বিজয়ী দলগুলোর জন্য অনুদান দ্বিগুণ!‘স্যামসাং সলভ ফর টুমরো’-এর পঞ্চম সংস্করণের চালুর ঘোষণা

শীর্ষ ৪টি দল আইআইটি দিল্লিতে ইনকিউবেশন পাবে, শীর্ষ ২০টি দল পাবে ২০ লক্ষ টাকা এবং শীর্ষ ৪০টি দল পাবে ৮ লক্ষ টাকা।১৪-২২ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের জন্য আবেদনপত্র ৭ই মে থেকে ৩রা জুলাই, ২০২৬ পর্যন্ত খোলা থাকবে।

Published on: May 12, 2026, 15:20:24 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

তাবড় ব্র্যান্ড স্যামসং ভারতে তাদের তিন দশক পার করে ফেলল! স্যামসাং তাদের ফ্ল্যাগশিপ উদ্ভাবন ও শিক্ষা কার্যক্রম ‘স্যামসাং সলভ ফর টুমরো’-এর পঞ্চম সংস্করণ চালুর ঘোষণা করেছে। এই কার্যক্রমটি ভারতের পরবর্তী প্রজন্মের তরুণ উদ্ভাবকদের বাস্তব জগতের চ্যালেঞ্জগুলোর জন্য প্রযুক্তি-চালিত সমাধান তৈরিতে ক্ষমতায়ন করার লক্ষ্যে ডিজাইন করা হয়েছে।

বিজয়ী দলগুলোর জন্য অনুদান দ্বিগুণ!‘স্যামসাং সলভ ফর টুমরো’-এর পঞ্চম সংস্করণ চালু
বিজয়ী দলগুলোর জন্য অনুদান দ্বিগুণ!‘স্যামসাং সলভ ফর টুমরো’-এর পঞ্চম সংস্করণ চালু

ভারতে স্যামসাং-এর ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে, সংস্থাটি এই কর্মসূচির পরিধি ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা উল্লেখযোগ্যভাবে প্রসারিত করছে, যা ভারতের উদ্ভাবনী পরিমণ্ডল এবং ডিজিটালইন্ডিয়া রূপকল্পের প্রতি তার দীর্ঘমেয়াদী অঙ্গীকারকে আরও শক্তিশালী করছে। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে, ২০২৬ সালের মরশুমে যে এডিশন আসছে (সংস্করণ), তার মধ্যে সেরা চার বিজয়ী দলকে ২ কোটি টাকার ইনকিউবেশন অনুদান প্রদান করা হবে, যার ফলে তারা আইআইটি দিল্লি-র মতো প্রতিষ্ঠানের থেকে সহায়তা পাবে, যার দ্বারা তারা নিজেদের ধারণাকে আরও উন্নত ও প্রসারিত করতে সক্ষম হবে। এছাড়াও, শীর্ষ ২০টি দল ২০ লক্ষ টাকা পাবে, এবং শীর্ষ ৪০টি দলকে ৮ লক্ষ টাকার পুরস্কারের পাশাপাশি স্যামসাং ডিভাইস ও মেন্টরশিপ সহায়তা প্রদান করা হবে। স্যামসং সাউথ ওয়েস্ট এশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও সিইও জেবি পার্ক বলেছেন, ‘স্যামসাং সলভ ফর টুমরো তরুণ উদ্ভাবকদের লালন এবং বাস্তব জগতের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় উঠতি স্টার্টআপগুলোর একটি ধারা তৈরি করার জন্য একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। ২০২৬ সংস্করণের মাধ্যমে, আমরা ভারতে উদ্ভাবনকে আরও গভীরে নিয়ে যাচ্ছি—স্কুলগুলোতে আমাদের কার্যক্রম দ্বিগুণেরও বেশি বাড়িয়ে এবং তরুণ পরিবর্তনকারীদের জন্য সুযোগ প্রসারিত করছি।’

