Bee hotels: মৌমাছিদের জন্য ২০০ হোটেল! ৩ বছর পর মিলল এমন ‘অতিথি’, যা বদলে দিল বিজ্ঞানটাই
Scientist built 200 hotels for bees: তিন বছর পর সেই হোটেলগুলোর ‘অতিথি’ বা বাসিন্দাদের খোঁজ করতে গিয়ে যে তথ্য সামনে এসেছে, তা জীববৈচিত্র্য (Biodiversity) এবং পরাগায়ন সংক্রান্ত আমাদের প্রচলিত ধারণাকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে।
Climate change and bee conservation: আমাদের চারপাশের বাস্তুতন্ত্র বা ইকোসিস্টেম টিকিয়ে রাখতে মৌমাছি এবং পরাগায়নকারীদের (Pollinators) ভূমিকা অপরিসীম। তবে বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তন এবং নগরায়নের কারণে আজ এই ছোট ছোট পতঙ্গদের বাসস্থান সংকটের মুখে। এই পরিস্থিতিতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতে এক অনন্য ও ব্যতিক্রমী পরীক্ষা চালিয়েছিলেন এক বিজ্ঞানী। তিনি মৌমাছিদের জন্য কৃত্রিমভাবে তৈরি করেছিলেন প্রায় ২০০টি ছোট্ট ‘হোটেল’ বা কৃত্রিম বাসা (Bee Hotels)।

এই পরীক্ষার তিন বছর পর সেই হোটেলগুলোর ‘অতিথি’ বা বাসিন্দাদের খোঁজ করতে গিয়ে যে তথ্য সামনে এসেছে, তা জীববৈচিত্র্য (Biodiversity) এবং পরাগায়ন সংক্রান্ত আমাদের প্রচলিত ধারণাকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে। বিজ্ঞানের এক চমৎকার ও অনুপ্রেরণামূলক আবিষ্কারের এই কাহিনি জেনে নিন।
শহরাঞ্চলে বা কৃত্রিম বাগানে মৌমাছিদের প্রজনন ও বংশবৃদ্ধির জন্য কাঠের ছোট ছোট টুকরো বা বাঁশের নল দিয়ে তৈরি বিশেষ বাক্সকে বলা হয় ‘বি হোটেল’ বা মৌমাছিদের হোটেল। এক বিজ্ঞানী পরিবেশের ক্ষতি পূরণ করতে এবং পরাগায়নকারীদের আচরণ বুঝতে এমন ২০০টি কাঠামো বিভিন্ন প্রাকৃতিক ও আধা-শহুরে এলাকায় স্থাপন করেছিলেন।
তিন বছর ধরে নিবিড় পর্যবেক্ষণ চালানোর পর যখন সেই হোটেলগুলোর ভেতরে থাকা বাসিন্দাদের ডিএনএ এবং প্রজাতিগত শুমারি করা হয়, তখন গবেষক দল এমন কিছু চমকপ্রদ তথ্য পান যা আগে কখনো নথিবদ্ধ করা হয়নি।
১. অচেনা পরাগায়নকারীদের আগমন ও নতুন অতিথির খোঁজ
বিজ্ঞানীরা ভেবেছিলেন এই হোটেলগুলোতে কেবল স্থানীয় পরিচিত কিছু মৌমাছিই এসে আশ্রয় নেবে। কিন্তু ৩ বছর পর দেখা যায়, সেখানে এমন কিছু বিরল পরিযায়ী মৌমাছি এবং অন্যান্য পরাগায়নকারী পতঙ্গরা এসে বাসা বেঁধেছে, যাদের ওই নির্দিষ্ট অঞ্চলে আগে কখনো দেখাই যায়নি। শুধু তাই নয়, মৌমাছিদের পাশাপাশি কিছু নির্দিষ্ট প্রজাতির উপকারী পোকা ও পরজীবীও এই হোটেলগুলোকে নিজেদের নিরাপদ প্রজনন ক্ষেত্র হিসেবে বেছে নিয়েছে। এই আবিষ্কার প্রমাণ করে যে, সঠিক কৃত্রিম উপায়েও প্রকৃতির বিপন্ন কীটপতঙ্গদের বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব।
২. পরাগায়ন ও জীববৈচিত্র্যের নতুন সমীকরণ
এই পরীক্ষার সবচেয়ে বড় বৈজ্ঞানিক সাফল্য হলো এটি দেখিয়ে দিয়েছে যে, পরাগায়ন বা উদ্ভিদের বংশবিস্তার প্রক্রিয়াটি আমরা যতটা সরল ভাবি, এটি আসলে তার চেয়ে অনেক বেশি জটিল। নতুন ধরণের এই অতিথিরা স্থানীয় গাছপালার পরাগায়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে, যা আগে বিজ্ঞানীদের জানা ছিল না। এই নতুন পরাগায়নকারীদের কারণে ওই ২০০টি হোটেলের আশেপাশের অঞ্চলের উদ্ভিদের বৈচিত্র্য এবং ফসলের ফলন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থাৎ, একটি ছোট পোকার বাসস্থান নিশ্চিত করলে তা পুরো অঞ্চলের সবুজায়নকে বদলে দিতে পারে।
৩. ২০২৬ সালের শহুরে পরিবেশ ও ‘বি হোটেল’-এর গুরুত্ব
বর্তমান ২০২৬ সালের আধুনিক এবং কংক্রিটের নগর সভ্যতায় দাঁড়িয়ে এই গবেষণাটি পরিবেশবিদদের এক নতুন দিশা দেখাচ্ছে। বড় বড় অট্টালিকা বা কারখানার কারণে মৌমাছিরা তাদের প্রাকৃতিক বাসা (যেমন গাছের কোটর বা মাটির গর্ত) হারাচ্ছে। বিজ্ঞানীর এই ২০০টি হোটেলের মডেল প্রমাণ করেছে যে, বাড়ির ছাদ, ব্যালকনি বা শহুরে পার্কে এই ধরণের ক্ষুদ্র হোটেল তৈরি করে খুব সহজেই শহরের বুকেও মৌমাছিদের ফিরিয়ে আনা সম্ভব এবং এর মাধ্যমে শহরের বিপন্ন জীববৈচিত্র্যকে রি-বুট (Reboot) বা পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব।
এক বিজ্ঞানীর সামান্য এক উদ্যোগ এবং ২০০টি ছোট কাঠের বাক্স যে বিজ্ঞানের ইতিহাসে পরাগায়ন ও জীববৈচিত্র্যের এক নতুন অধ্যায় তৈরি করবে, তা সত্যিই ভাবা যায়নি। এই পরিবেশবান্ধব পরীক্ষাটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, পৃথিবীর সমস্ত বড় বড় পরিবর্তন আসলে ছোট ছোট কিছু পদক্ষেপের মাধ্যমেই শুরু হয়। প্রকৃতির এই ক্ষুদ্রতম বন্ধুদের বাঁচিয়ে রাখতে আমাদের প্রত্যেকেরই উচিত নিজেদের মতো করে এগিয়ে আসা।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


