Indian Stock Market Crash: রক্তস্নাত দালাল স্ট্রিট! যুদ্ধের দামামায় হুড়মুড়িয়ে পড়ল সেনসেক্স, মাথায় হাত ট্রেডারদের
Indian Stock Market Crash: শেয়ার বাজারে এই আতঙ্কের ফলে বিনিয়োগকারীদের কষ্টার্জিত অর্থের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তথ্য থেকে দেখা যায়, বিএসই-তে তালিকাভুক্ত সমস্ত কোম্পানির মোট বাজার মূলধন, যা ৫ জুন প্রায় ৪৬১.১০ লক্ষ কোটি টাকা ছিল, আজ বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গেই তা কমে ৪৫৯.৪৪ লক্ষ কোটি টাকায় নেমে এসেছে।
Indian Stock Market Crash: সপ্তাহের শুরুতেই বড় ধাক্কা দালাল স্ট্রিটে। পশ্চিম এশিয়ার নতুন সংঘাত, ক্রুড অয়েলের দাম বৃদ্ধি এবং বিশ্ব বাজারে ঝুঁকিবিমুখ মনোভাবের জেরে সোমবার বড় চাপের মুখে পড়েছে দেশের শেয়ার বাজার। আর সেনসেক্স ও নিফটির তীব্র পতনে লগ্নিকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। ইতিমধ্যে বিএসই-তে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর বাজার মূলধন ৪ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি কমে গিয়েছে।

সপ্তাহের প্রথম দিনেই শেয়ার বাজারে একটি উল্লেখযোগ্য পতন দেখা যাচ্ছে। সোমবার বাজার খুলেই সেনসেক্স পড়েছিল ৮২১ পয়েন্ট বা ১.১১ শতাংশ। এর জেরে ৭৩,৪২১ পয়েন্টে নেমেছিল বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের বেঞ্চমার্ক ইনডেক্স।১.১৪ শতাংশ পতনের জেরে নিফটি৫০ নেমে যায় ২৩,১০০ পয়েন্টের নীচে। শেয়ার বাজারে এই আতঙ্কের ফলে বিনিয়োগকারীদের কষ্টার্জিত অর্থের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তথ্য থেকে দেখা যায় যে, বিএসই-তে তালিকাভুক্ত সমস্ত কোম্পানির মোট বাজার মূলধন, যা ৫ জুন প্রায় ৪৬১.১০ লক্ষ কোটি টাকা ছিল, আজ বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গেই তা কমে ৪৫৯.৪৪ লক্ষ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। এক ধাক্কাতেই বিনিয়োগকারীদের মূলধনের ৪.৪২ লক্ষ কোটি টাকার একটি বড় ক্ষতি হয়েছে। সেনসেক্সের অবস্থা এর থেকেই বোঝা যায় যে এর শীর্ষ ৩০টি স্টকের বেশিরভাগই লোকসানে লেনদেন হচ্ছে।
মিড ক্যাপ ও স্মল ক্যাপ দুই ধরনের ইনডেক্সই ডাউন রয়েছে। তবে স্মল ক্যাপে পতনের অঙ্ক বেশি। অধিকাংশ সেক্টরাল ইনডেক্সের গ্রাফই লাল। এই ব্যাপক বাজার বিক্রির চাপের মধ্যে বিনিয়োগের ধারা পুরোপুরি বদলে গিয়েছে। বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ খাত থেকে তাদের টাকা তুলে নিয়ে নিরাপদ খাতে বিনিয়োগ করছেন। এ কারণেই ফার্মাসিউটিক্যাল এবং আইটি খাতের নির্বাচিত কিছু স্টকে সামান্য ক্রয় দেখা গিয়েছে। সান ফার্মা, টেক মাহিন্দ্রা এবং ডঃ রেড্ডি'স-এর মতো স্টকগুলিতে সামান্য লাভ দেখা গিয়েছে, যা এই কঠিন সময়ে বিনিয়োগকারীদের সমর্থন জুগিয়েছে। অন্যদিকে, অটো, মেটাল, ফিনান্স এবং রিয়েল এস্টেটের মতো খাতগুলি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উইপ্রো, হিন্দালকো, ইন্ডিগো এবং টাটা মোটরস ডিভিআর-এর মতো প্রধান স্টকগুলিতে ২ থেকে ৩ শতাংশ পতন দেখা গিয়েছে। বাজাজ ফিনান্সের বিনিয়োগকারীরাও আজ একটি বড় ধাক্কা খেয়েছেন, স্টকটির দর ২ শতাংশের বেশি কমে গিয়েছে।
কেন পড়ছে শেয়ারবাজার?
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, হঠাৎ করেই ইজরায়েল এবং ইরানের মধ্যে উত্তপ্ত হয়েছে পরিস্থিতি। যুদ্ধ যুদ্ধ গন্ধ উড়ছে মধ্যপ্রাচ্যে। আর এমন পরিস্থিতিতে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়তে শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক মার্কেটে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেলে ৯৬ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছে। অন্যদিকে, ডব্লুটিআই ক্রুড তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৯৪ ডলারের গণ্ডি ছাড়িয়েছে। আর এমন পরিস্থিতিতেই সেনসেক্স এবং নিফটির হাল খারাপ হয়ে গিয়েছে। আসলে নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের অর্থ হল হরমুজ প্রণালীতে টানাপোড়েন বৃদ্ধি। এই সমুদ্রপথ থেকে আসতে পারবে না তেল এবং এলপিজি। আর সেই কারণে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ছে। এদিকে তলিয়ে যাচ্ছে সেনসেক্স এবং নিফটি।
বিশ্ব বাজারে ঝড়
জাপানের নিক্কেই, দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি এবং হংকংয়ের হ্যাং সেং-সহ একাধিক এশীয় সূচক সোমবার বড় পতনের মুখে পড়েছে। তার আগে ওয়াল স্ট্রিটেও দুর্বলতা দেখা গিয়েছিল। বিশ্ব বাজারের এই নেতিবাচক প্রবণতা ভারতীয় বাজারেও ছড়িয়ে পড়ে।
E-Paper

