Putin in India: ভারতে পা পুতিনের, আজ মোদীর সঙ্গে বৈঠকে পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান, ব্রহ্মোস আপগ্রেড নিয়ে হতে পারে কথা

ভারত-রাশিয়া বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান যৌথ ভাবে তৈরি করা। সূত্রের খবর, রাশিয়ার প্রযুক্তিগত সহযোগিতায় ভারত দেশে একটি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান তৈরির বিষয়ে আগ্রহী। রাশিয়া ইতিমধ্যেই পঞ্চম প্রজন্মের সু-৫৭ যুদ্ধবিমান তৈরি করেছে। 

Published on: Sep 11, 2026, 08:49:52 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

তিন দিনের সফরে শুক্রবার দিল্লিতে পৌঁছেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতেই তাঁর ভারত সফর। দিল্লি পৌঁছেই তাঁকে স্বাগত জানান বিদেশ প্রতিমন্ত্রী কীর্তিবর্ধন সিং। সফরের প্রথম দিনেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে পুতিনের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হওয়ার কথা। আর সেই বৈঠকেই প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে বড় সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে খবর।

তিন দিনের সফরে শুক্রবার দিল্লিতে পৌঁছেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। (via REUTERS)
তিন দিনের সফরে শুক্রবার দিল্লিতে পৌঁছেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। (via REUTERS)

পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান নিয়ে বড় আলোচনা

ভারত-রাশিয়া বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান যৌথ ভাবে তৈরি করা। সূত্রের খবর, রাশিয়ার প্রযুক্তিগত সহযোগিতায় ভারত দেশে একটি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান তৈরির বিষয়ে আগ্রহী। রাশিয়া ইতিমধ্যেই পঞ্চম প্রজন্মের সু-৫৭ যুদ্ধবিমান তৈরি করেছে। সেই যুদ্ধবিমান ভারতকে বিক্রির প্রস্তাবও মস্কোর তরফে রয়েছে।

তবে শুধু বিদেশ থেকে যুদ্ধবিমান কেনার বদলে এখন ভারতের লক্ষ্য দেশে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরি করা। সেই কারণেই যৌথ উৎপাদন এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের প্রস্তাবকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। রাশিয়ার পক্ষ থেকেও এই বিষয়ে নীতিগত ভাবে আগ্রহ দেখানো হয়েছে।

ব্রহ্মোসের মডেলে যৌথ উৎপাদন

এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ভারত-রাশিয়ার প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় নতুন অধ্যায় খুলতে পারে। সূত্রের খবর, ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্রের মডেল অনুসরণ করে যৌথ উদ্যোগে পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান তৈরির পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

ভারত ও রাশিয়া মিলে যে ভাবে ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করেছে, একই ধরনের যৌথ উদ্যোগ গড়ে তোলার সম্ভাবনা রয়েছে যুদ্ধবিমানের ক্ষেত্রেও। সেই ক্ষেত্রে বিমানটি সু-৫৭-এর ভিত্তিতে হতে পারে, আবার ভারতের প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন নকশাতেও তৈরি হতে পারে।

এর ফলে শুধু যুদ্ধবিমান কেনা নয়, তার প্রযুক্তি, উৎপাদন এবং রক্ষণাবেক্ষণেও ভারতের নিজস্ব সক্ষমতা বাড়বে। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার লক্ষ্যেও তা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

রাশিয়ার সঙ্গে শুধু ‘কেনাবেচা’ নয়

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভও সম্প্রতি জানিয়েছেন, ভারতের কাছে সু-৫৭ বিক্রির বিষয়টি রাশিয়ার আলোচ্যসূচিতে রয়েছে। তবে ভারত-রাশিয়ার সম্পর্ক শুধুমাত্র অস্ত্র কেনাবেচার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। যৌথ উৎপাদন এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রেও মস্কো সহযোগিতার দরজা খোলা রাখছে।

ভারতের জন্য এই বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ভবিষ্যতে যুদ্ধবিমান তৈরির ক্ষেত্রে বিদেশি প্রযুক্তিকে নিজেদের গবেষণা ও উৎপাদন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করতে চাইছে দিল্লি।

শুধু রাশিয়া নয়, খোলা থাকছে অন্য পথও

পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান তৈরির বিষয়ে ভারত শুধু রাশিয়ার উপর নির্ভর করছে না। ডিআরডিও-র এরোনটিক্যাল ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি দেশে নিজস্ব পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করছে। পাশাপাশি জাপান, ফ্রান্স-সহ আরও কয়েকটি দেশের সঙ্গেও সহযোগিতার সম্ভাবনা বিবেচনা করছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। অর্থাৎ রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনা চললেও শেষ সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। ভারত নিজের স্বার্থ এবং প্রযুক্তিগত সম্ভাবনা খতিয়ে দেখেই এগোতে চাইছে।

চিন সফরের আগে নজরে মোদী-শি বৈঠক

এদিকে শনিবার দিল্লিতে আসার কথা চিনের প্রেসিডেন্ট শি চিনফিংয়ের। ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে তাঁরও প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হতে পারে। ফলে একই সময়ে পুতিন এবং শি-র ভারতে উপস্থিতি কূটনৈতিক দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সব মিলিয়ে ব্রিকস সম্মেলনের মঞ্চের পাশাপাশি পুতিন-মোদী বৈঠক ভারতের প্রতিরক্ষা নীতির জন্যও বড় বার্তা দিতে পারে। পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান যদি ব্রহ্মোসের মতো যৌথ উদ্যোগে তৈরি করার পথে এগোয় ভারত-রাশিয়া, তা হলে দুই দেশের দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও নতুন উচ্চতায় পৌঁছতে পারে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More