এই বছরের কর্মসূচিতে ১৪ থেকে ২২ বছর বয়সী ছাত্রছাত্রীদের চারটি বিষয়—ভারতের জন্য এআই জীবনযাত্রা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা, পরিবেশগত স্থিতিশীলতা এবং খেলাধুলা ও প্রযুক্তি—এর অধীনে 'আইডিয়া' জমা দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, যা একটি স্মার্ট, আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত ভারত গড়তে প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান ভূমিকাকে প্রতিফলিত করে। ছয় মাসব্যাপী এই কর্মসূচিটি হাজার হাজার অংশগ্রহণকারীকে হাতে-কলমে প্রোটোটাইপিং সহায়তা, বিনিয়োগকারীদের সাথে সংযোগ, বিশেষজ্ঞ পরামর্শ, নিবিড় কর্মশালা এবং ব্যাপক প্রশিক্ষণের সুযোগ দেবে, যা ধারণাগুলোকে বাস্তবায়নযোগ্য সমাধানে রূপান্তরিত করতে সাহায্য করার জন্য তৈরি করা হয়েছে।

ভারতের প্রিন্সিপাল সায়ান্টিফিক অ্যাডভাইসার অজয় কুমার সুদ বলছেন,' তরুণ উদ্ভাবকদের এক নতুন প্রজন্ম ভারতকে গড়ে তুলছে, যারা সমগ্র বিশ্বের সমস্যার সমাধানেও ব্রতী। স্যামসাং সলভ ফর টুমরো-এর মাধ্যমে আমরা দেখি, প্রাথমিক পর্যায়ের ধারণাগুলোকে এমন কার্যকর সমাধানে পরিণত করা হচ্ছে, যেগুলোর পরিধি বিস্তারের সম্ভাবনা রয়েছে। এই ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যৎ উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবকদের ধারাকে শক্তিশালী করে।' প্রসঙ্গত, ২০১০ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম চালু হওয়া স্যামসাং সলভ ফর টুমরো এখন ৬৮টি দেশে চালু রয়েছে এবং ৩০ লক্ষেরও বেশি তরুণ-তরুণীকে এর সাথে যুক্ত করেছে।

আইআইটি দিল্লির ডিরেক্টর রঙ্গন বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন,' আমরা বিশ্বাস করি যে তরুণ শিক্ষার্থীরা স্থানীয়, আঞ্চলিক এবং বৈশ্বিক সমস্যাগুলোর উদ্ভাবনী সমাধান খুঁজে বের করতে পারে। স্যামসাং সলভ ফর টুমরো-এর সাথে আমাদের চলমান সহযোগিতা শিক্ষার্থীদের গভীর-প্রযুক্তিগত পরামর্শ, আন্তঃবিষয়ক গবেষণা এবং প্রোটোটাইপিং সহায়তা পেতে সক্ষম করে।' এদিকে, কেন্দ্রীয় সরকারের অন্যতম অফিসার স্বপ্না পতি বলছেন,'স্যামসাং সলভ ফর টুমরো-এর মতো প্ল্যাটফর্মগুলো তরুণদের জাতীয় অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বাস্তব জগতের চ্যালেঞ্জগুলো সমাধানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রয়োগে উৎসাহিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।'

আবেদন সংক্রান্ত বিশেষ তথ্য-

স্যামসাং সলভ ফর টুমরো ২০২৬-এর জন্য আবেদনপত্র ৭ই মে থেকে ৩রা জুলাই, ২০২৬ পর্যন্ত খোলা থাকবে। এই পর্যায়ে, অংশগ্রহণকারীদের মৌলিক সমস্যা সমাধান এবং ধারণা তৈরির দক্ষতায় সজ্জিত করার জন্য স্যামসাং দেশব্যাপী স্কুল ও কলেজগুলোতে ১০০টি ডিজাইন-থিংকিং কর্মশালার আয়োজন করবে। আবেদন পর্বের পর, প্রতিটি থিম থেকে ২৫টি করে সেরা ১০০টি দলকে বিশেষজ্ঞ-পরিচালিত অনলাইন প্রশিক্ষণ ও পরামর্শদানের জন্য সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্ত করা হবে। একটি ভিডিও পিচ রাউন্ডের পর, প্রতিটি থিম থেকে ১০টি করে মোট ৪০টি দল পরবর্তী পর্যায়ে যাবে।

