সত্যিকারের ‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’! অন্য ডাইমেনশনে হারিয়ে গেলেন বিজ্ঞানী
Scientist sucked into another dimension rumours: সায়েন্স ফিকশন বা কল্পবিজ্ঞানের সিনেমায় আমরা প্রায়শই দেখি কোনো বিজ্ঞানী ল্যাবে পরীক্ষা করতে গিয়ে হুট করে গায়েব হয়ে অন্য কোনো টাইমলাইন বা ব্ল্যাক হোলের মতো ভিন্ন মাত্রায় চলে গেছেন।
কোয়ান্টাম ফিজিক্স বা কোয়ান্টাম পদার্থবিদ্যার জগৎটা এমনিতেই সাধারণ মানুষের বুদ্ধির অতীত। সেখানে স্থান ও কালের (Space and Time) সমীকরণগুলো সম্পূর্ণ বদলে যায়। তবে সম্প্রতি বিজ্ঞান জগতের এক অদ্ভুত ও রহস্যময় ঘটনা ইন্টারনেট দুনিয়ায় তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

আমেরিকার লস আলামোসের (Los Alamos) একজন অবসরপ্রাপ্ত টেকনিশিয়ান তথা গবেষক অ্যান্থনি চাভেজ (Anthony Chavez)-এর হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে ছড়িয়ে পড়া তীব্র গুঞ্জন দাবি করছে যে, একটি কোয়ান্টাম ল্যাবরেটরিতে ভুল পরীক্ষার (Failed Experiment) সময় তিনি নাকি অন্য কোনো মাত্রায় বা ‘প্যারালাল ডাইমেনশন’-এ (Another Dimension) হারিয়ে গেছেন বা শোষিত (Sucked) হয়েছেন! মজার কথা এই ‘অন্য ডাকইমেনশন’ নিয়ে তৈরি এক ওয়েব সিরিজ সম্প্রতি জনপ্রিয় হয়েছিল। তার নাম ‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’।
সায়েন্স ফিকশন বা কল্পবিজ্ঞানের সিনেমায় আমরা প্রায়শই দেখি কোনো বিজ্ঞানী ল্যাবে পরীক্ষা করতে গিয়ে হুট করে গায়েব হয়ে অন্য কোনো টাইমলাইন বা ব্ল্যাক হোলের মতো ভিন্ন মাত্রায় চলে গেছেন। তবে বাস্তব দুনিয়ায় যখন এমন কোনো তত্ত্ব ডালপালা মেলে, তখন তা সাধারণ মানুষের মনে তীব্র ভয়ের সাথে কৌতূহলও জাগিয়ে তোলে।
অ্যান্থনি চাভেজের নিখোঁজ রহস্য ও ভাইরাল গুঞ্জন
আমেরিকার নিউ মেক্সিকোর লস আলামোস ন্যাশনাল ল্যাবরেটরি—যা ঐতিহাসিকভাবেই অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং ‘ম্যানহাটন প্রজেক্ট’ (পরমাণু বোমা আবিষ্কার)-এর মতো ডিফেন্স সেক্টরের গবেষণার জন্য বিখ্যাত। সেখান থেকেই অবসর নিয়েছিলেন অ্যান্থনি চাভেজ। কিন্তু কিছুদিন আগে তিনি অত্যন্ত রহস্যজনক পরিস্থিতিতে নিজের বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন।
