RSS-BJP Meeting on WB: দিল্লিতে সংঘের সঙ্গে বিজেপির বৈঠক, বাংলার সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তর আলোচনা, কী বলল RSS?

বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারী, শমীক ভট্টাচার্য, সুকান্ত মজুমদার এবং রাজ্য বিজেপির সাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক অমিতাভ চক্রবর্তী ছিলেন। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তরফে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন এবং বাংলার দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা সুনীল বনসলও বৈঠকে ছিলেন।

Published on: Sep 25, 2026, 12:16:48 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

বাংলায় বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই প্রথম বড় মাপের সমন্বয় বৈঠক হল দিল্লিতে। বৃহস্পতিবার রাজধানীতে বিজেপি ও সংঘ পরিবারের শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠকে রাজ্যের সরকার এবং দলের কাজকর্ম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। বিশেষ করে বাংলার সামাজিক পরিস্থিতি, যুব সমাজের প্রত্যাশা, কর্মসংস্থান, মহিলাদের নিরাপত্তা এবং পিছিয়ে থাকা এলাকার উন্নয়ন নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।

বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারী, শমীক ভট্টাচার্য, সুকান্ত মজুমদার এবং রাজ্য বিজেপির সাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক অমিতাভ চক্রবর্তী ছিলেন। (PTI)
বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারী, শমীক ভট্টাচার্য, সুকান্ত মজুমদার এবং রাজ্য বিজেপির সাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক অমিতাভ চক্রবর্তী ছিলেন। (PTI)

বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার এবং রাজ্য বিজেপির সাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক অমিতাভ চক্রবর্তী ছিলেন। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তরফে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন এবং বাংলার দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা সুনীল বনসলও বৈঠকে ছিলেন। সংঘের তরফে ছিলেন বর্ষীয়ান নেতা অরুণ কুমার। অন্য একাধিক প্রতিবেদনে বিজেপির সাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক বি এল সন্তোষের উপস্থিতির কথাও জানা গিয়েছে।

বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল সরকার এবং সংগঠনের মধ্যে সমন্বয়। ভোটের সময় গড়ে ওঠা সাংগঠনিক কাঠামোকে কী ভাবে আরও সক্রিয় রাখা যায়, প্রশাসনের কাজের সঙ্গে দলের সংগঠনের যোগাযোগ কী ভাবে বাড়ানো সম্ভব, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। সরকারের সিদ্ধান্তের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছচ্ছে কি না, সেই বিষয়েও সংগঠনের ভূমিকা নিয়ে কথা হয়েছে।

যুব সমাজকে নিয়েও আলাদা করে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে তরুণদের মধ্যে চাকরি এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হওয়া প্রত্যাশার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে বলে জানা যাচ্ছে। বিশেষ করে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করা এবং যুব সমাজের সঙ্গে সরকারের যোগাযোগ বাড়ানোর উপর জোর দেওয়া হয়েছে।

এর পাশাপাশি মহিলাদের নিরাপত্তা ও সমাজে তাঁদের অংশগ্রহণ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তফসিলি জাতি, তফসিলি জনজাতি এবং পিছিয়ে থাকা এলাকার মানুষের কাছে সরকারের কাজ কতটা পৌঁছেছে, সেই হিসাবও নেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর। সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের সঙ্গে আরও নিয়মিত যোগাযোগ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও বৈঠকে উঠে এসেছে।

সংঘের তরফে মূল বার্তা ছিল, সরকার ক্ষমতায় এলেই কাজ শেষ হয়ে যায় না। সরকারি প্রকল্প এবং সিদ্ধান্তের সুবিধা সমাজের একেবারে শেষ প্রান্তের মানুষের কাছে পৌঁছচ্ছে কি না, তা নিয়মিত খতিয়ে দেখতে হবে। পাশাপাশি স্থানীয় স্তরে মানুষের সমস্যা, ক্ষোভ এবং চাহিদার কথাও প্রশাসনের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ সরকার এবং সংগঠনের মধ্যে দুই দিকের যোগাযোগ আরও শক্ত করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে।

বৈঠকে দলীয় ভাবমূর্তি এবং সংগঠনের ভিত মজবুত করার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই সরকার ও দলের মধ্যে সমন্বয় নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। সেই জায়গা থেকেই কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এবং সংঘের তরফে নিয়মিত নজরদারি ও যোগাযোগ বজায় রাখার বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

রাজ্যে আগামী দিনে সরকারের কাজ এবং সংগঠনের বিস্তার কী ভাবে একসঙ্গে এগোয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের। বৃহস্পতিবারের দিল্লির বৈঠককে সেই বৃহত্তর সমন্বয় প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ বলেই মনে করা হচ্ছে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More