Russian Oil Buying Tariff: রাশিয়ার জ্বালানি কিনলেই বাড়তি শুল্ক দিতে হবে আমেরিকাকে, তবে ৫০০% নয়; কত দিতে হবে ভারতকে?
প্রথমে প্রস্তাব ছিল, যে দেশগুলি রাশিয়ার কাছ থেকে তেল বা প্রাকৃতিক গ্যাস কিনবে, তাদের উপর ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক চাপানো হবে। কিন্তু নতুন খসড়ায় সেই হার কমিয়ে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ করা হয়েছে। এই নিয়ম মূলত রাশিয়ার জ্বালানি কেনা শীর্ষ পাঁচ দেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
Russian Oil Buying Tariff impact on India: রাশিয়ার উপর আরও অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করতে নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত একটি সংশোধিত বিল প্রকাশ করেছেন মার্কিন আইনপ্রণেতারা। রিপাবলিকান নেতা লিন্ডসে গ্রাহাম এবং ডেমোক্র্যাট নেতা রিচার্ড ব্লুমেনথালের উদ্যোগে তৈরি এই দ্বিদলীয় বিলের নতুন সংস্করণে আগের প্রস্তাবের তুলনায় অনেকটাই নরম করা হয়েছে শুল্কের বিধান। ফলে ভারত-সহ রাশিয়ার কাছ থেকে তেল ও গ্যাস আমদানি করা দেশগুলির জন্য কিছুটা স্বস্তির ইঙ্গিত মিলেছে।

প্রথমে প্রস্তাব ছিল, যে দেশগুলি রাশিয়ার কাছ থেকে তেল বা প্রাকৃতিক গ্যাস কিনবে, তাদের উপর ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক চাপানো হবে। কিন্তু নতুন খসড়ায় সেই হার কমিয়ে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ করা হয়েছে। এই নিয়ম মূলত রাশিয়ার জ্বালানি কেনা শীর্ষ পাঁচ দেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এই তালিকায় রয়েছে ভারত, চিন, স্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি এবং আজারবাইজান।
মার্কিন আইনপ্রণেতাদের দাবি, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার দীর্ঘদিনের যুদ্ধ চালিয়ে যেতে জ্বালানি রফতানি থেকে বিপুল আয় হচ্ছে। সেই আয়ের পথ বন্ধ করতেই এই নতুন বিল আনা হয়েছে। তাঁদের মতে, রাশিয়ার উপর অর্থনৈতিক চাপ যত বাড়বে, যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাবনাও তত বাড়বে।
নতুন বিলে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ছাড় রাখা হয়েছে। যে দেশগুলি রাশিয়ার মোট প্রাকৃতিক গ্যাস রফতানির ১৫ শতাংশেরও কম আমদানি করে এবং ধীরে ধীরে সেই আমদানি কমানোর পদক্ষেপ নিচ্ছে, তারা এই শুল্ক থেকে ছাড় পেতে পারে। এর ফলে জাপান, ফ্রান্স, হাঙ্গেরি ও বেলজিয়ামের মতো দেশ সুবিধা পেতে পারে।
শুধু শুল্ক নয়, সংশোধিত বিলে রাশিয়ার তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। পশ্চিমা দেশের নজর এড়িয়ে তেল পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত ট্যাঙ্কারগুলির উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক, একাধিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং ইয়ামাল এলএনজি ও আর্কটিক এলএনজি প্রকল্পের মতো রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি প্রকল্পগুলির উপরও নতুন নিষেধাজ্ঞা চাপানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
তবে এই বিলে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা যোগ করা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চাইলে জাতীয় স্বার্থের কথা বিবেচনা করে এই নিষেধাজ্ঞাগুলি সাময়িকভাবে স্থগিত বা মকুব করতে পারবেন। অর্থাৎ প্রয়োজনে হোয়াইট হাউসের হাতে কিছুটা নমনীয়তার সুযোগ রাখা হয়েছে।
এই বিলটি প্রথম ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে মার্কিন সিনেটে উত্থাপন করা হয়েছিল। পরে এতে একাধিক সংশোধন আনা হয়। সিনেটের একাধিক সদস্য ইতিমধ্যেই বিলটির সমর্থনে এগিয়ে এসেছেন। বিলটির সহ-সমর্থকের সংখ্যাও দ্রুত বাড়ছে বলে জানিয়েছেন সিনেটের কর্মকর্তারা। তাঁদের আশা, কংগ্রেসে এই বিল পাস হওয়ার সম্ভাবনা যথেষ্ট উজ্জ্বল।
আন্তর্জাতিক মহলের নজর এখন এই বিলের ভবিষ্যতের দিকে। কারণ এটি আইনে পরিণত হলে শুধু রাশিয়া নয়, ভারত ও চিনের মতো রাশিয়ার জ্বালানিনির্ভর দেশগুলির বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্কের উপরও এর প্রভাব পড়তে পারে। তবে আগের তুলনায় শুল্কের হার অনেকটাই কমানো হওয়ায় ভারত-সহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলির জন্য আপাতত কিছুটা স্বস্তির বার্তাই মিলেছে।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


