Riddhi Chauhan: মাত্র ১৭ বছরেই মার্কিন নৌবাহিনীতে যোগদানের পথে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ঋদ্ধি, নেতৃত্ব দিচ্ছেন ৩০০ ক্যাডেটকে

মাত্র ১৭ বছর বয়সেই মার্কিন নৌবাহিনীতে কমিশনড অফিসার হওয়ার স্বপ্নপূরণের পথে আরও একধাপ এগিয়ে গেলেন রিদ্ধি চৌহান। যুক্তরাষ্ট্রের নেভাল অ্যাকাডেমি প্রিপারেটরি স্কুলে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন তিনি, যা তাঁর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণের পথে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

Published on: Jul 15, 2026, 12:00:36 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

যে বয়সে অধিকাংশ কিশোর-কিশোরী স্কুলের পড়াশোনা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েই ব্যস্ত থাকে, সেই বয়সেই প্রায় ৩০০ জন ক্যাডেটের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক ছাত্রী। মাত্র ১৭ বছর বয়সেই মার্কিন নৌবাহিনীতে কমিশনড অফিসার হওয়ার স্বপ্নপূরণের পথে আরও একধাপ এগিয়ে গেলেন রিদ্ধি চৌহান। যুক্তরাষ্ট্রের নেভাল অ্যাকাডেমি প্রিপারেটরি স্কুলে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন তিনি, যা তাঁর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণের পথে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

মাত্র ১৭ বছর বয়সেই মার্কিন নৌবাহিনীতে কমিশনড অফিসার হওয়ার স্বপ্নপূরণের পথে আরও একধাপ এগিয়ে গেলেন রিদ্ধি চৌহান।
মাত্র ১৭ বছর বয়সেই মার্কিন নৌবাহিনীতে কমিশনড অফিসার হওয়ার স্বপ্নপূরণের পথে আরও একধাপ এগিয়ে গেলেন রিদ্ধি চৌহান।

রিদ্ধি নিউ ইয়র্কের কুইন্সে অবস্থিত বেঞ্জামিন এন. কার্ডোজো হাই স্কুলের ছাত্রী। বর্তমানে তিনি স্কুলের নেভি জুনিয়র রিজার্ভ অফিসার্স ট্রেনিং কর্পস (এনজেআরওটিসি)-এর ব্যাটালিয়ন কমান্ডিং অফিসার। এটি এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সর্বোচ্চ ছাত্র নেতৃত্বের পদ। তাঁর দায়িত্বে রয়েছে প্রায় ৩০০ জন ক্যাডেটের দৈনন্দিন প্রশিক্ষণ, বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা এবং জুনিয়রদের নেতৃত্বের পাঠ দেওয়া।

জানা গিয়েছে, নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় আত্মবিশ্বাস বাড়ানো এবং নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জনের লক্ষ্য নিয়েই এনজেআরওটিসি-তে যোগ দিয়েছিলেন রিদ্ধি। এরপর ধাপে ধাপে নিজের দক্ষতার পরিচয় দিয়ে অ্যাকাডেমিক কমান্ডার, স্টেম কমান্ডার, প্লাটুন লিডার এবং ইনস্পেকশন কমান্ডারের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই তিনি এখন ব্যাটালিয়ন কমান্ডিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করছেন।

প্রতিদিনের রুটিনও বেশ কঠোর। সপ্তাহে চার দিন সকাল ৭টার আগেই স্কুলে পৌঁছে ক্যাডেটদের ড্রিল বা কুচকাওয়াজের প্রশিক্ষণ দেন তিনি। তারপর শুরু হয় নিয়মিত ক্লাস। এই শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনই তাঁকে ভবিষ্যতের সামরিক জীবনের জন্য প্রস্তুত করছে।

নেতৃত্বের পাশাপাশি শিক্ষাক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছেন রিদ্ধি। অ্যাকাডেমিক কমান্ডার হিসেবে তাঁর নেতৃত্বে স্কুলের দল টানা দু'বছর 'লিডারশিপ অ্যান্ড অ্যাকাডেমিক বোল'-এর দ্বিতীয় পর্যায়ে জায়গা করে নেয়। এছাড়াও জাতীয় স্তরের একটি একাডেমিক পরীক্ষায় তাঁদের ব্যাটালিয়ন প্রথম স্থান অর্জন করে। প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও তাঁর অবদান উল্লেখযোগ্য। রিদ্ধির নেতৃত্বেই ব্যাটালিয়নের প্রথম 'সি-পার্চ' আন্ডারওয়াটার রোবট তৈরি হয়, যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা রোবোটিক্স এবং ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পায়।

রিদ্ধির মতে, নেতৃত্ব মানে শুধু নির্দেশ দেওয়া নয়, বরং অন্যদের সেবা করা এবং নিজের কাজের মাধ্যমে উদাহরণ সৃষ্টি করা। তিনি জানিয়েছেন, বিনয়, সহমর্মিতা এবং নিঃস্বার্থ সেবার মূল্যবোধ তিনি শিখেছেন মহন্ত স্বামী মহারাজের কাছ থেকে। পাশাপাশি বিএপিএস স্বামিনারায়ণ সংস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকাও তাঁর ব্যক্তিত্ব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

রিদ্ধির বাবা-মা রুচিকা ও দিলীপ চৌহানের পারিবারিক শিকড় ভারতের রাজস্থানের জয়পুরে। পরিবারের সমর্থন এবং নিজের কঠোর পরিশ্রমের জোরেই আজ তিনি মার্কিন নৌবাহিনীতে যোগদানের স্বপ্নের আরও কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছেন।

মাত্র ১৭ বছর বয়সেই শত শত ক্যাডেটের নেতৃত্ব, শিক্ষাক্ষেত্রে সাফল্য এবং ভবিষ্যতের সামরিক জীবনের প্রস্তুতি—সব মিলিয়ে রিদ্ধি চৌহানের এই সাফল্য শুধু ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের কাছেই নয়, বিশ্বের অসংখ্য তরুণ-তরুণীর কাছেও অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More