সেমি-ফাইনালিস্টরা স্যামসাংয়ের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা ও শিল্প বিশেষজ্ঞদের সাথে নিবিড় মেন্টরিং সেশনে অংশগ্রহণ করবেন। এর পাশাপাশি, তাঁরা বেঙ্গালুরু, নয়ডা ও দিল্লিতে অবস্থিত স্যামসাংয়ের গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্র এবং প্রধান কার্যালয় পরিদর্শনের সুযোগ পাবেন, যা তাঁদের বিশ্বমানের উদ্ভাবনী ইকোসিস্টেম সম্পর্কে সরাসরি অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ করে দেবে। প্রতিটি থিম থেকে পাঁচটি করে সেরা ২০টি দল গ্র্যান্ড ফাইনালে উন্নীত হবে এবং স্যামসাং বিশেষজ্ঞদের সাথে বিনিয়োগকারী সভা, পিচ প্রেজেন্টেশন ও মেন্টরিং সেশনে অংশগ্রহণ করবে।

গ্রান্ট ও সহায়তা সম্পর্কীয় তথ্য-

শীর্ষ ১০০টি দল: পাবে কৃতিত্বের সনদপত্র

শীর্ষ ৪০টি দল: পাবে প্রত্যেক সদস্যের জন্য ৮ লক্ষ টাকা এবং স্যামসাং ল্যাপটপ

শীর্ষ ২০টি দল: পাবে প্রত্যেক সদস্যের জন্য ২০ লক্ষ টাকা এবং স্যামসাং গ্যালাক্সি জেড ফ্লিপ স্মার্টফোন

বিশেষ পুরস্কার: ডিজিটাল ইমপ্যাক্ট অ্যাওয়ার্ড এবং কমিউনিটি চয়েস অ্যাওয়ার্ড, যার সম্মিলিত পুরস্কারের পরিমাণ ২.৫ লক্ষ টাকা

শীর্ষ ৪টি বিজয়ী দল: পাবে আইআইটি দিল্লিতে ২ কোটি টাকার ইনকিউবেশন অনুদান।

  • Sritama Mitra
    ABOUT THE AUTHOR
    Sritama Mitra

    শ্রীতমা মিত্র হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন চিফ কনটেন্ট প্রোডিউসার। ২০২১ সাল থেকে তিনি এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত। জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক সংবাদের পাশাপাশি শ্রীতমার আগ্রহের জায়গা ক্রিকেট। এছাড়াও তিনি জ্যোতিষ বিভাগ দেখাশোনা করেন এবং জীবনযাপন সংক্রান্ত প্রতিবেদন লিখতেও তাঁর আগ্রহ রয়েছে। পেশাদার জীবন: পেশাদার জীবনের শুরুতে শ্রীতমা আকাশবাণী, শান্তিনিকেতনে উপস্থাপিকা হিসেবে কাজ করেছেন। ২০১০ সালে তিনি ইটিভি নিউজ বাংলায় কপি এডিটর হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ওয়ানইন্ডিয়া-সহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে কাজ করার পর তিনি হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগ দেন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: শ্রীতমা মিত্র ইংরেজিতে স্নাতক (বি.এ.) এবং বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়, শান্তিনিকেতন থেকে সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগে স্নাতকোত্তর (এম.এ.) ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: সাংবাদিকতার বাইরে শ্রীতমা একজন সাহিত্যপ্রেমী, ভ্রমণও তাঁর অন্যতম নেশা। ছুটির দুপুরগুলো তাঁর কাটে গল্পের বই নিয়ে। একটু লম্বা ছুটি পেলে তিনি দেশের ভিতর বা কখনও সখনও দেশের বাইরেও বেড়াতে যেতে ভালোবাসেন। তবে তাঁর প্রতিটা বেড়ানোর পিছনেই কাজ করে কোনও না কোনও বই বা সিনেমা থেকে তৈরি হওয়া কৌতূহল। অজানাকে জানার আগ্রহই তাঁকে বার বার নিয়ে গিয়ে ফেলে নানা অচেনা শহরে। সেই সব অভিজ্ঞতাকে লেখার রূপ দিতেও পিছপা হন না শ্রীতমা।Read More