Sayoni Ghosh on Abhishek Banerjee: ‘ভেরি নাইস’, অভিষেকের চ্যালেঞ্জকে কটাক্ষ সায়নীর
অভিষেককে নিয়ে সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সায়নী ঘোষ বলেন, 'ভেরি নাইস অফ হিম'। এরপর তিনি বলেন, অভিষেক যা বলেছেন, তার ব্যাখ্যা তিনিই দিতে পারবেন। তিনি আরও জানান, পুরো বক্তব্য তিনি শোনেননি। তাই বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে চান না।
Sayoni Ghosh on Abhishek Banerjee: তৃণমূল কংগ্রেসে ভাঙনের আবহে রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হচ্ছে। এবার বিদ্রোহী নেতাদের উদ্দেশে কড়া চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, দল ছেড়ে যাঁরা বিদ্রোহী শিবিরে গিয়েছেন, তাঁরা যদি আবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে দলে ফিরে আসতে পারেন, তাহলে তিনি এক ঘণ্টার মধ্যেই নিজের পদ থেকে ইস্তফা দেবেন। অভিষেকের এই মন্তব্যকে ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক। এরই মধ্যে তাঁর বক্তব্য নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দেওয়া সাংসদ সায়নী ঘোষ।

সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের উত্তরে সায়নী ঘোষ সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, 'ভেরি নাইস অফ হিম'। এরপর তিনি বলেন, অভিষেক যা বলেছেন, তার ব্যাখ্যা তিনিই দিতে পারবেন। তিনি আরও জানান, পুরো বক্তব্য তিনি শোনেননি। তাই বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে চান না।
প্রসঙ্গত, সায়নী ঘোষ বর্তমানে বিদ্রোহী সাংসদদের সঙ্গে এনসিপিআই (ন্যাশনাল সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়া)-তে যোগ দিয়েছেন। একসময় তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত ছিলেন। তাই তাঁর এই প্রতিক্রিয়া রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
শনিবার এক দলীয় কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিদ্রোহী নেতাদের উদ্দেশে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। তিনি বলেন, যারা দল ছেড়ে চলে গিয়ে এখন তাঁর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করছেন, তাঁরা যদি আবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে ফিরে আসতে পারেন, তাহলে তিনি এক ঘণ্টার মধ্যে দলীয় পদ ছেড়ে দেবেন।
অভিষেকের অভিযোগ, বিদ্রোহী নেতারা বিজেপির সঙ্গে সমঝোতা করেছেন। তাঁর দাবি, দল ছেড়ে বিদ্রোহী শিবির বা বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরেই তাঁরা কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির কাছ থেকে সুরক্ষা পাচ্ছেন। এরপরই তাঁর বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে অভিযোগ তোলা হচ্ছে।
এদিন তদন্তকারী সংস্থার প্রসঙ্গও তোলেন অভিষেক। তিনি বলেন, যাঁরা ইডি, সিবিআই বা অন্য কোনও তদন্তকারী সংস্থার নোটিস পেলেই দল ছেড়ে চলে যান, তাঁদের উচিত তদন্তের মুখোমুখি হওয়া। যদি কোনও ভুল না করে থাকেন, তাহলে পালানোর প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নিজের উদাহরণ টেনে অভিষেক বলেন, তাঁকেও একাধিকবার সিআইডি-সহ বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থা ডেকেছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে। কিন্তু তিনি কখনও দল ছাড়েননি বা পিছিয়ে যাননি। তাঁর কথায়, জনগণের সমর্থনই তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি। তিনি শুধুমাত্র মানুষের কাছেই জবাবদিহি করতে বিশ্বাস করেন, অন্য কারও কাছে নয়।
অন্যদিকে, বিদ্রোহী শিবিরের নেতারাও অভিষেকের বক্তব্যকে কটাক্ষ করেছেন। বিধানসভায় বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মুখ্য সচেতক আখরুজ্জামান প্রশ্ন তুলেছেন, এই কথা বলতে অভিষেকের এতদিন সময় লাগল কেন। তাঁর দাবি, তাঁরা বারবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অনুরোধ করেছিলেন ভাতিজা ও দলীয় কর্মীদের মধ্যে একজনকে বেছে নিতে। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তে দেরি হওয়ায় আজ দল এই পরিস্থিতির মুখে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে বিজেপিও অভিষেকের মন্তব্যকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদারের দাবি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্যের কোনও বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। সব মিলিয়ে তৃণমূলের অন্দরের সংঘাত এবং বিদ্রোহী শিবিরের পাল্টা আক্রমণে রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়েছে।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


