Twisha Sharma Death Case: 'মৃত মেয়ের থেকে ডিভোর্স হওয়া মেয়ে অনেক ভালো...', সুপ্রিম কোর্টে ত্বিষা মামলা

Twisha Sharma Death Case: সোমবার শীর্ষ আদালতে প্রধান বিচারপতি সুর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি ও বিচারপতি বিপুল এম পঞ্চোলির বেঞ্চ মামলার শুনানিতে দু’পক্ষকেই স্পষ্ট সতর্ক করে দেন, 'সংবাদমাধ্যমের কাছে গিয়ে মন্তব্য করা বন্ধ করুন। তদন্ত সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা করুন।'

Published on: May 25, 2026, 12:50:47 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Twisha Sharma Death Case: মাত্র পাঁচ মাসের দাম্পত্য জীবন! গত ১২ মে শ্বশুরবাড়ি থেকে ফাঁস লাগানো অবস্থায় উদ্ধার হয় ত্বিষা শর্মার দেহ। তারপর থেকেই ত্বিষা শর্মার রহস্যমৃত্যু দেশজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ফেলে দিয়েছে। ইতিমধ্যে এই ঘটনায় সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। নয়ডার বাসিন্দা ত্বিষার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে পণের দাবিতে নির্যাতন ও মামলাকে প্রভাবিত করার অভিযোগ তুলছিলেন। শনিবার দেশের শীর্ষ আদালত স্বতঃপ্রণোদিতভাবে এই মামলাটি গ্রহণ করে। আর সোমবার সেই মামলার শুনানিতে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতার বলেন, 'মৃত কন্যার চেয়ে একজন ডিভোর্সি মেয়ে অনেক ভালো।'

ত্বিষার মৃত্যুতে নিরপেক্ষ-স্বচ্ছ তদন্তে জোর SCর
ত্বিষার মৃত্যুতে নিরপেক্ষ-স্বচ্ছ তদন্তে জোর SCর

সংবাদমাধ্যমের কাছে বিবৃতি নয়

মৃতার বাবা-মায়ের দাবি, ত্বিষার স্বামী সমর্থ সিং এবং শ্বশুরবাড়ির লোকজন প্রভাব খাটিয়ে তদন্তকে ভুল পথে চালানোর চেষ্টা করছেন। এই আবহেই সোমবার ত্বিষা-রহস্যমৃত্যু মামলার গুরুত্বপূর্ণ শুনানি হল দেশের শীর্ষ আদালতে। প্রধান বিচারপতি সুর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি ও বিচারপতি বিপুল এম পঞ্চোলির বেঞ্চ মামলার শুনানিতে দু’পক্ষকেই স্পষ্ট সতর্ক করে দেন, 'সংবাদমাধ্যমের কাছে গিয়ে মন্তব্য করা বন্ধ করুন। তদন্ত সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা করুন।' প্রধান বিচারপতি বলেন, 'সংবাদমাধ্যমের কারণে তদন্ত কিছুটা এগোল ঠিকই, কিন্তু কোনও পক্ষের বক্তব্যকে ‘সাউন্ড বাইট’ বানিয়ে একতরফা গল্প তৈরি করা ঠিক নয়।'

সিবিআই তদন্ত

শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, এই মামলার সঙ্গে যুক্ত সব পক্ষের উচিত, কেবল মাত্র তদন্তকারী সংস্থার কাছেই বক্তব্য পেশ করা। এদিন প্রধান বিচারপতি সুর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি বিপুল পাঞ্চোলির বেঞ্চ জানিয়েছে, মধ্যপ্রদেশ সরকার ঘটনার তদন্ত করতে সিবিআই-কে দায়িত্ব দিয়েছে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার উচিত, অবিলম্বে ওই ঘটনার তদন্তভার নেওয়া। এই প্রসঙ্গে প্রধান বিচারপতি বলেন, 'আমাদের বিশ্বাস, সিবিআই যথাযথ তদন্ত করবে।' আদালত আরও উল্লেখ করেছে যে, প্রাথমিক তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় বিচার বিভাগীয় হস্তক্ষেপের প্রয়োজন হয়েছিল। আদালত মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের গৃহীত পদক্ষেপগুলোর কথাও উল্লেখ করেছে, যার মধ্যে দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের বিষয়টিও রয়েছে।

এদিন মামলার শুনানিতে শীর্ষ আদালত পর্যবেক্ষণ করেছে, ঘটনার তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে সমাজে নিজের মতো করে একটি ন্যারেটিভ তৈরি হয়েছে। সেখানে বিচার প্রক্রিয়া ও তদন্তে দেরি হওয়ার মতো বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে, যা নিয়ে আদালত কিছুটা হলেও উদ্বিগ্ন। সেই কারণেই ওই তরুণীর মৃত্যুতে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা দায়ের করেছে সুপ্রিম কোর্ট।

প্রশাসনিক পদক্ষেপ

শুনানিতে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতে জানান, সিবিআই এই মামলার তদন্ত করবে এবং আজই (সোমবার) এই ব্যাপারে প্রশাসনিক পদক্ষেপ করা হবে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রদেশ সরকারের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বলেন, মৃত তরুণীর পরিবারের উচিত ছিল তাঁর অভিযোগগুলোতে আরও আগে গুরুত্ব দেওয়ার। শীর্ষ আদালতে ত্বিষা শর্মার মৃত্যুর নিয়ে আলোচনা করার সময় তিনি আরও বলেন, 'মৃত মেয়ের চেয়ে ডিভোর্সি মেয়েও অনেক ভালো।' এরমধ্যেই ত্বিষার পরিবারের আইনজীবী সিদ্ধার্থ লুথরা আদালতে জানান, ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত গিরিবালা সিং বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে মৃত তরুণীর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে এমন সব মন্তব্য করেছেন, যা মৃতের পক্ষে অসম্মানজনক। একই সঙ্গে ওই আইনজীবী জানান, মৃত্যুর তিন দিন পরে পুলিশ এফআইআর দায়ের করেছে। তদন্তকারীরা তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হয়েছে। মৃত তরুণীর শাশুড়ি তাঁর ফোনের কল ডিটেলস সর্বসমক্ষে প্রকাশ করেছেন, যা আদৌ সমর্থন যোগ্য নয়।

এদিকে, সলিসিটর জেনারেল আদালতে অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত মহিলা তদন্তে সহযোগিতা করছেন না। একই সঙ্গে তিনি জানান, মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের নির্দেশে ভোপালের এইমস-এ ওই তরুণীর দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত হয়েছে। পাশাপাশি অভিযুক্তদের পক্ষের আইনজীবী সিদ্ধার্থ ডাভে ত্বিষার মৃত্যু নিয়ে মিডিয়া কভারেজের প্রবল আপত্তি জানান। তিনি তাঁর সওয়ালে জানান, ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে যে গোপন জবানবন্দি দেওয়া হয়েছে, তা বিস্তারিত আকারে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে।