Russia on India not Buying Russian Oil: আমেরিকার চাপে কি রুশ তেল কেনা বন্ধ করছে ভারত? বড় দাবি মস্কোর
রাশিয়ার বিদেশ মন্ত্রণালয় বুধবার স্পষ্টভাবে বলেছে যে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার ক্ষেত্রে ভারতের অবস্থানে কোনও পরিবর্তন হয়েছে, এমন কোনও ইঙ্গিত তারা পায়নি। মস্কোর বক্তব্য, রাশিয়া ভারতের সাথে এই বাণিজ্যকে পারস্পরিক ভাবে লাভজনক এবং বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারকে তা স্থিতিশীল রাখে।
ভারতের রুশ তেল আমদানি কমানো বা বন্ধ করা নিয়ে মার্কিন দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে রাশিয়া। রাশিয়ার বিদেশ মন্ত্রণালয় বুধবার স্পষ্টভাবে বলেছে যে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার ক্ষেত্রে ভারতের অবস্থানে কোনও পরিবর্তন হয়েছে, এমন কোনও ইঙ্গিত তারা পায়নি। মস্কোর বক্তব্য, রাশিয়া ভারতের সাথে এই বাণিজ্যকে পারস্পরিক ভাবে লাভজনক এবং বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারকে তা স্থিতিশীল রাখে।
রুশ বিদেশ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা তাঁর সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে বলেন, 'রাশিয়ার হাইড্রোকার্বন কেনার বিষয়ে ভারত যে অবস্থান পরিবর্তন করেছে তা বিশ্বাস করার কোনও কারণ আমাদের নেই। ভারত রাশিয়ার হাইড্রোকার্বন কেনার ফলে উভয় দেশই উপকৃত হবে এবং আন্তর্জাতিক শক্তি বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করবে।' মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিওর দাবির সমালোচনা করে জাখারোভা বলেন, 'মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিওর দাবি নতুন নয়। তাঁরা স্বাধীন দেশগুলোকে আদেশ দেন এবং সেই দেশগুলির অধিকার কেড়ে নিয়েছেন।'
এর আগে রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কেনার কথা উল্লেখ করে ভারতের উপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তবে সম্প্রতি ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির আবহে সেই অতিরিক্ত শুল্ক প্রত্যাহার করেছে আমেরিকা। সঙ্গে আবার ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ভারত যদি ফের রাশিয়ার থেকে তেল কেনে, তাহলে সেই অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আবারও ভারতের ওপর আরোপ করা হবে। এরই মধ্যে জানা গেল, রাশিয়ার থেকে তেল সহ অন্যান্য পণ্য কেনার হার উল্লেখযোগ্য ভাবে কমিয়েছে ভারত।
গত ১৬ ফব্রুয়ারি প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুসারে, রাশিয়া থেকে ভারতের পণ্যদ্রব্য আমদানি জানুয়ারিতে ৪০.৪৮ শতাংশ কমেছে। তথ্য অনুসারে, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে রাশিয়া থেকে ভারতের আমদানি প্রায় ৪.৮১ বিলিয়ন ডলার ছিল। ২০২৬ সাল জানুয়ারি তা নেমে এসেছে ২.৮৬ বিলিয়ন ডলারে। তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় রিফাইনারিগুলিও রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কেনা কমিয়েছে। উল্লেখ্য, অপরিশোধিত তেল ছাড়াও রাশিয়া থেকে কয়লা, অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্য, সার, লোহা, নিউজপ্রিন্ট, ডাল, মুক্তো, মূল্যবান এবং আধা-মূল্যবান পাথর আমদানি করে থাকে ভারত।
এর আগে ২০২৫ সালের এপ্রিলে রাশিয়া থেকে প্রায় ৪.৭৩ বিলিয়ন ডলার মূল্যের তেল আমদানি করেছে ভারত। সেই মাসেই ট্রাম্প তাঁর 'মুক্তি দিবসের' শুল্ক ঘোষণা করেছিলেন। সেই সময় ভারতের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছিল আমেরিকা। যা কিনা বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানের থেকে বেশি ছিল। তারপরে অপারেশন সিঁদুরের পর থেকে ট্রাম্প প্রশাসন ক্রমাগত ভারতকে নিশানা করে চলেছে। রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য জরিমানা হিসাবে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল আমেরিকা। সব মিলিয়ে ভারতীয় পণ্যগুলির উপর ৫০ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপ করেছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তবে সাম্প্রতিক ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির ঘোষণার পর থেকে রাশিয়ার তেল কেনা কমিয়েছে ভারত। আর অন্তর্বর্তীকালীন এই বাণিজ্য চুক্তিতে সম্মত হওয়ার পর ভারতের ওপর আরোপিত শুল্ক কমিয়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যদিও ভারত বলেছে, দেশের স্বার্থের কথা বিবেচনা করেই তেল কেনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এতে কোনও 'চাপের' প্রভাব নেই।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


