Super El Nino Impact: 'পৃথিবীর প্রায় পুরোটাই লাল!' 'সুপার-ডুপার এল নিনো' নিয়ে চরম সতর্কবার্তা রাষ্ট্রসংঘের

Super El Nino Impact: ওয়ার্ল্ড মেটিওরোলজিক্যাল অর্গানাইজেশন' তাদের পূর্বাভাসে বলেছে যে, ২০২৬ সালের শেষ মাসগুলোতে বিশ্বের বিশাল অংশে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

Published on: Oct 8, 2026, 22:01:03 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

Super El Nino Impact: আবারও এল নিনো নিয়ে সতর্কবার্তা দিচ্ছেন আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা। রাষ্ট্রসংঘ জানিয়েছে, এবারের এই আবহাওয়া পরিস্থিতি ১৯৫০ সালের পর থেকে দেখা সবচেয়ে শক্তিশালী ঘটনাগুলোর একটি হতে পারে। রাষ্ট্রসংঘের আবহাওয়া ও জলবায়ু বিষয়ক সংস্থা 'ওয়ার্ল্ড মেটিওরোলজিক্যাল অর্গানাইজেশন' বলেছে, এল নিনো মানুষের তৈরি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবকে আরও বাড়িয়ে তুলবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রশান্ত মহাসাগর বিপুল পরিমাণ সঞ্চিত তাপ নির্গত হওয়ার ফলে পৃথিবীর বিশাল একটি অংশে অস্বাভাবিক উষ্ণ আবহাওয়া দেখা দেবে।

'সুপার-ডুপার এল নিনো' নিয়ে চরম সতর্কবার্তা রাষ্ট্রসংঘের (সৌজন্যে এক্স )
'সুপার-ডুপার এল নিনো' নিয়ে চরম সতর্কবার্তা রাষ্ট্রসংঘের (সৌজন্যে এক্স )

আবহাওয়াবিদ রায়ান মাউ পুরো পৃথিবীর একটি জলবায়ু মানচিত্র প্রকাশ করে বলেছেন, পৃথিবী প্রায় পুরোটাই লাল রঙে (উষ্ণতার নির্দেশক) ছেয়ে গিয়েছে। তিনি 'এক্স' হ্যান্ডেলে লিখেছেন, 'শীতকালজুড়ে এল নিনো তার 'সর্বোচ্চ শক্তি' নিয়ে সক্রিয় থাকবে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া পৃথিবীর সর্বত্রই তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাবে।' তিনি 'ওয়ার্ল্ড মেটিওরোলজিক্যাল অর্গানাইজেশন' (WMO)-এর এই মূল্যায়নের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন যে, এল নিনোর প্রভাব ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থায়ী হবে। আরেকজন জলবায়ু বিজ্ঞানী জিক হাউসফাদার এক্স পোস্টে বলেছেন, 'এবারের এল নিনো এমন এক পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে যা আগে কখনও দেখা যায়নি। 'নিনো ৩.৪' অঞ্চলে তাপমাত্রার বিচ্যুতি এখন স্বাভাবিকের চেয়ে ৩.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি। যা রেকর্ড করা যেকোনও পূর্ববর্তী এল নিনো ঘটনার চেয়েও বেশি।' আবহাওয়াবিদ লিওন সাইমনস এই আবহাওয়া পরিস্থিতিকে 'সুপার-ডুপার এল নিনো' বলে অভিহিত করেছেন।

ওয়ার্ল্ড মেটিওরোলজিক্যাল অর্গানাইজেশন' তাদের পূর্বাভাসে বলেছে যে, ২০২৬ সালের শেষ মাসগুলোতে বিশ্বের বিশাল অংশে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, এল নিনো ঘটনার কেন্দ্রস্থল হিসেবে পরিচিত মধ্য ও পূর্ব গ্রীষ্মমণ্ডলীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে স্বাভাবিকের চেয়ে রেকর্ড ৩.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৬.৭ ডিগ্রি ফারেনহাইট) পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এল নিনো হল প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট 'এল নিনো-সাউদার্ন অসিলেশন' চক্রের উষ্ণ পর্যায়। এটি এমন একটি জলবায়ু বিন্যাস যা বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ার ওপর প্রভাব ফেলে। এটি সাধারণত বৈশ্বব্যাপী তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং বিশাল অঞ্চলজুড়ে বৃষ্টিপাতের স্বাভাবিক ছন্দে ব্যাঘাত ঘটায়। যার ফলে কোনও এলাকায় খরা এবং অন্য এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। সাধারণত প্রতি দুই থেকে সাত বছরের ব্যবধানে এই ঘটনাটি ঘটে থাকে। শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাব’-এর গবেষকরা গত মাসে পূর্বাভাস দিয়েছেন যে, এ বছরের ‘সুপার-এল নিনো’-র প্রভাবে জুন মাস থেকে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে অতিরিক্ত ৪ লক্ষ ৫১ হাজার মানুষের মৃত্যু হতে পারে।