Ukraine War Fuel Ceasefire: ইউক্রেন যুদ্ধে ‘জ্বালানি সংঘর্ষবিরতি’! জানতেনই না জেলেনস্কি, ট্রাম্পের ঘোষণায় ধোঁয়াশা

ইউক্রেনের দাবি, রুশ বাহিনী তাদের বিদ্যুৎ ও তাপ সরবরাহের পরিকাঠামোয় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে সংঘর্ষবিরতির ঘোষণা ঘিরে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। মস্কোর তরফেও এই চুক্তির বিষয়ে তাৎক্ষণিক ভাবে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

Published on: Oct 12, 2026, 08:29:40 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

রাশিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধে শান্তি ফেরাতে নতুন উদ্যোগের ঘোষণা করলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ বার যুদ্ধ থামানোর বদলে জ্বালানি পরিকাঠামোয় হামলা বন্ধ করার কথা বললেন তিনি। রবিবার সমাজমাধ্যমে ট্রাম্প দাবি করেন, রাশিয়া ও ইউক্রেন দু’পক্ষই জ্বালানি ক্ষেত্রে সংঘর্ষবিরতিতে রাজি হয়েছে। তা অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও জানান তিনি। কিন্তু ট্রাম্পের ঘোষণার পরেও পরিস্থিতি বদলায়নি। ইউক্রেনের দাবি, রুশ বাহিনী তাদের বিদ্যুৎ ও তাপ সরবরাহের পরিকাঠামোয় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে সংঘর্ষবিরতির ঘোষণা ঘিরে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। মস্কোর তরফেও এই চুক্তির বিষয়ে তাৎক্ষণিক ভাবে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

ইউক্রেন যুদ্ধে জ্বালানি পরিকাঠামোয় হামলা বন্ধ করার কথা বললেন ট্রাম্প, জ্বালানি সংঘর্ষবিরতি নিয়ে জানেনই না জেলেনস্কি
ইউক্রেন যুদ্ধে জ্বালানি পরিকাঠামোয় হামলা বন্ধ করার কথা বললেন ট্রাম্প, জ্বালানি সংঘর্ষবিরতি নিয়ে জানেনই না জেলেনস্কি

ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে জ্বালানি ক্ষেত্রে সংঘর্ষবিরতি অবিলম্বে কার্যকর হচ্ছে। দু’পক্ষই এই সিদ্ধান্তে রাজি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। সেই সঙ্গে সতর্ক করে বলেন, এই সংঘর্ষবিরতি যেন কেউ ভেঙে না দেয়। তবে কী কী শর্তে এই সমঝোতা হয়েছে, কত দিন তা কার্যকর থাকবে, কিংবা তা কী ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু জানাননি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, সংঘর্ষবিরতির প্রস্তাবকে স্বাগত জানাচ্ছে তাঁর দেশ। এরই সঙ্গে তিনি এও বলেন, 'এই সংঘর্ষবিরতি আমার জন্যেও খবর'। অর্থাৎ, জেলেনস্কিকে অন্ধকারে রেখেই এই ঘোষণা করেন ট্রাম্প। এই আবহে জেলেনস্কি জানান, আমেরিকার কাছ থেকে এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছে কিভ। তাঁর বক্তব্য, রাশিয়াও যদি ইউক্রেনের জ্বালানি পরিকাঠামোয় হামলা বন্ধ করে, তা হলে রুশ জ্বালানি পরিকাঠামোয় হামলা থেকে বিরত থাকতে প্রস্তুত ইউক্রেন। কিন্তু ট্রাম্পের ঘোষণার পরেও রুশ হামলা অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। ইউক্রেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খারকিভের বিদ্যুৎ ও তাপ উৎপাদন কেন্দ্রেও হামলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলেনস্কি।

কেন এই উদ্যোগ?

ট্রাম্পের এই ঘোষণার নেপথ্যে আন্তর্জাতিক জ্বালানির বাজারের পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ইরানকে ঘিরে চলা সংঘাতের জেরে বিশ্ব বাজারে জ্বালানির দাম বেড়েছে। আমেরিকাতেও ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে চাপের মুখে রয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। আগামী মাসে আমেরিকায় মধ্যবর্তী নির্বাচন। তার আগে জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা রিপাবলিকান দলের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।

সম্প্রতি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন ট্রাম্প। রাশিয়া থেকে ডিজেল কেনার বিষয়ে সমঝোতার কথাও সামনে এসেছে। সেই পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের রুশ তেল শোধনাগারগুলিতে হামলা বন্ধ করার জন্য কিভের উপর চাপ বাড়িয়েছেন ট্রাম্প। তাঁর অভিযোগ, রাশিয়ার জ্বালানি পরিকাঠামোয় ইউক্রেনের হামলা আমেরিকার ডিজেলের দাম বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। তবে জেলেনস্কি এই যুক্তি মানতে নারাজ। তাঁর বক্তব্য, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের প্রভাবেই আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়ছে।

এর আগে গত ১৪ সেপ্টেম্বরও রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে জ্বালানি পরিকাঠামোয় হামলা বন্ধের সমঝোতার কথা জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু সেই উদ্যোগ বাস্তবে কার্যকর হয়নি। এ বারও একই রকম পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকছে।

যুদ্ধের অবসান নিয়ে ট্রাম্প ও জেলেনস্কির মতপার্থক্যও প্রকাশ্যে এসেছে। ইউক্রেনে নতুন করে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পক্ষেও সওয়াল করেছেন ট্রাম্প। জবাবে জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রাশিয়া যদি ৬০ দিনের জন্য সম্পূর্ণ সংঘর্ষবিরতিতে রাজি হয়, তা হলে নির্বাচনের আয়োজন করা সম্ভব। যুদ্ধকালীন আইনে ইউক্রেনে নির্বাচন করা নিয়ে আইনি বাধাও রয়েছে।

সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের ঘোষণায় আপাতত শান্তির সম্ভাবনা তৈরি হলেও বাস্তবে সংঘর্ষ থামার কোনও স্পষ্ট লক্ষণ নেই। মস্কো আনুষ্ঠানিক সম্মতি জানায় কি না এবং জ্বালানি পরিকাঠামোয় হামলা বন্ধ হয় কি না, এখন নজর সেদিকেই।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More