ঐতিহ্য মেনে গুরুভায়ুর মন্দিরে বিয়ে! ভারতীয় সঙ্গীর স্বপ্ন পূরণ করলেন স্কটিশ MP

Scottish Politician Marries Kerala-Born Wife: এর্নাকুলাম জেলার পিরাভমের বাসিন্দা নিধিনের দীর্ঘদিনের ইচ্ছা ছিল কেরলের মাটিতে ঐতিহ্য মেনে বিয়ে করার। মঙ্গলবার গুরুভায়ুর মন্দির সংলগ্ন একটি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এই বিয়েতে উপস্থিত ছিলেন বর-কনে উভয়ের পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্য ও বিশিষ্ট বন্ধুরা।

Published on: Aug 20, 2026, 14:07:12 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Scottish Politician Marries Kerala-Born Wife: ভালোবাসা যে ভৌগোলিক সীমানা ও সংস্কৃতির ভেদাভেদ মানে না, তারই এক অনন্য দৃষ্টান্ত দেখা গেল কেরলে। সেখানকার বিখ্যাত গুরুভায়ুর শ্রীকৃষ্ণ মন্দিরে সনাতন প্রথা মেনে নিজের কেরলবাসী সঙ্গী নিধিন চন্দের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেন স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টির (SNP) শীর্ষ নেতা তথা স্কটিশ পার্লামেন্ট সদস্য মার্টিন ডে।

ভারতীয় সঙ্গীর স্বপ্ন পূরণ করলেন স্কটিশ MP (সৌজন্যে ইনস্টাগ্রাম)
ভারতীয় সঙ্গীর স্বপ্ন পূরণ করলেন স্কটিশ MP (সৌজন্যে ইনস্টাগ্রাম)

এর্নাকুলাম জেলার পিরাভমের বাসিন্দা নিধিনের দীর্ঘদিনের ইচ্ছা ছিল কেরলের মাটিতে ঐতিহ্য মেনে বিয়ে করার। মঙ্গলবার গুরুভায়ুর মন্দির সংলগ্ন একটি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এই ধর্মীয় আচার ও বিয়েতে উপস্থিত ছিলেন বর-কনে উভয়ের পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্য ও বিশিষ্ট বন্ধুরা। বিয়ে শেষে ঐতিহ্যবাহী কেরল পোশাকে নিজেদের ছবি ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেছেন স্কটিশ সাংসদ মার্টিন, যা ইতিমধেই নেটদুনিয়ায় ভাইরাল। সংবাদ সংস্থা পিটিআই-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই যুগল ২০১৬ সালেই ব্রিটেনেই (UK) আইনি বিয়ে সেরেছিলেন। তবে গুরুভায়ুর মন্দিরে সনাতন রীতি মেনে বিয়ের আচার সম্পূর্ণ করার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল নিধিনের। ২০১৮ সালের ভয়াবহ কেরল বন্যা এবং পরবর্তীতে করোনা মহামারীর কারণে গত কয়েক বছর ধরে এই পরিকল্পনা পিছিয়ে দিতে হয় তাঁদের। অবশেষে সমস্ত বাধা পেরিয়ে কেরলে এসে সেই স্বপ্ন পূরণ করলেন মার্টিন-নিধিন।

কে এই মার্টিন ডে?

৫৫ বছর বয়সি মার্টিন ডে হলেন স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টির (SNP) একজন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, যিনি স্থানীয় ও জাতীয় উভয় স্তরেই দীর্ঘদিন লিনলিথগো এলাকার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৯৯ সালে তিনি প্রথম ওয়েস্ট লোথিয়ান কাউন্সিলে নির্বাচিত হন এবং পরবর্তীতে ২০১৫ সালে লিনলিথগো অ্যান্ড ইস্ট ফলকার্কের সাংসদ (MP) হিসেবে ব্রিটেনের হাউস অব কমন্সে প্রবেশ করেন। ২০২৪ সাল পর্যন্ত সাংসদ হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি এসএনপি-র ফ্রন্টবেঞ্চে স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষা বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও সামলেছেন।

এরপর ২০২৬ সালের স্কটিশ পার্লামেন্ট নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি ফলকার্ক ইস্ট অ্যান্ড লিনলিথগোর সদস্য (MSP) হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি স্কটিশ পার্লামেন্টের জলবায়ু অ্যাকশন কমিটি এবং অর্থনীতি, পর্যটন ও জ্বালানি কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। রাজনীতিতে আসার আগে তিনি ব্যাঙ্কিং ক্ষেত্রে কর্মরত ছিলেন এবং ওয়েস্ট লোথিয়ানের স্থানীয় প্রশাসনে যুক্ত ছিলেন।

কে এই নিধিন চন্দ?

কেরলের এর্নাকুলাম জেলার পিরাভম এলাকার বাসিন্দা নিধিন চন্দ ২০০৮ সালের নভেম্বরে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে ব্রিটেনে পাড়ি দেন। সেখানে তিনি আইটি ম্যানেজমেন্টে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। তিনি অবসরপ্রাপ্ত ভেটেরিনারি অফিসার কে এন চন্দ্রন এবং পম্পাকুদা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন সদস্যা রাজম্মার কন্যা। ব্রিটেনে পিএইচডি করার সময় নতুন অভিবাসন নিয়মের কারণে হাজার হাজার আন্তর্জাতিক পড়ুয়ার স্টুডেন্ট ভিসা বাতিল হয়ে যায়, যার মধ্যে নিধিনও ছিলেন। তবে দেশে ফিরে না গিয়ে নিধিন বিষয়টি নিয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে জোরালো সওয়াল করেন এবং বিভিন্ন সংসদীয় কমিটির সামনে ভারতীয় পড়ুয়াদের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন। সেখানেই লিনলিথগো অ্যান্ড ইস্ট ফলকার্কের তৎকালীন সাংসদ মার্টিন ডের সঙ্গে তাঁর প্রথম পরিচয় হয়।

পরবর্তীতে ২০১৬ সালের মে মাসে মার্টিনের বিয়ের প্রস্তাবে সম্মতি জানান নিধিন এবং ওই বছরই তাঁরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। প্রথম পক্ষের বিবাহ বিচ্ছেদ এবং ১২ বছরের এক পুত্রসন্তান থাকার কথা নিধিন জানালে মার্টিন সানন্দে তাঁদের দু'জনকে আপন করে নেন। এমনকী নিজের বাবা-মা মার্গারেট ও রন ডের সঙ্গেও নিধিনের পরিচয় করিয়ে দেন তিনি। সেই সময় নিধিনের ভিসা ও চাকরির অনিশ্চয়তা থাকা সত্ত্বেও মার্টিনের পরিবার তাঁকে অত্যন্ত স্নেহের সঙ্গে সাদরে গ্রহণ করে।