Russian Pantsir Air Defence: ভারতে তৈরি হতে পারে রাশিয়ার প্যান্টসির এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম, প্রযুক্তি হস্তান্তরের প্রস্তাব

ভারত সরকার এই ব্যবস্থা কেনার অনুমোদন দিলে রাশিয়া প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে ভারতে স্থানীয়ভাবে এর উৎপাদনের সুযোগ দিতে পারে। ভারতীয় প্রতিরক্ষা সংস্থা ভারত ডায়নামিক্স লিমিটেড বা BDL-এর মাধ্যমে এই উৎপাদন হতে পারে।

Published on: Sep 17, 2026, 08:11:05 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

ভারতে এবার তৈরি হতে পারে রাশিয়ার অত্যাধুনিক ‘প্যান্টসির’ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম। ভারত সরকার এই ব্যবস্থা কেনার অনুমোদন দিলে রাশিয়া প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে ভারতে স্থানীয়ভাবে এর উৎপাদনের সুযোগ দিতে পারে। ভারতীয় প্রতিরক্ষা সংস্থা ভারত ডায়নামিক্স লিমিটেড বা BDL-এর মাধ্যমে এই উৎপাদন হতে পারে।

ভারতে এবার তৈরি হতে পারে রাশিয়ার অত্যাধুনিক ‘প্যান্টসির’ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম।
ভারতে এবার তৈরি হতে পারে রাশিয়ার অত্যাধুনিক ‘প্যান্টসির’ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম।

বর্তমানে ড্রোন, ক্রুজ মিসাইল এবং নিচু উচ্চতায় উড়ে আসা বিভিন্ন ধরনের আকাশপথের হুমকি মোকাবিলায় ভারতের স্বল্প-পাল্লার এয়ার ডিফেন্স ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজন রয়েছে। সেই জায়গায় প্যান্টসির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। এই সিস্টেমে একসঙ্গে সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল এবং স্বয়ংক্রিয় কামান রয়েছে। ফলে এটি খুব কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি, অস্ত্র ব্যবস্থা এবং অন্যান্য উচ্চমূল্যের সম্পদকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য তৈরি।

ভারতে প্যান্টসির উৎপাদনের সম্ভাবনা অবশ্য একেবারে নতুন নয়। ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে BDL এবং রাশিয়ার সরকারি অস্ত্র রফতানি সংস্থা রোসোবোরোনএক্সপোর্টের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক বা MoU স্বাক্ষর হয়েছিল। সেই চুক্তিতে প্যান্টসিরের বিভিন্ন সংস্করণ নিয়ে সহযোগিতার কথা বলা হয়েছিল। যদিও তখন নির্দিষ্ট কোন ভ্যারিয়েন্ট ভারতে তৈরি হবে, তা প্রকাশ করা হয়নি।

BDL-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, চুক্তির আওতায় প্যান্টসিরের বিভিন্ন সংস্করণ ভারতে তৈরি করে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীকে সরবরাহের সম্ভাবনা রয়েছে। বিদেশি প্রযুক্তি গ্রহণ করে দেশের নিজস্ব উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো এবং ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগকে আরও দ্রুত এগিয়ে নেওয়াই এই ধরনের প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য।

এদিকে রাশিয়া নতুন প্রজন্মের প্যান্টসির-S1M সংস্করণকে সামনে আনছে। ২০২৫ সালের অ্যারো ইন্ডিয়াতেও রোসোবোরোনএক্সপোর্ট এই সিস্টেমের রাডার এবং ইলেকট্রো-অপটিক্যাল সেন্সর সম্পর্কে তথ্য তুলে ধরেছিল।

প্যান্টসির-S1M-এর টার্গেট শনাক্ত ও ট্র্যাকিং রাডার একসঙ্গে ৪০টি পর্যন্ত লক্ষ্য শনাক্ত ও অনুসরণ করতে পারে এবং সর্বোচ্চ ৮০ কিলোমিটার দূরত্বে কাজ করতে সক্ষম বলে রাশিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এর মাল্টিফাংশন রাডার একসঙ্গে চারটি লক্ষ্য ট্র্যাক করতে পারে এবং চারটি মিসাইল পরিচালনা করতে পারে।

ভারতের এয়ার ডিফেন্স ব্যবস্থায় ইতিমধ্যেই বিভিন্ন স্তরের সিস্টেম রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে S-400, বারাক-৮ এবং ভবিষ্যতের প্রজেক্ট কুশা। এই বহুতল প্রতিরক্ষা কাঠামোয় স্বল্প-পাল্লার সুরক্ষার জন্য প্যান্টসির-S1M যুক্ত হলে গুরুত্বপূর্ণ এয়ার ডিফেন্স সম্পদকে আরও কাছ থেকে রক্ষা করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বিশেষ করে ছোট ড্রোন, লইটারিং মিউনিশন এবং তুলনামূলক কম খরচের আকাশপথের লক্ষ্যবস্তুর ক্ষেত্রে প্যান্টসির কার্যকর হতে পারে। কারণ এই ধরনের ছোট ও সস্তা লক্ষ্য ধ্বংস করতে অত্যন্ত দামি দীর্ঘ-পাল্লার মিসাইল ব্যবহার করা সবসময় অর্থনৈতিকভাবে যুক্তিযুক্ত নয়। মিসাইলের পাশাপাশি কামান ব্যবহারের সুবিধা থাকায় প্যান্টসির এই ধরনের হুমকি মোকাবিলায় আলাদা গুরুত্ব পেতে পারে।

BDL-এর জন্যও এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। সংস্থাটি ভারতের অন্যতম প্রধান গাইডেড অস্ত্র নির্মাতা। DRDO এবং বিদেশি মূল প্রযুক্তি সংস্থাগুলির সঙ্গে কাজ করে বিদেশি প্রযুক্তি গ্রহণ এবং দেশে উৎপাদনের অভিজ্ঞতাও BDL-এর রয়েছে।

ফলে ভারত সরকার প্যান্টসির কেনার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিলে, রাশিয়ার প্রযুক্তি এবং BDL-এর স্থানীয় উৎপাদন ক্ষমতার সমন্বয়ে ভারতে এই এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম তৈরির নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। এতে স্বল্প-পাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদারের পাশাপাশি দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদনও আরও এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More