Russia Sanction Bill Amendment: ভারত-রুশ বন্ধুত্বে ওয়াশিংটনের চাপ? রাশিয়া নিষেধাজ্ঞা বিলের সংশোধনীতে সরাসরি ভারতের নাম

মার্কিন কংগ্রেসে আলোচনায় থাকা ‘Lindsey O. Graham Sanctioning Russia and Iran Act of 2026’ আইনে রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়া দেশগুলির বিরুদ্ধে কঠোর অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা

Published on: Sep 15, 2026, 13:25:08 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

ভারত ও রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে ওয়াশিংটনের অস্বস্তি ফের প্রকাশ্যে। নয়াদিল্লিতে BRICS শীর্ষ সম্মেলনের আবহে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠতা নতুন করে সামনে আসার পরই মার্কিন কংগ্রেসে রাশিয়া-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা বিল ঘিরে তৎপরতা বেড়েছে। নতুন প্রস্তাবিত সংশোধনীতে রাশিয়া থেকে জ্বালানি কেনে এমন দেশগুলির তালিকায় ভারতের নাম সরাসরি লিখে দেওয়ার দাবি উঠেছে।

ভারত-রুশ বন্ধুত্বে ওয়াশিংটনের চাপ? রাশিয়া নিষেধাজ্ঞা বিলের সংশোধনীতে সরাসরি ভারতের নাম (PMO )
ভারত-রুশ বন্ধুত্বে ওয়াশিংটনের চাপ? রাশিয়া নিষেধাজ্ঞা বিলের সংশোধনীতে সরাসরি ভারতের নাম (PMO )

মূল বিষয় হল, মার্কিন কংগ্রেসে আলোচনায় থাকা ‘Lindsey O. Graham Sanctioning Russia and Iran Act of 2026’ আইনে রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়া দেশগুলির বিরুদ্ধে কঠোর অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা। তবে এই শুল্ক এখনও ভারতের ওপর কার্যকর হয়নি; বিলটি এখনও মার্কিন হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে প্রক্রিয়াধীন এবং চূড়ান্তভাবে আইন হওয়ার বিষয়টি বাকি।

এই বিলের আরও কড়া প্রয়োগ নিশ্চিত করতে ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান স্টেনি হোয়ার একটি সংশোধনী জমা দিয়েছেন। মার্কিন হাউসের Rules Committee-র সরকারি নথি অনুযায়ী, ওই সংশোধনীতে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল বা গ্যাস কেনা কিংবা নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সাহায্য করা দেশের তালিকায় সরাসরি চিন, ভারত, তুরস্ক, আজারবাইজান, হাঙ্গেরি, স্লোভাক রিপাবলিক, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, সিঙ্গাপুর, কাজাখস্তান এবং কিরগিজ রিপাবলিকের নাম রাখার কথা বলা হয়েছে। এই দেশগুলির জন্য সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের সুযোগ রাখার প্রস্তাব রয়েছে।

অর্থাৎ এতদিন ‘রাশিয়ার তেল কেনা দেশ’ বলে যে সাধারণ কাঠামোর কথা বলা হচ্ছিল, প্রস্তাবিত সংশোধনীতে তার বদলে নির্দিষ্ট দেশগুলির নাম আলাদা করে উল্লেখ করার চেষ্টা হচ্ছে। ভারতের ক্ষেত্রে বিষয়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ ইউক্রেন যুদ্ধের পর পশ্চিমী নিষেধাজ্ঞার মাঝেও ভারত রাশিয়ার কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে তেল কিনে এসেছে। নয়াদিল্লির যুক্তি, দেশের বিপুল জ্বালানি চাহিদা মেটাতে এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখতে সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে তেল আমদানি করা জাতীয় স্বার্থের বিষয়।

বিলটির পেছনে প্রয়াত মার্কিন সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের নাম রয়েছে। সেনেটে এই legislation বিপুল দ্বিদলীয় সমর্থন পেয়েছে। জুলাইয়ে এটি ৮৬-১২ ভোটে অগ্রসর হয় এবং বর্তমানে হাউস পর্যায়ে পরবর্তী প্রক্রিয়ার দিকে এগোচ্ছে। প্রস্তাবটির অন্যতম লক্ষ্য রাশিয়ার জ্বালানি আয়ের ওপর চাপ বাড়ানো এবং মস্কোর সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়া দেশগুলির ওপরও অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করা।

এখানে ভারতের জন্য ঝুঁকিটা শুধু শুল্কের অঙ্কে সীমাবদ্ধ নয়। ওয়াশিংটন যদি রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের জ্বালানি বাণিজ্যকে সরাসরি লক্ষ্য করে, তা হলে দুই দেশের দীর্ঘদিনের কৌশলগত সম্পর্কের ওপরও নতুন চাপ তৈরি হতে পারে। একইসঙ্গে মার্কিন বাজারে ভারতীয় পণ্যের প্রবেশের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত শুল্কের প্রভাব পড়তে পারে।

তবে এই প্রস্তাবের আরেকটি দিকও গুরুত্বপূর্ণ। হাউসে বিলটি আদৌ একই রূপে পাস হবে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। এমনকি কংগ্রেসে প্রেসিডেন্টের শুল্ক ক্ষমতা আরও বাড়ানো নিয়ে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের মধ্যেও মতভেদ রয়েছে। ফলে এখনই ভারতের ওপর ১০০ শতাংশ মার্কিন শুল্ক বসছে—এমন কথা বলা ঠিক হবে না।

তবু বার্তাটি স্পষ্ট—রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের অর্থনৈতিক সম্পর্ক, বিশেষ করে তেল বাণিজ্য, এখন মার্কিন নীতিনির্ধারকদের নজরের কেন্দ্রে। BRICS মঞ্চে মোদী-পুতিনের ঘনিষ্ঠতার পাশাপাশি যদি ওয়াশিংটন সত্যিই ভারতের নামকে রাশিয়া-নিষেধাজ্ঞা কাঠামোর মধ্যে আলাদা করে অন্তর্ভুক্ত করে, তা হলে ভারত-মার্কিন সম্পর্কের সামনে তৈরি হতে পারে নতুন কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক পরীক্ষা।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More