তাঁর এই নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার পর থেকেই সোশাল মিডিয়া, বিশেষ করে টিকটক, এক্স (টুইটার) এবং রেডিট-এ দাবানলের মতো কিছু থিওরি ছড়াতে শুরু করে। ভাইরাল হওয়া বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, চাভেজ গোপনে কোয়ান্টাম ফিজিক্সের এমন একটি জটিল এক্সপেরিমেন্ট করছিলেন, যা কোনোভাবে ব্যর্থ হয়। সেই পরীক্ষার ফলে নাকি ল্যাবের ভেতরে সাময়িকভাবে স্থান-কালের একটি ফাটল বা ‘পোর্টাল’ তৈরি হয়েছিল এবং তিনি সরাসরি অন্য ডাইমেনশনে চলে গেছেন।
বিজ্ঞানীদের ব্যাখ্যা: কল্পবিজ্ঞান বনাম বাস্তবতা
এই গুঞ্জন যখন বিশ্বজুড়ে নেটনাগরিকদের একাংশকে প্রায় বিশ্বাস করিয়ে ছাড়ে, তখনই মূলধারার বিজ্ঞানী ও গবেষকরা এই তত্ত্বকে সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন ও কাল্পনিক’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
পদার্থবিজ্ঞানীদের মতে, কোয়ান্টাম মেকানিক্সের সূক্ষ্ম কণাগুলোর স্তরে অনেক অলৌকিক ঘটনা (যেমন কোয়ান্টাম টানেলিং বা এনট্যাঙ্গেলমেন্ট) ঘটলেও, মানুষের মতো একটি সম্পূর্ণ ত্রি-মাত্রিক (3D) বস্তুর পক্ষে অন্য কোনো ম্যাক্রো-ডাইমেনশনে বা প্যারালাল ইউনিভার্সে চোখের পলকে চলে যাওয়া তাত্ত্বিক এবং বাস্তবিকভাবে অসম্ভব। কোনো বৈজ্ঞানিক পরীক্ষাগারেই এমন কোনো পোর্টাল তৈরির প্রযুক্তি বর্তমান ২০২৬ সালেও মানুষের হাতে আসেনি। ফলে, বিজ্ঞানীদের একাংশের স্পষ্ট বক্তব্য—এই পুরো ঘটনাটি সায়েন্স ফিকশনের স্ক্রিপ্ট ছাড়া আর কিছুই নয়।
ডিফেন্স সেক্টরের গবেষকদের হারিয়ে যাওয়ার নেপথ্য কাহিনী
তবে এই জল্পনার পেছনে অন্য একটি অন্ধকার দিকও দেখছেন অপরাধ বিশেষজ্ঞরা। লস আলামোসের মতো আমেরিকার অত্যন্ত গোপন ও সংবেদনশীল প্রতিরক্ষা বা ডিফেন্স খাতের সাথে যুক্ত বিজ্ঞানীদের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। অতীতেও বেশ কিছু গবেষক রহস্যময়ভাবে উধাও হয়েছেন।
ইন্টারনেটের এই যুগে মানুষের কোনো স্বাভাবিক নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাকে চটকদার করতে অতিপ্রাকৃতিক বা এলিয়েন এবং প্যারালাল ডাইমেনশনের মোড়ক দেওয়া হয়। আসল সত্য হয়তো লুকিয়ে থাকে কোনো গোয়েন্দা সংস্থার চালবাজি, অপহরণ অথবা কোনো ব্যক্তিগত অন্তর্ধানে। চাভেজের নিখোঁজ রহস্যের তদন্তে নেমে পুলিশ ও গোয়েন্দারা এখনো তাঁর কোনো সুনির্দিষ্ট সূত্র খুঁজে পাননি, যা এই জল্পনাকে আরও দীর্ঘস্থায়ী করছে।
অ্যান্থনি চাভেজ সত্যিই অন্য মাত্রায় শোষিত হয়েছেন নাকি কোনো জাগতিক ঘটনার শিকার—তা হয়তো সময়ই বলবে। তবে ‘উইন নিউজ’-এর এই ট্রেন্ডিং রিপোর্ট এটি প্রমাণ করে যে, বিজ্ঞান যতই উন্নত হোক না কেন, মানুষের মন আজও অজানা মহাবিশ্বের রহস্য এবং অদৃশ্য মাত্রার অবৈজ্ঞানিক রূপকথার প্রতি সমভাবেই আকৃষ্ট হয়।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


