ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে পুতিনকে বড় প্রস্তাব ট্রাম্পের! ইউরোপে ফের রাশিয়ার গ্যাস, মধ্যস্থতায় আমেরিকা

আমেরিকার পাশাপাশি ইউরোপ এবং ইউক্রেনের আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করেই এই পরিকল্পনা তৈরি হয়েছে। মার্কিন দূত জারেড কুশনার এবং স্টিভ উইটকফ গত সেপ্টেম্বর মাসে মস্কো ও কিয়েভ সফরের সময় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছিলেন।

Published on: Nov 2, 2026, 09:27:58 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে রাশিয়ার সঙ্গে ইউরোপের জ্বালানি সম্পর্ক ফের স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নিতে পারে আমেরিকা। যুদ্ধের কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া রুশ প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ ইউক্রেনের মধ্য দিয়ে আবার ইউরোপে চালু করার পরিকল্পনা খতিয়ে দেখছে ওয়াশিংটন। শীতের আগে মস্কো এবং কিয়েভের মধ্যে জ্বালানি ক্ষেত্রে সংঘর্ষবিরতি কার্যকর করাই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। পাশাপাশি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে আলোচনার টেবিলে আনতেও এই প্রস্তাবকে হাতিয়ার করতে চাইছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ইউরোপের একাধিক দেশের আপত্তি এবং মস্কোর অনাগ্রহের কারণে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কতটা সম্ভব, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে পুতিনকে বড় প্রস্তাব ট্রাম্পের! ইউরোপে ফের রাশিয়ার গ্যাস
ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে পুতিনকে বড় প্রস্তাব ট্রাম্পের! ইউরোপে ফের রাশিয়ার গ্যাস

'দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল'-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আমেরিকার পাশাপাশি ইউরোপ এবং ইউক্রেনের আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করেই এই পরিকল্পনা তৈরি হয়েছে। মার্কিন দূত জারেড কুশনার এবং স্টিভ উইটকফ গত সেপ্টেম্বর মাসে মস্কো ও কিয়েভ সফরের সময় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। প্রস্তাব অনুযায়ী, আমেরিকার কোনও মধ্যস্থতাকারী সংস্থা রাশিয়ার কাছ থেকে গ্যাস কিনে ইউরোপে বিক্রি করতে পারে। সরাসরি রাশিয়ার সঙ্গে লেনদেনের পরিবর্তে এই ব্যবস্থায় মার্কিন সংস্থাগুলিও ব্যবসায়িক ভাবে লাভবান হতে পারে।

কী ভাবে ফিরবে রুশ গ্যাস?

প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় সোভিয়েত আমলে তৈরি পাইপলাইন ব্যবস্থাকে কাজে লাগানোর কথা ভাবা হচ্ছে। সাইবেরিয়ার উরেঙ্গয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে ইউক্রেনের মধ্য দিয়ে ইউরোপে গ্যাস পাঠানোর পুরনো পথটি আবার চালু করা হতে পারে। এই পাইপলাইনের মাধ্যমে স্লোভাকিয়া হয়ে অস্ট্রিয়া এবং জার্মানির দিকে গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব।

২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ইউক্রেন রাশিয়ার গ্যাস পরিবহণ বন্ধ করে দেয়। ফলে ওই পথ দিয়ে ইউরোপে রুশ গ্যাসের সরবরাহ থমকে যায়। তবে পাইপলাইনটি পুরোপুরি নতুন করে তৈরি করার প্রয়োজন নেই। তাই রাজনৈতিক সমঝোতা হলে দ্রুত সরবরাহ শুরু করা সম্ভব বলে মনে করছেন মার্কিন আধিকারিকেরা।

এই ব্যবস্থায় ইউক্রেনেরও আর্থিক লাভ হতে পারে। কারণ, তাদের ভূখণ্ডের উপর দিয়ে গ্যাস পরিবহণ হলে ট্রানজিট চার্জ বাবদ অর্থ পাবে কিয়েভ। অন্য দিকে, রাশিয়ার গ্যাস বিক্রির টাকা সরাসরি মস্কোর হাতে পৌঁছলে তা যুদ্ধের কাজে ব্যবহৃত হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। সেই ঝুঁকি এড়াতে তৃতীয় কোনও দেশের নিরাপদ আর্থিক হিসাবে গ্যাস বিক্রির অর্থ জমা রাখার প্রস্তাবও দিয়েছে ওয়াশিংটন।

ইউরোপের আপত্তি কোথায়?

এই পরিকল্পনার পথে সবচেয়ে বড় বাধা ইউরোপীয় ইউনিয়নের অবস্থান। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে ইউরোপের গ্যাসের চাহিদার প্রায় ৪৫ শতাংশ মেটাত রাশিয়া। যুদ্ধের পর সেই নির্ভরতা অনেকটাই কমেছে। বর্তমানে আমেরিকা থেকে আসা তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) উপর নির্ভরতা বেড়েছে ইউরোপের।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন ২০২৭ সালের মধ্যে রাশিয়ার প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি পুরোপুরি বন্ধ করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে যুদ্ধ চলাকালীন মস্কোর সঙ্গে নতুন করে জ্বালানি বাণিজ্য শুরু করতে রাজি নন ইউরোপের একাধিক নেতা। তাঁদের মতে, রাশিয়ার উপর ফের নির্ভরশীল হয়ে পড়লে ইউরোপের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে।

তবে ইউরোপের সামনে নতুন করে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কাও রয়েছে। ইরানকে ঘিরে সংঘাতের কারণে কাতার থেকে তরল গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। পাশাপাশি শীতের আগে ইউরোপের গ্যাস ভাণ্ডারও প্রত্যাশার তুলনায় কম ভর্তি। ফলে সস্তায় রুশ গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা কয়েকটি দেশের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে।

এ দিকে, ইউক্রেনের জ্বালানি পরিকাঠামোয় রাশিয়ার হামলা এবং রুশ তেল শোধনাগারে কিয়েভের পাল্টা আক্রমণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। নভেম্বরের মাঝামাঝি আবুধাবিতে আমেরিকা, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে ত্রিপাক্ষিক বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। সেখানে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে মস্কো এখনও মার্কিন প্রস্তাবে সম্মতি দেয়নি। ফলে ট্রাম্পের এই পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয় কি না, সেটাই এখন দেখার।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More