্ষম হন তাঁরা। সংরক্ষণের ক্ষেত্রে একক ভাবে লড়াই করতে হবে তাঁদের। ফলে আন্দোলন কতটা দানা বাঁধবে তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।
E-Paper

