US Citizens Infiltration Bid: নেপাল সীমান্তে অনুপ্রবেশের চেষ্টা খলিস্তানি-সহ মার্কিন নাগরিকের, ধরে ফেলল নিরাপত্তা বাহিনী

দু'জনকে উত্তরপ্রদেশের বাহরাইচ জেলার রুপাইডিহা সীমান্ত চৌকি দিয়ে ভারতে ঢোকার সময় আটক করা হয়। তাঁদের সঙ্গে আরও তিন ভারতীয় নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের নাম সুরেশ কুমার পাঠক, দিলীপ উপাধ্যায় এবং গাড়িচালক রাহুল কুমার।

Published on: Jul 24, 2026, 13:02:19 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

উত্তরপ্রদেশের নেপাল সীমান্তে বড়সড় সাফল্য পেল নিরাপত্তা বাহিনী। নেপাল হয়ে ভারতে অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টা ভেস্তে দিয়ে খালিস্তানপন্থী সংগঠন ‘ওয়ারিস পঞ্জাব দে’-র এক ওয়ান্টেড সদস্য এবং সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত এক মার্কিন নাগরিক-সহ মোট পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যৌথ অভিযানে অংশ নেয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (এসএসবি) এবং উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। এই ঘটনাকে ঘিরে সীমান্ত নিরাপত্তা এবং সম্ভাব্য জঙ্গি নেটওয়ার্ক নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ধৃতদের নাম সুরেশ কুমার পাঠক, দিলীপ উপাধ্যায় এবং গাড়িচালক রাহুল কুমার।
ধৃতদের নাম সুরেশ কুমার পাঠক, দিলীপ উপাধ্যায় এবং গাড়িচালক রাহুল কুমার।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রেফতার হওয়া দু'জনের নাম বিক্রমজিৎ সিং এবং মনবীর সিং ধিলোঁ। বিক্রমজিৎ সিং ২০২৩ সালে পঞ্জাবের একটি থানায় হামলার মামলায় অভিযুক্ত এবং দীর্ঘদিন ধরে পঞ্জাব পুলিশের ওয়ান্টেড তালিকায় ছিলেন। অন্যদিকে, মনবীর সিং ধিলোঁ মার্কিন নাগরিক হলেও তাঁর আদি বাড়ি পঞ্জাবের মোগা জেলায়। তদন্তকারীদের দাবি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতে তিনি বৈধ ভিসা ছাড়াই নেপাল হয়ে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করেছিলেন।

দু'জনকে উত্তরপ্রদেশের বাহরাইচ জেলার রুপাইডিহা সীমান্ত চৌকি দিয়ে ভারতে ঢোকার সময় আটক করা হয়। তাঁদের সঙ্গে আরও তিন ভারতীয় নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের নাম সুরেশ কুমার পাঠক, দিলীপ উপাধ্যায় এবং গাড়িচালক রাহুল কুমার। অভিযোগ, এই তিনজন অবৈধভাবে সীমান্ত পার করিয়ে বিক্রমজিৎ ও মনবীরকে ভারতের ভিতরে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করছিলেন।

বাহরাইচের পুলিশ সুপার বিশ্বজিৎ শ্রীবাস্তব জানান, এসএসবি এবং উত্তরপ্রদেশ পুলিশের যৌথ অভিযানে পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে দু'জন বৈধ নথিপত্র ছাড়াই সীমান্ত অতিক্রম করছিলেন। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাঁদের পরিচয় এবং খালিস্তানপন্থী সংগঠন ‘ওয়ারিস পঞ্জাব দে’-র সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি সামনে আসে।

পুলিশ জানিয়েছে, বিক্রমজিৎ সিং দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন এবং পঞ্জাব পুলিশ তাঁর খোঁজ চালাচ্ছিল। মনবীর সিং ধিলোঁর বিরুদ্ধেও পৃথক মামলায় তদন্ত চলছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে রুপাইডিহা থানায় বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁদের সম্ভাব্য সহযোগী, যোগাযোগের নেটওয়ার্ক এবং ভারতে প্রবেশের উদ্দেশ্য কী ছিল, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি।

উল্লেখ্য, ‘ওয়ারিস পঞ্জাব দে’ সংগঠনটি ২০২১ সালে প্রয়াত অভিনেতা ও সমাজকর্মী দীপ সিধু প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। পরবর্তীকালে সংগঠনটি পঞ্জাবের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক পরিসরে আলোচনায় উঠে আসে এবং এর একাধিক সদস্যকে ঘিরে বিভিন্ন বিতর্ক ও আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত ঘটনা সামনে এসেছে।

প্রসঙ্গত, কয়েকদিন আগেই উত্তরপ্রদেশের মহারাজগঞ্জ জেলায় নেপাল সীমান্তে বৈধ নথি ছাড়াই সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা করার সময় নিজেকে মার্কিন নাগরিক বলে দাবি করা জর্ডান ব্রাউন নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছিল এসএসবি। পরপর এমন দুটি ঘটনার পর নেপাল সীমান্তে নজরদারি আরও জোরদার করেছে নিরাপত্তা বাহিনী।

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত-নেপাল উন্মুক্ত সীমান্তকে কাজে লাগিয়ে অপরাধী বা সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের অনুপ্রবেশের চেষ্টা নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলি প্রমাণ করছে, সীমান্তে গোয়েন্দা নজরদারি এবং যৌথ অভিযান আরও শক্তিশালী হওয়ায় এমন চক্রান্ত দ্রুত ব্যর্থ হচ্ছে। এখন ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তাঁদের সম্ভাব্য যোগাযোগ, আর্থিক লেনদেন এবং বৃহত্তর নেটওয়ার্কের সন্ধানেই জোর দিয়েছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More