Russia-Ukraine War: ট্রাম্পের 'এনার্জি সিজফায়ার' হেলায় উড়িয়ে হামলা রাশিয়ার, আঁধার নামল ইউক্রেনে

Russia-Ukraine War: সম্প্রতি একে অপরের তৈল শোধনাগার এবং শক্তি উৎপাদন কেন্দ্রগুলিকে লক্ষ্য করে লাগাতার হামলা চালাচ্ছে রাশিয়া এবং ইউক্রেন। এই পরিস্থিতিতে শনিবার হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, দুই দেশ সংঘর্ষবিরতিতে রাজি হয়েছে।

Published on: Oct 12, 2026, 23:11:05 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

Russia-Ukraine War: রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) ট্রুথ সোশ্যালে (Truth Social) দাবি করেছিলেন, দু’পক্ষই অবিলম্বে কার্যকর হওয়া একটি 'এনার্জি সিজফায়ার' বা শক্তি ক্ষেত্রে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই আকস্মিক ঘোষণায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি জানিয়েছেন, এমন কোনও চুক্তির খবর তাঁর জানা ছিল না। উল্টে রুশ ড্রোনের হামলায় ইউক্রেনের পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে। সে দেশের এক বিস্তীর্ণ অংশ জুড়ে জল ও শক্তি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ভলোদিমির জেলেনস্কির মন্তব্য, ‘এটা পরিষ্কার, পুতিন মনে হয় ট্রাম্পের পোস্টটা পড়েননি।’

Rescuers work in a shop destroyed following a Russian missile attack in Pesochin settlement, a suburb of Kharkiv, which killed three people and wounded 22, on October 11, 2026, amid the Russian invasion of Ukraine. (Photo by SERGEY BOBOK / AFP) (AFP)
Rescuers work in a shop destroyed following a Russian missile attack in Pesochin settlement, a suburb of Kharkiv, which killed three people and wounded 22, on October 11, 2026, amid the Russian invasion of Ukraine. (Photo by SERGEY BOBOK / AFP) (AFP)

সম্প্রতি একে অপরের তৈল শোধনাগার এবং শক্তি উৎপাদন কেন্দ্রগুলিকে লক্ষ্য করে লাগাতার হামলা চালাচ্ছে রাশিয়া এবং ইউক্রেন। এই পরিস্থিতিতে শনিবার হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, দুই দেশ সংঘর্ষবিরতিতে রাজি হয়েছে। নিজস্ব সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশালে তিনি লেখেন, ‘রাশিয়া এবং ইউক্রেনের মধ্যে এনার্জি সিজফায়ার হয়েছে। অর্থাৎ দুই দেশ একে অপরের শক্তিসম্পদ লক্ষ্য করে হামলা চালাবে না। দুই দেশ রাজি হয়েছে এবং এই মুহূর্ত থেকেই নতুন সংঘর্ষবিরতি কার্যকর হয়েছে।’ উভয় পক্ষকে এই চুক্তি না ভাঙার আহ্বান জানালেও ট্রাম্প কীভাবে এই চুক্তি বাস্তবায়িত হবে বা এর মেয়াদ কতদিন, সে বিষয়ে কোনও স্পষ্ট রূপরেখা দেননি। ক্রেমলিন বা হোয়াইট হাউস থেকেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু নিশ্চিত করা হয়নি।

আর এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট যারপরনাই বিস্ময় প্রকাশ করে জানান, তিনিও পুরো বিষয়টা ট্রাম্পের পোস্ট পড়েই জানতে পেরেছেন। জেলেনস্কি বলেন, গত রাতে রাশিয়ার কোনও তেল শোধনাগারই আগুনে জ্বলছিল না। অথচ মধ্যরাতে রাশিয়া ইউক্রেনের একটি গ্যাস উৎপাদন কেন্দ্রে আঘাত হেনেছে। ড্রোন হামলা করে একটি সাধারণ গ্যাস স্টেশনেও হামলা চালানো হয়। তাঁর কথায়, 'ট্রাম্পের প্রতি এটাই পুতিনের জবাব। রাশিয়ার হামলা।' জেলেনস্কি আরও জানান যে, গত সপ্তাহে ট্রাম্প ঘোষিত ডিজেল সংক্রান্ত চুক্তির বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে হওয়া আলোচনার বিস্তারিত তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছে ইউক্রেন। তিনি বলেন, 'এই জ্বালানি-সংক্রান্ত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে তা যুদ্ধবিরতির পথে একটা বড় পদক্ষেপ হয়ে উঠতে পারে। যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখন সত্যিই এতে সক্রিয় ভূমিকা নেয় এবং নিশ্চিত করে যে রাশিয়া যেন এই যুদ্ধবিরতি মেনে চলে।' একই সঙ্গে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেছেন।

এদিকে, ইউক্রেনে নির্বাচন আয়োজনের আহ্বানও জানিয়েছেন ট্রাম্প। ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার হামলা শুরুর পর থেকে দেশটিতে নির্বাচন স্থগিত রয়েছে। জেলেনস্কি বলেছেন, পুতিন ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতিতে রাজি হলে তিনি নির্বাচন আয়োজন করবেন। তবে সামরিক আইন চলাকালে ইউক্রেনের আইনে নির্বাচন নিষিদ্ধ। বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বাড়ার জন্য তাকে দায়ী করারও বিরোধিতা করেছেন জেলেনস্কি। তাঁর মতে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধই জ্বালানির দাম বাড়ার বড় কারণ। ইরান যুদ্ধ শুরুর পর ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় আগামী মাসের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি চাপে পড়েছে।