Satwik-Chirag Win: চিনের মাটিতে বাজিমাত সাত্ত্বিক-চিরাগের! চিনা জুটির বিরুদ্ধে দুরন্ত প্রত্যাবর্তনে জিতল চিনা মাস্টার্স
ফাইনালের শুরুটা অবশ্য একেবারেই ভারতের পক্ষে ছিল না। প্রথম গেমে শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় চিনের জুটি। সাত্ত্বিক-চিরাগ একাধিক আনফোর্সড ভুল করায় তার পূর্ণ সুবিধা নেয় হে জি টিং ও রেন জিয়াং ইউ। দ্রুত ব্যবধান বাড়িয়ে চিনা জুটি একসময় ১৯-১০ এগিয়ে যায়।
Satwik-Chirag Win China Masters Final: চিনের মাটিতে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে চিনা মাস্টার্সের পুরুষ ডাবলস খেতাব জিতে নিলেন ভারতের সাত্ত্বিকসাইরাজ রাঙ্কিরেড্ডি ও চিরাগ শেট্টি। ফাইনালে চিনের হে জি টিং ও রেন জিয়াং ইউ-কে ১১-২১, ২১-১৩, ২১-১৭ ব্যবধানে হারিয়ে তৃতীয়বার ফাইনালে উঠে অবশেষে ট্রফির স্বাদ পেল ভারতীয় জুটি। প্রায় এক ঘণ্টা ১০ মিনিটের লড়াইয়ের পর এসেছে এই দুর্দান্ত জয়।

ফাইনালের শুরুটা অবশ্য একেবারেই ভারতের পক্ষে ছিল না। প্রথম গেমে শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় চিনের জুটি। সাত্ত্বিক-চিরাগ একাধিক আনফোর্সড ভুল করায় তার পূর্ণ সুবিধা নেয় হে জি টিং ও রেন জিয়াং ইউ। দ্রুত ব্যবধান বাড়িয়ে চিনা জুটি একসময় ১৯-১০ এগিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ২১-১১ ব্যবধানে প্রথম গেম জিতে নিয়ে ম্যাচে ১-০ এগিয়ে যায় তারা।
প্রথম গেমের ধাক্কা সামলে দ্বিতীয় গেমে সম্পূর্ণ অন্য রূপে দেখা যায় সাত্ত্বিক-চিরাগকে। শুরুতে ৩-৩ সমতা থাকলেও ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিতে শুরু করেন তাঁরা। ১০-৭ এগিয়ে যাওয়ার পর ভারতীয় জুটির আত্মবিশ্বাস আরও বাড়ে। দুরন্ত রক্ষণ এবং আক্রমণের মিশেলে চিনের জুটিকে চাপে রাখেন তাঁরা। একসময় ১৫-৮ ব্যবধানেও এগিয়ে যান সাত্ত্বিক ও চিরাগ। মাঝপথে চিনা জুটি টানা পাঁচ পয়েন্ট তুলে কিছুটা ফিরে এলেও ভারতীয়রা আর সুযোগ দেয়নি। শেষ পর্যন্ত ২১-১৩ ব্যবধানে দ্বিতীয় গেম জিতে ম্যাচ সমতায় ফেরেন তাঁরা।
ফলে ফাইনালের নিষ্পত্তি গড়ায় তৃতীয় ও নির্ণায়ক গেমে। সেখানেও শুরুটা ছিল চিনা জুটির পক্ষে। সাত্ত্বিক-চিরাগ একসময় ২-৪ পিছিয়ে পড়েন। এরপর ম্যাচ ক্রমশ হাড্ডাহাড্ডি হয়ে ওঠে। ৬-৭, ৯-১১ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেও লড়াই ছাড়েননি ভারতীয়রা। কিছু সাধারণ ভুলের কারণে একসময় চিনা জুটি ১৪-১১ এগিয়ে গিয়ে খেতাব জয়ের দৌড়ে এগিয়ে যায়।
কিন্তু এখানেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন সাত্ত্বিক-চিরাগ। দুর্দান্ত কয়েকটি র্যালির মাধ্যমে ১৬-১৬ সমতা ফেরান তাঁরা। এরপর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অসাধারণ সংযম দেখিয়ে ধীরে ধীরে এগিয়ে যান ভারতীয় জুটি। শেষ পর্যন্ত ২১-১৭ ব্যবধানে তৃতীয় গেম জিতে নিয়ে ফাইনাল নিজেদের নামে করে নেন সাত্ত্বিক ও চিরাগ।
এই জয় সাত্ত্বিক-চিরাগের কাছে বিশেষ তাৎপর্যের। এর আগে ২০২৩ এবং ২০২৫—দু’বার চিনা মাস্টার্সের ফাইনালে উঠেও রানার্স-আপ হয়েছিলেন তাঁরা। এবার তৃতীয়বার ফাইনালে এসে আর হতাশ হতে হয়নি। দীর্ঘ অপেক্ষার পর চিনের মাটিতেই প্রথম চিনা মাস্টার্স খেতাব জিতে নিল ভারতের তারকা জুটি।
চলতি মরসুমেও এটি সাত্ত্বিক-চিরাগের দ্বিতীয় শিরোপা। এর আগে সিঙ্গাপুর ওপেন সুপার ৭৫০ জিতেছেন তাঁরা। পাশাপাশি থাইল্যান্ড ওপেন সুপার ৫০০-এর ফাইনালেও উঠেছিলেন ভারতীয় জুটি। ফলে চিনা মাস্টার্সের সাফল্য তাঁদের দুর্দান্ত মরসুমকে আরও উজ্জ্বল করে তুলল।
ফাইনালের আগে সেমিফাইনালেও কঠিন লড়াই করতে হয়েছিল সাত্ত্বিক-চিরাগকে। মালয়েশিয়ার নুর মোহদ আজরিন ও তান উই কিয়ংকে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট পেয়েছিলেন তাঁরা। প্রথম গেম জেতার পর দ্বিতীয় গেমে হেরে গেলেও নির্ণায়ক গেমে দুরন্ত প্রত্যাবর্তন করে জয় নিশ্চিত করেন ভারতীয়রা।
সব মিলিয়ে চিনা মাস্টার্সের ফাইনালে সাত্ত্বিক-চিরাগের এই প্রত্যাবর্তন শুধু একটি ট্রফি জয় নয়, বরং বড় ম্যাচে চাপ সামলে ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতারও প্রমাণ। প্রথম গেমে ১০ পয়েন্টের ব্যবধানে হার থেকে শুরু করে তৃতীয় গেমে ১৪-১১ পিছিয়ে পড়া—সব বাধা পেরিয়ে শেষ হাসি হাসল ভারতীয় জুটি।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


